‘কালো যদি মন্দ, তবে কেশ পাকিলে কান্দ কেনে’ তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসের ‘কবি’র বিখ্যাত লাইনটি যেন আজকের ফ্যাশন দুনিয়ার নতুন অর্থ খুঁজে পায়। রং যদি সৌন্দর্যের আসল মাপকাঠি না হয়, তবে সাদা হয়ে যাওয়া চুল নিয়ে বিব্রত হওয়া কেন? বরং সেটিই তো ব্যক্তিত্বের আসল প্রকাশ।

একসময় সাদা চুল মানেই ছিল বয়সের ছাপ, বৃদ্ধ হওয়ার সংকেত। সেই সাদা চুল ঢাকতে অনেকেই ছুটে যেতেন পার্লারে কিংবা কিনে নিতেন রং। মেহেদিতেও ঢেকে রাখতেন সাদা চুল।
অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডসেটার থেকে শুরু করে সাধারণ তরুণ-তরুণী অনেকে ইচ্ছা করেই চুল ব্লিচ করে বরফ সাদা বা সিলভার রং করছেন। বয়সের কারণে সাদা হয়ে যাওয়া চুল তাই আর লজ্জার নয়, বরং এতে প্রকাশ পায় আলাদা সৌন্দর্য। তাই অনেক নারীই গর্বের সঙ্গে সাদা চুলে অফিস করছেন, র্যাম্পে হাঁটছেন, ছবি পোস্ট করছেন। আবার পুরুষদের ক্ষেত্রেও ‘সল্ট অ্যান্ড পেপার’ লুককে ধরা হচ্ছে স্টাইলিশ এবং আকর্ষণীয়।
নতুনত্ব
যাঁদের চুল অনেক বেশি সাদা হয়ে গেছে, তাঁরা চুল ছোট করে কাটলে অনেকটাই ঝরঝরে লাগে। পিক্সি কাট, বব বা লেয়ার্ড কাট সাদা চুলে দারুণ মানায়। এতে শুধু বয়স কম দেখায় না, যত্ন নেওয়াও সহজ হয়।
মাঝারি ও লম্বা চুল
সবার মুখের গড়নের সঙ্গে ছোট চুল মানায় না। তাই যাঁরা মাঝারি বা লম্বা চুল রাখতে চান, তাঁরা লেয়ার, স্টেপ বা সামনে ফ্রিঞ্জ রাখতে পারেন। সাদা চুলে হালকা কার্লও দারুণ মানিয়ে যায়।
রঙের ছোঁয়া
অনেকে আবার মাথার সব চুল সাদা রাখতে চান না। এ ক্ষেত্রে সিলভার টোন, লাইট ব্লন্ড বা হালকা ব্রাউন শেড ব্যবহার করে পুরো লুককে আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। হাইলাইট বা লো-লাইট করলেও চুলে গভীরতা আসে।
সাজসজ্জায় মিল
সাদা চুলের সঙ্গে গাঢ় রঙের পোশাক ভীষণ মানায়। কালো, নেভি ব্লু, গাঢ় সবুজ বা গাঢ় লাল চুলকে আরো উজ্জ্বল করে তোলে। গয়না বা অন্যান্য অনুষঙ্গের ক্ষেত্রেও সিলভার বা অক্সিডাইজড ধাতব রং বেছে নিলে পুরো লুক ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
যত্ন
সাদা চুল অনেক সময় হলদেটে হয়ে যেতে পারে। তাই বিশেষ বেগুনি শ্যাম্পু বা কালার প্রটেক্ট শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুলের উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। নিয়মিত তেল ও হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করাও জরুরি।