কেউ নেই
আহাদুজ্জামান মোহাম্মদ আলী
শুদ্ধ সংগীত শোনার জন্য
অপেক্ষা করছি,
দূর বন থেকে ভেসে আসে
তার ক্ষণিক পূর্বাভাস;
অর্থ বোঝার আত্যন্তিক প্রয়াস
সফলতার মুখ দেখবে কি কখনো?
বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে রণ, রক্ত
ছড়িয়ে পড়ছে ক্রমাগত,
হে বিধাতা ত্রাতা তুমি
একবার নেমে আসবে কি ভূমিতলে,
কণ্টকাকীর্ণ পথ অতিক্রম
করার শক্তি জোগাবার জন্য কি কেউ নেই?
কবিতাবকুল
রেহমান সিদ্দিক
বর্ণের আঁতুড়ঘর থেকে বের হয়ে
অক্ষরের ডাল ধরে লতিয়ে উঠেছি
বারবার পড়ে গেছি বাক্যের বাঁকায়
কে দেবে আমাকে পাটশলাকায় বেঁধে?
ছন্দের মাচায় আমি চিত্রকল্প সাজাতে চেয়েছি
সেই ছন্দ দূরে সরে গেছে চুপিসারে
ফের কাছে ডেকে এনে জড়িয়ে ধরেছি
আঙিনায় ফোটে কত কবিতাবকুল!
তারপর একদিন ঝরে যায়—গন্ধ থাকে মনে
রাত নীল হলে
বাবুল আনোয়ার
রাত নীল হলে ম্লাণ হয় ফাল্গুণী আকাশ
গভীর প্রসারিত অন্ধকার পথ ধরে আসে
হাজার বছরের শতাব্দী এক্সপ্রেস
মেঘের আড়ালে ঘুমিয়ে মেঘ
গাঢ় সবুজের বনে বিষণ্ন অনুরাগে
ঝুলে থাকে বেহুলার শাড়ি
রাত নীল হয় দুচোখের বেদনায়
সরবে নীরব হয় বঞ্চিত বাসনার কুসুম।
নষ্টগর্ভ
চাঁদনী মাহরুবা
ঘনহরিৎ এ শহরে
কোনোভাবেই কোনো ঋতুমতী নারীকে মনে করতে পারি না।
তলপেটের মসৃণ নিয়ে একটা ছবি আঁকার চেষ্টা করি।
ঠিক যেন ঋতুমতীদের ভুলের মতো।
আনখ, লাল নাগালিঙ্গম ফুল।
তাদের জঠরকল থেকে বেরিয়ে আসা শিশুরা
পাঁজরের ওপর গ্যাট হয়ে বসে থাকে, ওসিরিসের সাথে করে সন্ধি।
মানুষের আদলে গড়া
রক্ত-মাংসের ঢিপি
মানুষ দেখতে যেমন–
হে ভুল করে তুলে নেওয়া বীজ
নারীর জঠর বেদনা কেমন?
আদম আপেল ছিঁড়ে ফেলে পাতালের দেবতারা।
পবিত্র প্রাণীদের জন্মলগ্ন ঘুচে যায় অন্ধকারে।
ঘুমের মধ্যে ঝরে যায় সকল ব্যথাতুর নারীর গর্ভফুল।
অন্তঃধ্বনির ভেতর
অনুভব আহমেদ
আমাকে বিশ্বাস করোনা –
যখন বলি তোমাকে ভালোবাসিনা
এইসব করুণ রেখার পাশে
দৃশ্যকে ঘিরে থাকে দেখার অযোগ্যতা
আমাদের হরিণরঙা প্রান্তর
দরোজার দিকে তাকিয়ে বাসি হয় পটলের তরকারি
কত অজস্রকোটি তিনবার তোমাকে বলেছি–
কবুল, কবুল, কবুল
হাওয়ারা সেসব পৌঁছে দেয়নি না?
হে পুরুষ –
তোমার চৌকাঠে এসে থেমেছে আমার পঙতির কাফেলা
তুমি কি তৃষ্ণার জল দেবেনা?
ভেঙে পড়া দুপুরে
কাজী জহিরুল ইসলাম
ভেঙে পড়া দুপুরের টুকরোগুলো যখন
মার্বেলের মতো গড়াচ্ছিল বুলনোজ স্টোনের ওপর,
তখন ওদের ভিজিয়ে দিচ্ছিল চারজন বৃষ্টি।
নুয়ে পড়া যৌবনের বারান্দায় আমি;
যে টুকরোগুলো অনিচ্ছাকৃত লাফিয়ে ওঠে,
কাচ ঠেলে আসুক না ওরা,
উষ্ণ করে তুলুক পড়ন্ত শীত।
বৃষ্টি-বালকদের দুরন্ত স্প্রিঙ্কলার ঠেলে রোদের বিস্রস্ত
খণ্ডগুলো সারা বিকেল নিস্তেজ
পড়ে রইল
ধীরপ্রবণ বসন্ত-বিছানায়, ঋতুচক্রের ধুলোয়।
এককাপ ধূমায়িত কফির গরম পেয়ালা
দু’হাতে চেপে বসে আছি নিরাপত্তার কুশনে;
আবিসিনিয়া হাসছে খুব,
ছলকে ছলকে ওঠে আকেকি নদীর বিস্মৃত বিকেল।
চারজন স্প্রিঙ্কলার বালকের সঙ্গে খুনসুটি করে লুসি,
হাসে, নেচে নেচে এস্কিস্তার প্রাচীন মুদ্রার তাল বুনে দেয়
সভ্যতার প্রবীণ বাগানে।