ড্রিমলাইট ইন্টেরিয়রের ডিজাইনার সুপ্রকাশ অধিকারী বললেন, ‘বসার ঘরে প্রশান্তি আনতে ছবি বা পেইন্টিংয়ের ভূমিকা আছে। এ জন্য ড্রয়িংরুমের দেয়ালে ডিজাইনার আর্টওয়ার্ক, জলপ্রপাত, দৌড়ানো ঘোড়া বা উড়ন্ত পাখির ছবি, বন্দুক, বন্য প্রাণী ও তরবারির শিল্পকর্ম ঝুলিয়ে রাখতে পারেন।
গাছপালা, ফুল
তাজা ফুল নিমেষেই চোখ ও মনে প্রশান্তি এনে দেয়। এ জন্য আপনার ড্রয়িংরুমে আসল ফুল রাখুন।
এ ছাড়া মানি প্ল্যান্টের মতো ইনডোর গাছ ড্রয়িংরুমে সতেজ ভাব আনবে।
আসবাব
রুমের আকারের সঙ্গে মিল রেখে ছিমছাম আসবাব বেছে নিন। বাঁশ অথবা বেত দিয়ে তৈরি আসবাব বেছে নিতে পারেন। এগুলো প্রাকৃতিক আবহ ফুটিয়ে তুলবে।
প্রয়োজনে কাস্টমাইজড করে আসবাব বানিয়ে নিতে পারেন।
রং
ড্রয়িংরুমের মেঝের টাইলস থেকে শুরু করে দেয়াল হলুদ, সাদা, সবুজ বা ক্রিম রঙের হওয়া ভালো। রংগুলো স্নিগ্ধ হওয়ায় মনে প্রশান্তি এনে দেয়। দেয়াল বা মেঝেতে নীল ও কালো রং এড়িয়ে চলুন।
ওভারহেড বিম
ড্রয়িংরুমে কোনো উন্মুক্ত ওভারহেড বিম থাকলে সেটি ফলস সিলিংয়ের সাহায্যে লুকিয়ে ফেলুন। এটি ছদ্মবেশী করে রাখুন। এতে বসার ঘরে দৃষ্টি বাধা পাবে না।
ঝাড়বাতি
ড্রয়িংরুমে একটি মানানসই ঝাড়বাতি বেছে নিন। বড় ঝাড়বাতি ঝোলানোর জন্য দক্ষিণ-পশ্চিম দিক বেছে নিতে পারেন।
বড় ঝাড়বাতি মানে এই নয় যে লম্বা একটি বেছে নিলেন।
পর্দা
ড্রয়িংরুমের প্রশান্তির জন্য গাঢ় ও হালকা উভয় রঙের পর্দা বেছে নিন। হালকা রঙের পর্দা একরঙা হলেই বেশি মানানসই। গাঢ় রঙের পর্দা নিলে তাতে একটু কারুকাজ থাকা ভালো। অ্যাকোয়ারিয়াম ও ঝরনা
অ্যাকোয়ারিয়াম ও কৃত্রিম ঝরনা সত্যিকার অর্থেই প্রশান্তি এনে দেবে আপনার ড্রয়িংরুমে। অ্যাকোয়ারিয়ামের রঙিন জীবন্ত মাছের সাঁতার, ঝরনার পানির কুলকুল শব্দ আপনাকে আরাম ও প্রশান্তি দেবে।
আলো
বসার ঘরের প্রতিটি কোণে তিন শ ষাট ডিগ্রি কোণে সব সময় খুব উজ্জ্বল আলোর ব্যবস্থা রাখুন। এ জন্য ড্রয়িংরুমে চকচকে বাল্ব ও বড় বাতি ব্যবহার করুন। আলো-আঁধারি ড্রয়িংরুমে প্রশান্তি পাবেন না।
শোবার ঘর
রঙ
ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সোহেলী সায়মা সেঁজুতি জানান, শোবার ঘরের প্রশান্তির জন্য হালকা রংই ভালো। এতে পরিবেশ আরামদায়ক হয়। এ জন্য দেয়ালে নীল রঙের হালকা শেড বেছে নিন। বিছানার চাদরও রাখুন নীলেরই একটু গাঢ় শেডে।
রং
পর্দার জন্য নীল, খয়েরি, সবুজ বা সোনালী রঙের হালকা ধরনের শেড বেছে নিন। দুটি পর্দার মধ্যে সাদা রঙের পর্দা ঝুলিয়ে দিন। এভাবে মোট পাঁচটি পর্দা এক সারিতে টানিয়ে দিলে নিমিষেই অন্দরের রূপ বদলে যাবে।
অনুষঙ্গ
শোবার ঘরে প্রশান্তি আনতে অনুষঙ্গে মনোযোগ দিন। ল্যাম্পশেড, পাপোশ, কার্পেটের মতো অনুষঙ্গে হালকা নকশা ও রঙ বেছে নিন। চাইলে ঘরের এক কোণে ছোট-বড় কয়েকটি সুগন্ধি মোম সাজিয়ে রাখতে পারেন। এতে অন্দর দৃষ্টিনন্দন হবে, সুবাসিতও থাকবে।
প্রকৃতির ছোঁয়া
প্রকৃতির পরশ প্রশান্তির জন্য খুব উপকারী। এ জন্য শোবার ঘরে প্রশান্তির পরশ পেতে প্রকৃতির খানিকটা ছোঁয়াও রাখতে পারেন। সাইড টেবিলে ফুলদানিতে তাজা ও সাদা ফুল রাখতে পারেন। রজনীগন্ধা বা দোলনচাঁপায় সুবাসিত করতে পারেন ঘর। অন্দরের উপযোগী গাছ রাখতে পারেন। খোলা বারান্দা থাকলে সেখানেও গাছ লাগাতে পারেন। বারান্দায় হাসনাহেনার গাছ লাগালেও অন্দর হবে সুমিষ্ট ঘ্রাণে ভরপুর।
আসবাব
শোবার ঘর আসবাবে ভরে রাখবেন না। কেবল প্রয়োজনীয় আসবাব রাখুন। আরামের জন্য ডিভান রাখতে পারেন। কিংবা দুজন বসার উপযোগী ছিমছাম একটি সোফা রাখতে পারেন।
শব্দ
একবার ভেবে দেখুন আপনি শুয়ে আছেন। কানে ভেসে আসছে ঝরনা কিংবা বৃষ্টির শব্দ। এ জন্য পাহাড়ের কোলে ঘর হওয়ার প্রয়োজন নেই। দরকার নেই সত্যিকারের বৃষ্টির। সাউন্ড সিস্টেমের সাহায্যেই পেতে পারেন এমন মিষ্টি শব্দরাশি। চাইলে প্রিয় কোনো গান বা মিউজিক বাজিয়ে শুনতে পারেন। টাইমার সেট করে রাখুন। এতে নির্দিষ্ট সময় পরই শব্দ থেমে যাবে। শোবার ঘরে ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
আলো
প্রিয় বই পড়লেও মনে প্রশান্তি আসে। শোবার ঘরে ঘুমের আগে বই পড়ার ব্যবস্থা রাখুন। বই পড়ার জন্য বিছানার পাশের টেবিলে একটি ল্যাম্পশেড রাখতে পারেন। ড্রেসিং টেবিলের আয়নার চারপাশেও আলোছায়ার খেলার ব্যবস্থা করতে পারেন। ফ্লোটিং বেডের জনপ্রিয়তাও দিন দিন বাড়ছে। আলোছায়ার মাধ্যমে এমন ব্যবস্থা করা হয় মনে হয় বিছানাটি ভেসে আছে। দেয়ালে ছোট ছোট নীলচে আলোর মরিচবাতির ব্যবহার অন্দরে আলাদা প্রশান্তি এনে দেবে।
সঠিক ঘুমের জন্য বেডরুম প্রশান্তিময় হওয়া জরুরি। ছবি : এটুজেড