১৭টি আসরের মধ্যে দুটি বাদে বাকি সব ক’টি এশিয়া কাপেই অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। তিনবার শিরোপার খুব কাছে গিয়েও ফাইনালে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে লাল-সবুজদের। ২০১২, ২০১৬ ও ২০১৮ সালে রানাস আপ হয় বাংলাদেশ। এবার প্রায় সম্পূর্ণ নতুন একটি দল নিয়ে ফের একটি এশিয়া কাপ মিশনে টাইগার শিবির। এবারের ফরম্যাট টি-টোয়েন্টি বলে মিশন কিছুটা কঠিনই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। তবে ২০ ওভারের ক্রিকেটে আগাম ধারণা করা কঠিন হলেও এই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসর কমতি নেই আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। বিসিবি সভাপতির বিশ্বাস, এবারের এশিয়া কাপে লম্বা পথ পাড়ি দেবে লিটন কুমার দাসের দল।
এশিয়া কাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে অধিনায়ক লিটন ও এই সময়ের পারফরমার জাকের আলী বলে গেছেন, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য তাদের। সবশেষ তিনটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ জিতেছে। এশিয়া কাপের আগে দারুণ প্রস্তুতিও নিয়েছে দল। এবার মাঠে নিজেদের মেলে ধরার পালা। আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করবেন লিটনরা। বাংলাদেশের অভিযান শুরুর আগের দিন গতকাল মিরপুরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বিসিবি সভাপতি শোনালেন দল নিয়ে তার আশার কথা, ‘আমি প্রত্যাশা করছিৃ আমাদের অনেক দূর যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এটা এমন একটা সংস্করণ, এখানে ভবিষ্যদ্বানী করা খুব কঠিন। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী এই দলটা নিয়ে।’
আইসিসির ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করার সময়টায় আরব আমিরাতে অনেকটা সময় কাটাততে হয়েছে আমিনুলকে। এখানকার উইকেট-কন্ডিশন, ধরন সবকিছু তার খুব ভালোভাবেই জানা। সাবেক এই অধিনায়কের বিশ্বাস, টুর্নামেন্টে পার্থক্য গড়ে দেবে দুটি দিক, ‘ওখানে (আমিরাতে) পার্থক্য গড়ে দেবে রানিং বিটুইন দ্য উইকেট ও ফিল্ডিং। এই সংস্করণে একই রকমের বোলিং ও ব্যাটিং সব দলই করে। কিন্তু রানিংয়ে যদি বাড়তি ১৫ রান করতে পারি আমরা বা ফিল্ডিংয়ে আমরা যদি আর ১০টা রান বাঁচাতে পারি, এই ২৫টি রান হবে নির্ধারক ব্যাপার।’
তবে যাদের বিপক্ষে ম্যাচ খর্বশক্তির সেই হংকংয়ের বিপক্ষেও আছে ভয়ঙ্কর এক অতীত। ক্ষুদ্র সংস্করণে সদস্য দেশটির বিপক্ষে একটাই ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে বাংলাদেশের, সেই অভিজ্ঞতা ভুলে যাওয়ার মতনই। চট্টগ্রামে ২০১৪ বিশ্বকাপের ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গিয়েছিলো দুই উইকেটে। বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসিয়ে দিতে লেগ স্পিনে নিজাকাত খান নিয়েছিলেন ১৯ রানে ৩ উইকেট। সেই দলের সদস্যদের কেউই এখন আর এই দলে না থাকলেও প্রতিপক্ষ শিবিরে নিজাকাত আছেন ঠিকই। এই স্পিনার জানালেন, খেলাটা কুড়ি ওভারের বলে আবারও একই ফলের বিশ্বাস আছে তাদের, ‘অবশ্যই আমাদের সেই বিশ্বাস আছে। আমাদের সেরকম খেলোয়াড় আছে যারা ম্যাচ জেতাতে পারে। আর টি-টোয়েন্টি এমন এক যারা দুই তিন ওভার খুব ভালো খেলে, দারুণ বল করে। টি-টোয়েন্টি খুব মজার খেলা, কে জানে। আমাদের দল ভীষণভাবে তৈরি আছে।’
হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর বাংলাদেশের বড় দুই চ্যালেঞ্জ শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তান। গ্রুপের শেষ ম্যাচটি লিটনরা খেলবেন আফগানদের বিপক্ষে। নিজেদের দেশের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজনের বাস্তবতা নেই বলে অনেক দিন ধরেই সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ঘরের মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে আফগানিস্তান। তারা কন্ডিশনের সুবিধা পাবেন বলেই মনে করেন বিসিবি সভাপতি। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সামর্থ্যওে তিনি ভরসা রাখছেন, ‘ওদের (হোম) ভেন্যু হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। কিছুদিন আবু ধাবি ছিল, এখন শারজাহ। তাদের ঘরের মাঠের বাড়তি সুবিধা তারা পেতে পারে। তার পরও আমাদের খেলোয়াড়দের যে স্কিল সেট আছে, আমি নিশ্চিত যে, তারা তাদের সর্বস্বটা দিলে ভালো করতে পারবে।’