আতাহার খান
ঠিক করেছি, লাথি যখন মারবোই তবে চুপ করে আজ কেন থাকবো? জাগরণে
আছি জেগে, সরব সময় ছুঁয়ে যাচ্ছে এই আমাকে,
পেশীগুলোর কী শাণিত সাজানো রূপ,
হার মানার তো প্রশ্ন আর নেই,
এলোমেলো ওড়াচ্ছি চুল,
বুকে আমার অসীম সাহস,
ঘাড় উঁচিয়ে অনায়াসে দাঁড়াই এখন মাটির ওপর।
অনিয়মের বাধাগুলো গুড়িয়ে নিই,
জঞ্জালগুলো জড়ো করি, জ্বালাই আগুন,
দাউ দাউ পুড়ছে
হিংসা-ক্রোধ সব,
খোলা হাওয়ায় ওড়াবো তার জ্বলন্ত ছাই, দেখো নিও।
অক্ষিরেখার প্রান্তে
ভাগ্যধন বড়ুয়া
অস্তগামী সূর্য একটু একটু করে ডুবে যায়
পাহাড়ের পিঠে কিংবা সমুদ্রের পেটে,
চেনা পথে যেতে যেতে প্রসারিত রঙ
আমরা শরীরে মাখি রঙিন গোধূলি!
পড়ন্ত বেলায় সূর্যের সময় কম
পাহাড় বলো, সমুদ্র বলো কিংবা মরুভূমে
সূর্য অজানার দিকে অগ্রসর হয়
অক্ষিরেখার প্রান্তসীমায় ;
ফিরতি পথের কথা বলে যায় অবলীলায়
গতিসীমা ততদূর যতটুকু আলো…
পূর্বকার পথটুকু ভোলে যায় অনেকে!
সুসকাল বলে শুরু করা সম্ভাষণ
আলো-আঁধারি ক্ষণে হারায় বিয়োগী সন্ধ্যায়…
কুয়াশামঙ্গল
কুমার দীপ
ঘরের পা বাইরে দিয়েই দেখি—
কাফনের কাপড় হাতে
পথরোধ করে দাঁড়িয়ে রয়েছে—
হিমেল সকাল।
চোখের জলে পথ ভেজাচ্ছে
প্রবীণ খেজুর গাছ।
অদূরের পুকুর ঘাটকে মনে হয়—
কতো সুদূরের !
কুয়াশা গভীর হলে
চারদিক অদেখা রয়ে যায়
‘চেনা’কেও মনে হয়— কী!
কাছের মানুষটিও হয়ে ওঠে
এক— দূরের পৃথিবী।
শোক সৌহার্দ্য
তানিম কবির
একদিন এ জীবন বলে কিছু ছিল না তখনো
একদিন এ মরণ ঘটে গিয়েছিল ফেরিঘাটে
মাঝখানে একদিন কথাহীন সারা দিন গেছে
মাঝখানে একদিন চিরতরে আলাদা হয়েছে
দুটি প্রাণ, মানভাষা ধরে তারা কথা বলেছিল
একদিন ভাষা নিজে হেসেছিল অশরীরীভাবে
মাঝখানে একদিন সবকিছু বুঝে ফেলা শ্বাসে
পেট ভরে গিয়েছিল একদিন শুধুই বাতাসে
উড়েছিল সারকথা একেকটা দিনের ওপরে
একদিন পা ঝুলিয়ে বসেছিল হেঁটে ফিরে আসা
একদিন ভাসা ভাসা লেগেছিল সব গভীরতা
মাঝখানে একদিন অমরতা বসে ছিল এসে
সারাদিন জুড়ে এক খ্যাতির দোহন ঘেঁটে শেষে
একদিন অখ্যাত হয়ে উঠেছিল বেঁচে থাকা