বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের বড় পরীক্ষা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৪ নভেম্বর, ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরের কাজের মূল্যায়ন চলছে এখন। পাশাপাশি তাঁর রাজনৈতিক প্রভাবের শেষ অধ্যায় কোন দিকে যাবে, তা নির্ধারণ করতে ভোট দিচ্ছেন আমেরিকান ভোটাররা। গতকাল মঙ্গলবারের এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে কংগ্রেসের উভয় কক্ষ– প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে।

রয়টার্স ও বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক দশকে মার্কিন রাজনীতিতে প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য এবারের নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদের আর দুই বছর বাকি থাকা অবস্থায় এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টি নিজেদের দুর্গগুলোতেও কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে।

ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে খাদ্য ও জ্বালানির দাম রেকর্ড পরিমাণে বেড়েছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের দাম ছিল ৩ ডলার ৭৫ সেন্ট। কিন্তু সেপ্টেম্বরে তা এক লাফে বেড়ে রেকর্ড ৬ ডলার ৫২ সেন্টে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে ট্রাম্প ক্ষমতা নেওয়ার সময় যেখানে মূল্যস্ফীতি ছিল ৩ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
আইওয়ার রোজ হেমিং নামের এক ভোটার বলেন, ট্রাম্প দেশবাসীকে যুদ্ধের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন। জীবনযাত্রার খরচ ও গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্পের সর্বনিম্ন জনসমর্থন
সম্প্রতি রয়টার্স ও অন্যান্য সমীক্ষায় ট্রাম্পের জনসমর্থনে মারাত্মক ধস নামার তথ্য উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তাঁর জনসমর্থন কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ শতাংশে, যা তাঁর পুরো কার্যকালের মধ্যে সর্বনিম্ন। সংকট কাটাতে ট্রাম্প ওয়াশিংটন ডিসির ঐতিহাসিক রিফ্লেক্টিং পুলের সামনে সমাপনী বক্তব্যসহ দেশজুড়ে টানা ডজনখানেক নির্বাচনী জনসভা করেছেন।
আইওয়াসহ বিভিন্ন জনসভায় ট্রাম্প ভোটারদের উদ্দেশে আবেদন জানান, এই নির্বাচনে তিনি সবার কাছে অনুরোধ করছেন, ভোটাররা যেন ধরে নেন ব্যালটে সরাসরি তাঁর নামই রয়েছে।

ভেটো দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
নির্বাচনে যদি ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তবে তাঁর প্রতিক্রিয়া কী হবে– সে বিষয়ে বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। নিউইয়র্ক পোস্টের পডকাস্ট ‘পড ফোর্স ওয়ান’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের প্রতি চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে তিনি প্রতিনিধি পরিষদ বা সিনেট থেকে পাঠানো প্রতিটি নতুন বিলে নিজের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করার ঘোষণা দিয়েছেন।
ট্রাম্প সরাসরি বলেন, ডেমোক্র্যাটরা জিতে এলে তিনি নিজেকে ‘মিস্টার ভেটো’ হিসেবে গড়ে তুলবেন। ডেমোক্র্যাটরা বিল পাঠাতে থাকবে আর তিনি তা আটকে দিতে থাকবেন। এভাবে এক বা দুই মাস ধরে সব বিল আটকে থাকলে তারা সময় নষ্ট হচ্ছে বুঝে আলোচনার টেবিলে আসবে এবং শেষে সমঝোতায় পৌঁছাবে।

তবে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে তারা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও আর্থিক বিষয়ের বিরুদ্ধে বড় আকারের তদন্ত শুরু করতে পারে। এমনকি ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে অভিশংসন করার উদ্যোগ পর্যন্ত নেওয়া হতে পারে।

রাজ্যভিত্তিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা যাচ্ছে। মিশিগানের সিনেট লড়াইয়ে ৪২ বছর বয়সী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে ৬৩ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স লড়ছেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাট দলের প্রাথমিক বাছাইয়ে হেরে যাওয়া হেইলি স্টিভেন্স শেষ মুহূর্তে এসে রজার্সকে সমর্থন দেওয়ায় দলটিতে অভ্যন্তরীণ সংকট তৈরি হয়েছে। সিনেটের ডেমোক্র্যাট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার এ ঘটনাকে একটি ন্যক্কারজনক এবং চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

আলাস্কা রাজ্যের সিনেট দৌড়ে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মেরি পেল্টোলার বিরুদ্ধে নাটকীয় অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ করা হয়, তিনি রিপাবলিকান প্রতিপক্ষ ড্যান সুলিভানের নামের সঙ্গে হুবহু মিলে যায় এমন আরেক প্রার্থীকে ভোটের মাঠে নামাতে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনার পর ট্রাম্প প্রশাসন মামলা করলেও আদালতে তা খারিজ হয়ে যায়।

টেক্সাসে ডেমোক্র্যাটদের তরুণ মুখ জেমস টলারিকো বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী কেন প্যাক্সটনের সমর্থনে বিশ্বের অন্যতম ধনী ইলন মাস্ক শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন। পাশাপাশি মেইন অঙ্গরাজ্যে অভিজ্ঞ রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স ষষ্ঠবারের মতো জয় নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন।
এদিকে, ভোটের ঠিক এক দিন আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে পাঠানো প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের ব্যালট আলাদা করে রাখার সিদ্ধান্ত পেতে ট্রাম্প প্রশাসন সর্বোচ্চ আদালতে জরুরি আপিল করেছিল। তবে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের সেই জরুরি আবেদন সরাসরি নাকচ করে দেন।

দুই কক্ষের হিসাব-নিকাশ
মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবকটিতে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে নির্বাচন হচ্ছে। প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে রিপাবলিকানদের রয়েছে ২১৮টি আসন এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন। সেখানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করার জন্য ন্যূনতম ২১৮টি আসনে জয়ের প্রয়োজন রয়েছে।
অন্যদিকে, ১০০ সদস্যের সিনেটে বর্তমানে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ৫৩টি আসন। বিপরীতে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা ৪৫ এবং স্বতন্ত্র ২ জন সদস্য ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে জোটে রয়েছেন। সিনেটের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের নতুন করে অন্তত চার বা পাঁচটি আসনে জয়লাভ করতে হবে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের ৪০টি এবং সিনেটের ১০ থেকে ১২টি আসনেই মূল তীব্র প্রতিযোগিতা হবে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে হওয়া ২০টি মধ্যবর্তী নির্বাচনের মধ্যে ১৮টিতেই ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারিয়েছে।
এদিকে, ভোট গ্রহণ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা থেকেই প্রাথমিক ফলাফল আসা শুরু হবে। তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ডাকযোগে পাঠানো ব্যালটের আধিক্য এবং সম্ভাব্য আইনি জটিলতার কারণে সব আসনের চূড়ান্ত ফল জানতে নির্বাচনী রাত পেরিয়ে আরও সময় লাগতে পারে।

ইসরায়েলকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করছেন ট্রাম্প
ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক ৪০০ কোটি (৪ বিলিয়ন) ডলারের আর্থিক সাহায্য বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর চুক্তিও হয়েছে। গতকাল ফক্স নিউজের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ইসরায়েলের এখন আর এই সহায়তার প্রয়োজন নেই। ইসরায়েলকে অর্থ দেওয়ার বিষয়ে নেতানিয়াহু ও আমি একমত হয়েছি। আমরা ইসরায়েলকে প্রতিবছর ৪ বিলিয়ন ডলার দিই, আর কয়েক মাস আগেই আমরা এটি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com