সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:১৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

পদাবলি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৫ জুন, ২০২৬
  • ১৯ বার পড়া হয়েছে

বক্তা
রেজাউদ্দিন স্টালিন

মানুষসদৃশ এক বাঘ
এলেন আমন্ত্রিত হয়ে
বক্তৃতা দিতে
তিনি যখন মানব সভ্যতার
কথা বললেন
তার ডোরাকাটা দাগ আরও স্পষ্ট হলো আর
যখন খ্রিষ্টের অন্তিম আহারের কথা বললেন
চিকচিক করে উঠল তার জিহ্বা

দেশপ্রেমের দৃষ্টান্ত দিতেই
একটা ঘরঘর ধ্বনি বেরিয়ে এলো কণ্ঠ থেকে আর তিনি বাড়িয়ে দিলেন স্বরগ্রাম
বাঘবেশী বক্তা যখন শান্তির কথা বললেন– তখন তার দু’চোয়াল ভেদ করে বেরিয়ে প্রাগৈতিহাসিক দাঁত
এবার তিনি ভালোবাসার কথা বললেন– আকাশের দীর্ঘশ্বাসের শপথ নিলেন
বিশ্বাস হলো না কারও
দ্রুত ফেরার জন্য তারা চাইল একটা অলৌকিক দরোজা

কিন্তু ততক্ষণে ফুরিয়ে গেছে কৌতূহল এবং
নিভে গেছে দীর্ঘশ্বাস

 

তুই কি আমার কেউ
শুভাশিস সিনহা

(ছোট্ট সৌম্যদীপকে)

তুই কি আমার কেউ? মাঝে মাঝে ভাবি
পথের ধুলায় ছোট ছোট পদছাপ
বুঝি-বা উত্তর লেখে
অথবা হাওয়ায় ভেসে থাকে যদি আমাদের
আদুরে শ্রুতির শত কণা
কোন ঘর থেকে এলি পায়ে পায়ে
বুকে করে সোনালি আলোর ভোর
পাখির কূজন, মেঘের মল্লার
আদরের ডাক, যেন কতকাল
এভাবেই ভরিয়ে দিছিলি ব্যাটা
আমার আপন নির্জনতা
আমাকে আমার থেকে তুলে
ডেকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলি বুঝি
অচেনা অনন্ত কোন মায়ানদীপারে
কোথা থেকে আসে এত পানি!
নয়ন প্লাবিয়া আসে কোথা থেকে এত এত জল!
সময়-শৃঙ্খলা-ভরা দুনিয়ার পাঁজরের তলায় যে তোর
বাঁধভাঙা আহ্লাদের আওয়াজ চিৎকার পুরে দিয়েছিলি
আমি তা-ই শুনি কানভরে,
যখন পৃথিবীজুড়ে অশনি আঁধার নেমে আসে
তোর পানে চেয়ে অনাগত উষার লালিমা দেখি সোনা
লোকে বলে কে আমার তুই?
এ জীবনে হৃদয়ের শতেক স্পন্দনে কখন যে কার হৃৎস্পন্দন
ঐকতান খুঁজে নেয়, সেই তানে বেজে ওঠে প্রাণের সেতার
তার সুরে বাঁধা পড়ে গেলে কে বোঝাবে পরিচয়!
ভোরের উঠানে, ঘরের দাওয়ায়, নিভৃত কোঠায়
দীঘিপাড়ে, গ্রামের রাস্তায়, যন্ত্রের দ্বিচক্রযানে
বাহারি পসরাভরা বাজারের দোকানে দোকানে
খাবার টেবিলে, খেলার আঙিনায়, আদর আদর মাখা বিছানায়
সেই ছোট্ট বলের মতন শরীর যে তোর
ধীরে ধীরে বড় হয়ে ওঠে, প্রতিদিন দেখি তার মৃদু সঞ্চরণ
মুখের আগল ভেঙে ওড়ে তোর আধো-আধো ভাষার পাপিয়া!
তোরে বাঁধি কোন পরিচয়ে?
পরিচয় তৈরি করে লোকে, তার অজানা স্মারক আঁকা থাকে
কত যে খেলার ছলে অতল ধমণিবেয়ে
শোণিত স্রোতের রেখা ধরে বয়ে চলে তার তরীখানি!

তবু যায় দিন, তবু মেলে চোখ দুইখানা চারখানা তোর
আলো ফোটে দুনিয়ার এখানে সেখানে
নানান ভাষায় মেতে ওঠে অজানা গাছের ডালে
কত পাখি গানে, গুঞ্জরণে!

জীবনের সেইসব আগত নতুন আয়োজনে, সোনা ওরে

হাজারো স্মৃতির চারা ফুল হয়ে যেন থাকে ফুটে থরে-থরে…

 

 

সুন্দর পেতোফি
নিজাম বিশ্বাস

সুন্দর পেতোফি ফুল ফুটে আছে পাথরের গায়ে,
ভ্রমরের নখে লেগে আছে তার সাদা সাদা রেণু
ঊষর পৃথিবীকাল কেটে গেছে, কী দারুণ কথা–

এক অন্ধ প্রজাপতি বাতাসে ফুলের গন্ধ শুঁকে
উড়ে এলো বহুপথ, বিবর্ণ পাখনা মেলে ধরে
রঙিন ফুলের কাছে জীবন করল সমর্পণ,

কিছু মধু নিয়ে গেল ডানাহীন পিপীলিকা দল,
রাত নেমে এলে কিছু বিষ নিয়ে গেল মাকড়েরা,
রটে গেছে চারিদিকে ফুটেছে পেতোফি রুক্ষ গ্রীষ্মে

খুব রাতে ফুলগুলো উড়ে যায় জুনিপোক হয়ে,
ধূসর মথেরা রেণু মেখে গায়ে শূন্যে মিলে যায়,
এমনই ঊষরা হলো তৃণদেশ, জলহীনা মাটি–
একটা ফুলের কাছে পড়ে আছে কোটি পঙ্গপাল

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com