বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ছেলেদের স্টাইলে ৫ বিশেষ…

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

এখনকার ছেলেরা বেশ ফ্যাশনসচেতন। গরমেও তাদের স্টাইলে বৈচিত্র্য দেখা যায়। গরমে স্বস্তিতে থাকতে আরামদায়ক পোশাকের পাশাপাশি তারা বেছে নেন রোদচশমা, টুপির মতো প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। এসব ফ্যাশন অনুষঙ্গ তাদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে বৈকি। পুরুষদের সাজসজ্জা ও স্টাইলে নানা বৈচিত্র্য এসেছে মূলত সামাজিক মাধ্যম, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ট্রেন্ড এবং করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাবে।

রোদচশমা
একসময় রোদচশমা বা সানগ্লাসকে শুধু বিলাসী পণ্য হিসেবে মনে করা হতো। সেদিন অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে। বর্তমানে তরুণদের দৈনন্দিন স্টাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে রোদচশমা। রূপবিশেষজ্ঞরা বলেন, রোদচশমা মুখের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি, ধুলাবালি ও বাতাস থেকে চোখকে সুরক্ষা দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে চোখের চারপাশের ত্বকে বলিরেখা পড়াও কিছুটা কমে যায়। রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির বেশ কয়েকটি সানগ্লাসের দোকান ঘুরে জানা যায়, বর্তমানে অ্যাভিয়েটর, ওয়েফেয়ারার, ক্লাবমাস্টার ও রাউন্ড ফ্রেমের সানগ্লাস বেশ জনপ্রিয়। কালো ও বাদামি রঙের সানগ্লাস প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে সহজেই মানিয়ে যায়। তবে মুখের গড়ন অনুযায়ী সানগ্লাস নির্বাচন করা জরুরি। গোল মুখে সাধারণত বর্গাকার বা আয়তাকার ফ্রেম ভালো মানায়। আবার বর্গাকার মুখের জন্য গোল বা ডিম্বাকার ফ্রেম বেশি উপযোগী। ডিম্বাকার মুখে প্রায় সব ধরনের ফ্রেমই সুন্দর দেখায়।

ঘড়ি
ষোলো শতকে ইউরোপের রাজপরিবারে সময় দেখার জন্য পকেট ঘড়ির ব্যবহার শুরু হয়েছিল। বর্তমানে ঘড়ি শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং একজন মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘড়ির ধরন ও ব্যবহারেও এসেছে অনেক পরিবর্তন। করপোরেট সংস্কৃতিতে ক্ল্যাসিক অ্যানালগ ঘড়ি এখনও অভিজাত রুচির প্রতীক। অন্যদিকে মিনিমাল ডায়ালের ঘড়ি, স্মার্টওয়াচ ও ভিন্টেজ মেটাল স্ট্র্যাপ বর্তমানে তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়। ফরমাল পোশাকের সঙ্গে লেদার স্ট্র্যাপের ঘড়ি, স্পোর্টস বা ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে স্মার্টওয়াচ এবং সেমি-ফরমাল পোশাকের সঙ্গে ভিন্টেজ মেটাল ঘড়ি বেশ মানানসই। ঘড়ি একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে তোলে।

ব্রেসলেট
আগে ব্রেসলেটকে মূলত নারীর হাতের অলংকার হিসেবে ধরা হতো। বর্তমানে এটি ছেলেদের স্টাইলে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ব্রেসলেট ব্যবহারের প্রবণতা বেশি দেখা যায়। ক্যাজুয়াল ও ফরমাল দুই ধরনের পোশাকের সঙ্গেই এখন ব্রেসলেট ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমানে লেদার ব্রেসলেট, মিনিমাল কালো ব্যান্ড, বিড বা পাথরের ব্রেসলেট এবং ম্যাগনেটিক ডিজাইনের ব্রেসলেট বেশ জনপ্রিয়। সঠিক ব্রেসলেট একটি সাধারণ আউটফিটকেও মুহূর্তেই আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বিশেষ করে স্মার্ট ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে এসব ব্রেসলেট বেশ মানিয়ে যায়। তবে অতিরিক্ত বড় বা ভারী ডিজাইনের ব্রেসলেট ব্যবহার না করাই ভালো। নিজের পোশাক, বয়স ও ব্যক্তিত্বের সঙ্গে মানানসই ডিজাইন বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

টুপি বা ক্যাপ
একসময় ইউরোপে টুপি সামাজিক মর্যাদা ও শ্রেণির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। বর্তমানে এটি ছেলেদের দৈনন্দিন স্টাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। টুপি বা ক্যাপ একদিকে যেমন রোদ থেকে সুরক্ষা দেয়, অন্যদিকে সাধারণ পোশাকেও এনে দেয় স্মার্ট ও স্টাইলিশ লুক। বর্তমানে বেসবল ক্যাপ, ট্রাকার ক্যাপ ও স্ন্যাপব্যাক তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। তবে ক্যাপ ব্যবহারের ক্ষেত্রে মুখের গঠন ও পোশাকের ধরন অনুযায়ী সঠিক ডিজাইন নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। সুতি বা লিনেন কাপড়ের টুপি নিয়মিত ব্যবহারে আরামদায়ক। কারণ এ ধরনের কাপড়ে সহজে বাতাস চলাচল করতে পারে। খুব বেশি টাইট ক্যাপ ব্যবহার না করে কিছুটা ঢিলাভাবে পরলে স্বস্তি পাওয়া যায়। ঘরের ভেতরে বা ছায়াযুক্ত স্থানে থাকলে ক্যাপ খুলে রাখুন।

পারফিউম
একটি ভালো পারফিউম আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। গরম আবহাওয়ায় সাধারণত সাইট্রাস ও অ্যাকোয়া ঘরানার পারফিউম বেশি উপযোগী। অন্যদিকে শীতকালে উডি ও মস্কি পারফিউমের জনপ্রিয়তা বেশি দেখা যায়। তবে পারফিউম ব্যবহারে অবশ্যই পরিমিতিবোধ থাকা জরুরি। অতিরিক্ত ব্যবহার না করে শরীরের পালস পয়েন্ট যেমন কবজি, গলা বা কানের পাশে পরিমাণ মতো পারফিউম ব্যবহার করলে স্টাইলের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ব্যক্তিত্ব আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। শরীর থেকে কিছুটা দূরে রেখে পারফিউম স্প্রে করুন। এ ছাড়া সিল্ক বা সুতি কাপড়ে সরাসরি পারফিউম ব্যবহার না করাই উত্তম। এতে কাপড়ের দাগ পড়ে যেতে পারে। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব ও উপস্থিতিতে একটি ভালো পারফিউমের প্রভাব অনেক বেশি।
একজন মানুষের রুচি ও ব্যক্তিত্ব তাঁর স্টাইলের মাধ্যমেই প্রকাশ পায়। তাই নিজের রুচি, প্রয়োজন ও ব্যক্তিত্ব অনুযায়ী সঠিক ফ্যাশন আইটেম বেছে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মডেল: সাঞ্জু জন

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com