
তবে এখনকার শহুরে বাস্তবতায় সীমিত জায়গা আর সীমিত বাজেট অন্দরসজ্জার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নতুন প্রজন্মের দম্পতিরা এখন ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাবহারিকতা ও সহজ রক্ষণাবেক্ষণের আসবাব এবং গৃহসজ্জার অন্যান্য উপকরণ কেনায়।

বেডরুম হোক প্রশান্তিময়
বেডরুম নিঃসন্দেহে নতুন সংসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘর। সারা দিন পরিশ্রম শেষে শ্রান্তি কাটাতে আরামদায়ক বিছানা যেমন জরুরি, তেমনি হাতের কাছে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি রাখার জায়গা করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক দম্পতি এখন নিচু প্ল্যাটফর্ম বেড পছন্দ করছেন। এতে ঘর বড় দেখায় এবং ভিজ্যুয়াল ক্লাটার কম হয়। আবার স্টোরেজ বেড ছোট ফ্ল্যাটের জন্য বেশ কাজের। বিছানার নিচে অতিরিক্ত চাদর, শীতের কম্বল বা ট্রাভেল ব্যাগ গুছিয়ে রাখা যায়।
শোয়ার ঘরের দেয়ালে হালকা রং ব্যবহার করা যেতে পারে। সঙ্গে ইনডিরেক্ট লাইটিং বা নরম আলো ব্যবহার করলে ঘরে তৈরি হয় শান্ত ও আরামদায়ক আবহ। তাই এখন অনেকে বড় সিলিং লাইটের বদলে বেডসাইড ল্যাম্প বা ওয়ার্ম টোন লাইট ব্যবহার করছেন। এতে রাতে চোখে চাপ কম পড়ে।

বেডরুমে খাটের পাশাপাশি থাকতে পারে—
* বিছানার পাশে ছোট নাইটস্ট্যান্ড
* ছোট দেয়ালঘড়ি
* কাঠের ফটোফ্রেম
* শুকনা ফুল বা ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট
* সুগন্ধি মোমবাতি।
শোয়ার ঘরে অতিরিক্ত শোপিস না রাখাই ভালো। এতে ধুলা বেশি জমে এবং পরিষ্কার করাও কঠিন হয়ে যায়।

নিজেদের জন্য সাজান ড্রয়িংরুম
ড্রয়িংরুম শুধু অতিথিদের জন্য আনুষ্ঠানিক জায়গা মনে করেন অনেকে। এই ধারণা এখন বদলে গেছে, নতুন দম্পতিরা ড্রয়িংরুমকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই সাজাচ্ছেন। কেউ সোফা কাস্টমাইজ করছেন, কেউ পুরনো ফার্নিচার রিফার্নিশ করছেন, আবার কেউ বড় বিন ব্যাগ বা ফ্লোর সিটিং ব্যবহার করছেন।
বসার ঘর সাজাতে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়—
* সাদা সিরামিকের পটে ইনডোর প্ল্যান্ট
* ছিমছাম বুকশেলফ
* দেয়াল সাজাতে ও রাতে আবহ তৈরি করতে ফেয়ারি লাইট
* কার্পেট
* চিকন ফ্রেমে বাঁধাই করা বা ফ্রেমহীন ওয়াল আর্ট
* বিশেষ মুহূর্তের বাঁধানো ছবি।

অনেকে এখন ‘মেমোরি ওয়াল’ তৈরি করছেন। সেখানে ভ্রমণের ছবি, সিনেমার পোস্টকার্ড, হাতে লেখা ছোট ছোট চিরকুট কিংবা বিয়ের মুহূর্তের ছবি টাঙিয়ে রাখছেন। এতে ঘরে ব্যক্তিগত আবহ তৈরি হয়। ড্রয়িংরুম পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—
* খুলে সহজেই পরিষ্কার করা যায় এমন সোফা কাভার ব্যবহার করা
* ধুলা কম জমে এমন ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়া
* তার ও চার্জার লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা
* প্রতি সপ্তাহে কুশন ও কার্পেট পরিষ্কার করা।

একসঙ্গে সময় কাটাতে ডাইনিং স্পেস
ব্যস্ত জীবনে এখন অনেক দম্পতির জন্য রাতে একসঙ্গে বসে খাওয়ার সময়টুকুই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাই ছোট বাসায়ও সুন্দর করে সাজানো ডাইনিং স্পেস রাখার ট্রেন্ড চলছে। ভাঁজযোগ্য টেবিল, বেঞ্চ সিটিং কিংবা দেয়ালের সঙ্গে লাগানো কমপ্যাক্ট টেবিল এখন বেশ জনপ্রিয়। ডাইনিং স্পেসে ছোটখাটো ডেকর হিসেবে রাখা যেতে পারে—
* টেবিল রানার
* ছোট ফুলদানি
* ঝুলন্ত লাইট
* কাঠের ট্রে
* সিরামিক বাটি বা ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড।

তবে টেবিলের ওপর অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে না রাখাই ভালো। এতে জায়গা ছোট দেখায়।
কাজের জায়গা রান্নাঘর
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে রান্নাবান্না করার সময় আধুনিক দম্পতিদের একেবারেই নেই। তাই এখনকার কিচেন ডিজাইনে গুরুত্ব পাচ্ছে সহজে ব্যবহারযোগ্য রান্নার সামগ্রী ও স্টোরেজ। ওপেন শেলফ, ঝুলন্ত র্যাক, ম্যাগনেটিক নাইফ হোল্ডার, কাচের জারে রান্নাঘর সাজাচ্ছেন অনেকেই। ছোট রান্নাঘরে জায়গা বাঁচাতে তাক ও কেবিনেট ব্যবহার জনপ্রিয়। রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা অন্দরসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ যত সুন্দরই হোক, অপরিষ্কার কিচেন পুরো ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। রান্নাঘর সুন্দর রাখার জন্য যা করতে পারেন—
* চিমনি বা এগজস্ট হুড নিয়মিত পরিষ্কার করা
* সিংক শুকনা রাখা
*কাঠের কেবিনেটে পানি জমতে না দেওয়া
* মসলা ও শুকনা খাবার এয়ারটাইট জারে রাখা।
রান্নাঘরে ছোট টবের পুদিনা, তুলসী বা ধনেপাতার গাছও এখন অনেকে রাখছেন। এতে কিচেনে সতেজ ভাব আসে।

ঘরের কেন্দ্রবিন্দু লিভিং স্পেস
বাসায় সবচেয়ে বেশি সময় কাটে লিভিং স্পেসে। এখানে টিভি দেখা, গল্প করা, অলস দুপুর কাটানো হয়। এটা সাজাতে বড় কাঠের শোকেসের বদলে মিনিমাল ফার্নিচার ব্যবহার করছেন অনেকেই। কারণ কম আসবাব মানেই সহজ পরিষ্কার আর বেশি খোলা জায়গা। সব নতুন দম্পতির বাড়িতে আলাদা গেস্টরুম থাকে না। লিভিং স্পেসে সোফা কাম বেড ব্যবহার করে অতিথিদের জন্য জায়গা করা যায়। লিভিং স্পেসের জনপ্রিয় কিছু ছোট ডেকর—
* নরম থ্রো পিলো
* ফ্লোর ল্যাম্প
* সুগন্ধি ডিফিউজার
* ছোট কফি টেবিল
* দেয়ালে ঝোলানো আয়না। বড় আয়না ব্যবহার করলে ঘরও বড় দেখায়।
ক্লান্তি দূর করতে বারান্দা
নতুন দম্পতিদের অনেকেই এখন বারান্দাকে নিজেদের ‘মিনি রিট্রিট’ হিসেবে সাজাচ্ছেন। কেউ সেখানে চা খান, কেউ বই পড়েন, কেউ আবার ছোট গাছের বাগান বানান। বারান্দায় রাখা যেতে পারে—
* ফোল্ডিং চেয়ার
* কাঠের টি-টেবিল
* বিন ব্যাগ
* ঝুলন্ত গাছ
* ফেয়ারি লাইট।
তবে খেয়াল রাখতে হবে, বারান্দায় যেন অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে না রাখা হয়। কারণ এতে বাতাস চলাচল কমে যায়।
স্টাডি কর্নার
ওয়ার্ক ফ্রম হোমের যুগে ছোট একটি স্টাডি কর্নার এখন প্রায় অপরিহার্য। বড় আলাদা স্টাডিরুম না থাকলেও শোয়ার ঘর বা লিভিং স্পেসের এক কোণে ছোট ডেস্ক রাখা যায়। ভাসমান শেলফ, মিনিমাল বুকশেলফ আর ভালো টাস্ক লাইটিং এই জায়গাকে কার্যকর করে তোলে। স্টাডি কর্নার গোছানো থাকলে কাজে মনোযোগও বাড়ে। তবে ডেস্কের ওপর অতিরিক্ত শোপিস না রাখাই ভালো।
নতুন সংসার সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় নেওয়া। সবকিছু এক দিনে নিখুঁত করতে হবে এমন নয়। নিজেদের অভ্যাস আর প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর বদলাবে।