বিষাদপুরাণ সোহরাব হাসান বিষাদ আমার প্রিয় সখা, বিষাদ ঘোরতর আততায়ী আমি যতই তাকে ছাড়াতে চাই, কিছুতে সে ছাড়ে না। কখনও প্রাক্তন প্রেমিকার মতো বিষাদ আমাকে ডাকে কখনও কর্কট ব্যাধির মতো
লোকটা মারা যাবার পর তার ঘরের পাশেই একটা কবর খুঁজে পেয়েছিল গ্রামের লোকজন। ঠিক কবর নয়, মানুষের মাপে খোঁড়া নয়, আর স্বাভাবিক কবরের চেয়ে গভীরতা কিছুটা কম, তবু একজন মানুষের
চাঁদের কুহকী আলোটাই আজ সন্ধ্যায় তাদের চন্দ্রাহত করেছে। ওরা শহর থেকে গ্রামে আসে কেবল চাঁদ দেখতে। পাগল কাকে বলে! শুদ্ধা বলল, পাগলামির কী আছে? তোমার কি মনে নেই ভাটি বাংলার
খুনের নৃশংসতায় আঁতকে উঠি যখন-তখন খুন করে খুনি হিরো হয়ে যায়। পুলকিত খুনি বীরদর্পে চলে যায় নিরাপদ আশ্রমে, অতঃপর সীমান্তে হাইতোলে ঘুমন্ত প্রহরী। রাক্ষসের রঙমহল ষড়যন্ত্রের নীলনকশা আঁকে সীমান্তের শকুন
রেজাউদ্দিন স্টালিন অবহেলায় পড়ে থাকা কফি কাপ আমাকে নাড়িয়ে দিলো তা শুধু স্মৃতি নয় বরং এমন গল্প যা ফুরায় না কোনোদিন – আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম এতো নি:সঙ্গ পড়ে আছো
– মহাদেব সাহা—কী সুন্দর অন্ধ চারজন দেবদূত এসে ঘিরে আছে একটি কফিন একজন বললো দেখো ভিতরে রঙিন রক্তমাখা জামা ছিলো হয়ে গেছে ফুল চোখ দুটি মেঘে মেঘে ব্যথিত বকুল! চারজন
হৃদকুয়াসায় ভরা বিকেল, আবির মাখা আকাশ। উত্তরমুখী কোমল হীমের বাতাস। অতিথি পাখির সমাগম, কতোনা বুনো হাসঁ। পাতা ঝরা উলঙ্গ গাছ, নদীর তীরে- কাশ ফুলের কোমর দোলানো নাচ। গৃহমুখী শঙ্খচিলের ঝাক।
আমি পিএইচডি করছি আমেরিকায়। যে প্রফেসরের অধীনে কাজ করছি, তার নাম ড. মরিয়ম কুর্দি। তার মা-বাবা কর্দিস্তান থেকে আমেরিকায় চলে আসেন তিনি ছোট থাকতেই। তবে তিনি ধর্মীয় ও ঐতিহ্যগত মূল্যবোধ
বাংলার হাজার বছরের অগ্রযাত্রায় সঙ্গী হয়েছে তার নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্পসাহিত্য। পুঁথিসাহিত্যও তার ব্যতিক্রম নয়। সাহিত্যের প্রাচীন ও সমৃদ্ধ শাখা ‘পুঁথি’– আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনবদ্য অংশবিশেষ।
আমার আনন্দ আমার আনন্দ যেখানে যেখানে আছে তুমিও আছো সেখানে সেখানে এই যে ডানা মেলা রোদের সকাল, খুব ভালোবাসি! ‘সুপ্রভাত’ বলে ওড়াই আকাশে রোজ শান্তির পায়রা ভোরের নদীটি যখন চোখ তুলে ডাকে আমি তখন সাঁতারের গল্পে খুঁজি প্রিয় ছেলেবেলা বৃক্ষের সবুজে যে মায়া লুকিয়ে আছে সফেদ বক্ষবন্ধনী তার কিছুই জানে না! এই যে শস্যভারানত মাঠ গমকে গমকে যৌবনকে সত্যি করে তোলে! আমার আনন্দ যেখানে যেখানে আছে তুমিও আছো সেখানে সেখানে এই যে ভাঁট-গুল্মে ঝুলে থাকা কর্ণকুসুম তোমাকে মানাবে বেশ! হাত বাড়াও, অনামিকা হেসে ওঠে রোদের ঝিলিকে গোপন ঘুঙুরে বাজে আলতারাঙা পা কী দীঘল কেশ ছড়িয়ে পড়ে ধূসর দিগন্তে এই যে জ্যোৎস্নাগলা রাত, ভালোবাসি, ভালোবাসি মৎস্য যেমন ভুল লাফে ডাঙায় ওঠে তড়পায় তোমার সৌন্দর্যে আমিও গুনি ভুলের মাশুল! আমার আনন্দ যেখানে যেখানে আছে তুমিও আছো সেখানে সেখানে এই যে হেমন্তের ফসলতোলা মাঠ শূন্যতার চিত্রকল্পে কাকে দূরে ঠেলে দেয়! শরতের কাশের গুচ্ছে খেলা করে মৃত্যুলেখা তবু আমি খুঁজে ফিরি প্রান্তরের ডাক ইলিশা ঘাটে যদি জাহাজের ভেঁপু বেজে ওঠে তবে আমি প্রেমের তীর্থগামী যাত্রী! জীবন-জীবন বলে গান ধরি মহামিলনের