ঋতুপর্ণা চাকমা, মারিয়া মান্দা, মনিকা চাকমাদের পরের প্রজন্ম তৈরি করতেই বেশি জোর দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন কোচ পিটার বাটলার। শিরোপা জেতা নয়, মেয়েদের উন্নতিই ছিল ব্রিটিশ এই কোচের মূল লক্ষ্য। যে কারণে এবারের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে স্কোয়াডের সবাইকে খেলিয়েছেন তিনি। মেয়েদের উন্নতির লক্ষ্য পূরণের সঙ্গে বাটলারের দল নিজেদের ঘরেই রেখে দিয়েছে এই আসরের ট্রফি।শিরোপা জিততে গতকাল টুর্নামেন্টের শেষ ম্যাচে নেপালের বিপক্ষে ন্যূনতম ড্র হলেই চলত বাংলাদেশের। কিন্তু এই মেয়েরা ড্রয়ের জন্য খেলেননি। আক্রমণাত্মক ফুটবলে নেপালকে বিধ্বস্ত করে ম্যাচ জিতেছেন ৪-০ গোলে। চারটি গোলই এসেছে একজনের পা থেকে, তিনি মোসাম্মত সাগরিকা।তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে মাঠে ফিরেই ঝলমলে পারফরম্যান্স এই স্ট্রাইকারের। তাঁর সুবাদে টানা ছয় ম্যাচ জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। আর ছয় ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ নেপাল।আগের পাঁচ ম্যাচে সবাইকে বাজিয়ে দেখার পর গতকাল সেরা একাদশ বেছে নেন বাটলার।সাগরিকা ফেরায় বেঞ্চে বসতে হয় তৃষ্ণা রানীর। একাদশে ফেরেন অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার, উমেহলা মারমা, স্বপ্না রানী ও মুনকি আক্তার। তাতে নেপালকে শুরু থেকেই চাপে রাখেন মেয়েরা। দ্বিতীয় মিনিটেই প্রতি আক্রমণে গিয়ে নেপালের রক্ষণ কাঁপায় বাংলাদেশ। নিচ থেকে উড়ে আসা বল মাঝমাঠে পেয়ে অনেকটা দৌড়ে বক্সে ঢুকে পড়া সাগরিকার শট লাফিয়ে কোনো রকমে বাইরে পাঠান গোলরক্ষক সুজাতা তামাং।পঞ্চম মিনিটে স্বপ্নার কর্নারে সাগরিকার ব্যাক হেড গোললাইন থেকে ফেরান আনিশা রায়। তিন মিনিট পর সেই সাগরিকাই এগিয়ে দেন দলকে। স্বপ্নার থ্রু পাস ধরে অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে অনায়াসে বল জালে পাঠান সাগরিকা।পিছিয়ে পড়ে নেপাল সুযোগ তৈরি করার চেষ্টায় থাকে। ১৯ মিনিটে গোলরক্ষক মিলির দৃঢ়তায় অল্পের জন্য বেঁচে যায় বাংলাদেশ। যদিও প্রথম দফায় মিলি বল গ্রিপে নিতে না পারায় সেই বল পেয়ে যান মিনা দেউবা, তাঁর শট ক্রসবারে লেগে ফিরে এলে সুক্রিয়া মিয়ার হেড করলে লাফিয়ে গ্লাভসে নেন মিলি। লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে নেপালকে আরো চেপে ধরে। ৫২ মিনিটে পেয়ে যায় ব্যবধান বাড়ানোর গোল। সতীর্থের পাস প্রথম স্পর্শে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটু এগিয়ে দারুণ শটে জাল খুঁজে নেন সাগরিকা। এই গোলের রেশ থাকতেই হ্যাটট্রিক পূরণের উচ্ছ্বাসে ভাসেন তিনি। মাঝমাঠ থেকে আসা লং ক্রস চিপ শটে গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন এই স্ট্রাইকার।৭৬ মিনিটে কিংস অ্যারেনার গ্যালারি উচ্ছ্বাসের ঢেউয়ে ভাসে সাগরিকার চতুর্থ গোলে। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের তিন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে সাগরিকার পায়ে বল তুলে দেন মুনকি। প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে একা পেয়ে দারুণ ফিনিশিং করেন সাগরিকা। তাতেই বড় জয়ের পাশাপাশি নিশ্চিত হয়ে যায় বাংলাদেশের শিরোপা। অনূর্ধ্ব-২০ পর্যায়ে মেয়েদের এটি টানা দ্বিতীয় শিরোপা। ২০২৩ সালে এই নেপালকেই ৩-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা উৎসব করেছিলেন মেয়েরা। অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়েও মেয়েদের আছে দুটি শিরোপা। আর ১৮ পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে একবার।