বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে
  • পাখির মতো মানুষও দিনশেষে নীড়ে ফেরে। বাইরের সব ব্যস্ততা, অশান্তি নিমেষেই মিলিয়ে যায় আপন নীড়ে—যদি সেই ঘর হয় সাজানো-গোছানো। ঘর সাজাতে কত-কী লাগে! আসবাব, গৃহসজ্জার বিভিন্ন অনুষঙ্গ, রান্নার সামগ্রী, ইলেকট্রনিকস—এসব তো লাগেই; তবে দেয়াল ও পর্দার রঙের ওপর নির্ভর করে পুরো ঘরের আবহ। প্রিয় নীড়টা নিজের মতো করে সাজানোর বিভিন্ন উপায় জানিয়েছেন এস এম তাহমিদ
সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
মডেল : সাইকা ছবি : শেখ সাদি
গৃহসজ্জা বা ইন্টেরিয়র ডিজাইন নিয়ে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা বলে থাকেন, ঘর সাজানো এক ধরনের শিল্প। খালি বাসাকে তাঁরা খালি ক্যানভাস বলে থাকেন।

সময়ের সঙ্গে বাসা হয়ে ওঠে বসবাসকারীদের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন। কারো পছন্দ মিনিমাল সাজসজ্জা, আবার কেউ হয়তো বিশেষ থিমে সাজিয়ে তোলেন অন্দরমহল। 

তবে এখনকার শহুরে বাস্তবতায় সীমিত জায়গা আর সীমিত বাজেট অন্দরসজ্জার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই নতুন প্রজন্মের দম্পতিরা এখন ঘর সাজানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিচ্ছেন ব্যাবহারিকতা ও সহজ রক্ষণাবেক্ষণের আসবাব এবং গৃহসজ্জার অন্যান্য উপকরণ কেনায়।

 

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
বসার ঘরে গাছ রাখতে পারেন। সতেজ লুক যোগ করবে ইনডোর প্ল্যান্ট।ছবি : এটুজেড

বেডরুম হোক প্রশান্তিময়

বেডরুম নিঃসন্দেহে নতুন সংসারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘর। সারা দিন পরিশ্রম শেষে শ্রান্তি কাটাতে আরামদায়ক বিছানা যেমন জরুরি, তেমনি হাতের কাছে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি রাখার জায়গা করে নেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।

তাই ইন্টেরিয়র ডিজাইনারদের মতে, পুরো বাসার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত বিছানা আর ম্যাট্রেসে; সঙ্গে অবশ্যই থাকতে হবে বেডসাইড টেবিল ও ওয়ার্ডরোব। 

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
বেডরুমে বেশি আসবাব নয়, ছিমছাম লুক বজায় রাখুন

অনেক দম্পতি এখন নিচু প্ল্যাটফর্ম বেড পছন্দ করছেন। এতে ঘর বড় দেখায় এবং ভিজ্যুয়াল ক্লাটার কম হয়। আবার স্টোরেজ বেড ছোট ফ্ল্যাটের জন্য বেশ কাজের। বিছানার নিচে অতিরিক্ত চাদর, শীতের কম্বল বা ট্রাভেল ব্যাগ গুছিয়ে রাখা যায়।

 

শোয়ার ঘরের দেয়ালে হালকা রং ব্যবহার করা যেতে পারে। সঙ্গে ইনডিরেক্ট লাইটিং বা নরম আলো ব্যবহার করলে ঘরে তৈরি হয় শান্ত ও আরামদায়ক আবহ। তাই এখন অনেকে বড় সিলিং লাইটের বদলে বেডসাইড ল্যাম্প বা ওয়ার্ম টোন লাইট ব্যবহার করছেন। এতে রাতে চোখে চাপ কম পড়ে।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
এখন বড় ড্রেসিং টেবিলের বদলে এ রকম ছোট ড্রেসিং টেবিল বেশ জনপ্রিয়

বেডরুমে খাটের পাশাপাশি থাকতে পারে—

*    বিছানার পাশে ছোট নাইটস্ট্যান্ড

*    ছোট দেয়ালঘড়ি

*    কাঠের ফটোফ্রেম

*    শুকনা ফুল বা ছোট ইনডোর প্ল্যান্ট

*    সুগন্ধি মোমবাতি।

শোয়ার ঘরে অতিরিক্ত শোপিস না রাখাই ভালো। এতে ধুলা বেশি জমে এবং পরিষ্কার করাও কঠিন হয়ে যায়।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
ফ্রিজ, আলমারি ও বুকশেলফ পাশাপাশি রাখতে পারেন

নিজেদের জন্য সাজান ড্রয়িংরুম

ড্রয়িংরুম শুধু অতিথিদের জন্য আনুষ্ঠানিক জায়গা মনে করেন অনেকে। এই ধারণা এখন বদলে গেছে, নতুন দম্পতিরা ড্রয়িংরুমকে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হিসেবেই সাজাচ্ছেন। কেউ সোফা কাস্টমাইজ করছেন, কেউ পুরনো ফার্নিচার রিফার্নিশ করছেন, আবার কেউ বড় বিন ব্যাগ বা ফ্লোর সিটিং ব্যবহার করছেন।

বসার ঘর সাজাতে এখন সবচেয়ে জনপ্রিয়—

*    সাদা সিরামিকের পটে ইনডোর প্ল্যান্ট

*    ছিমছাম বুকশেলফ

*    দেয়াল সাজাতে ও রাতে আবহ তৈরি করতে ফেয়ারি লাইট

*    কার্পেট

*    চিকন ফ্রেমে বাঁধাই করা বা ফ্রেমহীন ওয়াল আর্ট

*    বিশেষ মুহূর্তের বাঁধানো ছবি।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
ওয়ার্ক ফ্রম হোমের জন্য স্টাডি কর্নার অপরিহার্য

অনেকে এখন ‘মেমোরি ওয়াল’ তৈরি করছেন। সেখানে ভ্রমণের ছবি, সিনেমার পোস্টকার্ড, হাতে লেখা ছোট ছোট চিরকুট কিংবা বিয়ের মুহূর্তের ছবি টাঙিয়ে রাখছেন। এতে ঘরে ব্যক্তিগত আবহ তৈরি হয়। ড্রয়িংরুম পরিষ্কার রাখার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—

*    খুলে সহজেই পরিষ্কার করা যায় এমন সোফা কাভার ব্যবহার করা

*    ধুলা কম জমে এমন ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়া

*    তার ও চার্জার লুকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করা

*    প্রতি সপ্তাহে কুশন ও কার্পেট পরিষ্কার করা।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
কাস্টমাইজড নানা আসবাব ও জিনিসপত্রের ব্যবহারে আপনার রান্নাঘর হবে আরামদায়ক ও ছিমছাম

একসঙ্গে সময় কাটাতে ডাইনিং স্পেস

ব্যস্ত জীবনে এখন অনেক দম্পতির জন্য রাতে একসঙ্গে বসে খাওয়ার সময়টুকুই দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। তাই ছোট বাসায়ও সুন্দর করে সাজানো ডাইনিং স্পেস রাখার ট্রেন্ড চলছে। ভাঁজযোগ্য টেবিল, বেঞ্চ সিটিং কিংবা দেয়ালের সঙ্গে লাগানো কমপ্যাক্ট টেবিল এখন বেশ জনপ্রিয়। ডাইনিং স্পেসে ছোটখাটো ডেকর হিসেবে রাখা যেতে পারে—

*    টেবিল রানার

*    ছোট ফুলদানি

*    ঝুলন্ত লাইট

*    কাঠের ট্রে

*    সিরামিক বাটি বা ক্যান্ডেল স্ট্যান্ড।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
ঘরের দেয়াল সাজাতে শখের কালেকশন ব্যবহার করতে পারেন। এটার জন্য তাড়াহুড়া নয়, দরকার ধৈর্য।ছবি : এটুজেড

তবে টেবিলের ওপর অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে না রাখাই ভালো। এতে জায়গা ছোট দেখায়।

কাজের জায়গা রান্নাঘর

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করে রান্নাবান্না করার সময় আধুনিক দম্পতিদের একেবারেই নেই। তাই এখনকার কিচেন ডিজাইনে গুরুত্ব পাচ্ছে সহজে ব্যবহারযোগ্য রান্নার সামগ্রী ও স্টোরেজ। ওপেন শেলফ, ঝুলন্ত র্যাক, ম্যাগনেটিক নাইফ হোল্ডার, কাচের জারে রান্নাঘর সাজাচ্ছেন অনেকেই। ছোট রান্নাঘরে জায়গা বাঁচাতে তাক ও কেবিনেট ব্যবহার জনপ্রিয়। রান্নাঘর পরিষ্কার রাখা অন্দরসজ্জার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ যত সুন্দরই হোক, অপরিষ্কার কিচেন পুরো ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করে দেয়। রান্নাঘর সুন্দর রাখার জন্য যা করতে পারেন—

*  চিমনি বা এগজস্ট হুড নিয়মিত পরিষ্কার করা

*  সিংক শুকনা রাখা

*কাঠের কেবিনেটে পানি জমতে না দেওয়া

*  মসলা ও শুকনা খাবার এয়ারটাইট জারে রাখা।

 

রান্নাঘরে ছোট টবের পুদিনা, তুলসী বা ধনেপাতার গাছও এখন অনেকে রাখছেন। এতে কিচেনে সতেজ ভাব আসে।

সাজিয়ে নিন শান্তির নীড়
বারান্দায় বসার জন্য ঝুলন্ত দোলনা সাজেও বৈচিত্র্য আনবে

ঘরের কেন্দ্রবিন্দু লিভিং স্পেস

বাসায় সবচেয়ে বেশি সময় কাটে লিভিং স্পেসে। এখানে টিভি দেখা, গল্প করা, অলস দুপুর কাটানো হয়। এটা সাজাতে বড় কাঠের শোকেসের বদলে মিনিমাল ফার্নিচার ব্যবহার করছেন অনেকেই। কারণ কম আসবাব মানেই সহজ পরিষ্কার আর বেশি খোলা জায়গা। সব নতুন দম্পতির বাড়িতে আলাদা গেস্টরুম থাকে না। লিভিং স্পেসে সোফা কাম বেড ব্যবহার করে অতিথিদের জন্য জায়গা করা যায়। লিভিং স্পেসের জনপ্রিয় কিছু ছোট ডেকর—

*  নরম থ্রো পিলো

*  ফ্লোর ল্যাম্প

*  সুগন্ধি ডিফিউজার

* ছোট কফি টেবিল

*  দেয়ালে ঝোলানো আয়না। বড় আয়না ব্যবহার করলে ঘরও বড় দেখায়।

 

ক্লান্তি দূর করতে বারান্দা

নতুন দম্পতিদের অনেকেই এখন বারান্দাকে নিজেদের ‘মিনি রিট্রিট’ হিসেবে সাজাচ্ছেন। কেউ সেখানে চা খান, কেউ বই পড়েন, কেউ আবার ছোট গাছের বাগান বানান। বারান্দায় রাখা যেতে পারে—

*  ফোল্ডিং চেয়ার

* কাঠের টি-টেবিল

*  বিন ব্যাগ

*  ঝুলন্ত গাছ

*  ফেয়ারি লাইট।

 

তবে খেয়াল রাখতে হবে, বারান্দায় যেন অতিরিক্ত জিনিস জমিয়ে না রাখা হয়। কারণ এতে বাতাস চলাচল কমে যায়।

স্টাডি কর্নার

 

ওয়ার্ক ফ্রম হোমের যুগে ছোট একটি স্টাডি কর্নার এখন প্রায় অপরিহার্য। বড় আলাদা স্টাডিরুম না থাকলেও শোয়ার ঘর বা লিভিং স্পেসের এক কোণে ছোট ডেস্ক রাখা যায়। ভাসমান শেলফ, মিনিমাল বুকশেলফ আর ভালো টাস্ক লাইটিং এই জায়গাকে কার্যকর করে তোলে। স্টাডি কর্নার গোছানো থাকলে কাজে মনোযোগও বাড়ে। তবে ডেস্কের ওপর অতিরিক্ত শোপিস না রাখাই ভালো।

নতুন সংসার সাজানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় নেওয়া। সবকিছু এক দিনে নিখুঁত করতে হবে এমন নয়। নিজেদের অভ্যাস আর প্রয়োজন অনুযায়ী ঘর বদলাবে।

 

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com