সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নিঃসঙ্গতায়

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৬ বার পড়া হয়েছে

লোকটা মারা যাবার পর তার ঘরের পাশেই একটা কবর খুঁজে পেয়েছিল গ্রামের লোকজন। ঠিক কবর নয়, মানুষের মাপে খোঁড়া নয়, আর স্বাভাবিক কবরের চেয়ে গভীরতা কিছুটা কম, তবু একজন মানুষের দেহ রাখার মতো যথেষ্ট।
এই গর্ত বা কবর প্রথম আবিষ্কার করেছিল গ্রামের ক’জন দুষ্ট বালক। এমনিতে লোকটার বাড়ির দিকে কেউ যায় না দিনদুপুরেও। এক প্রান্তে নির্জন, প্রায় পরিত্যক্ত বাড়ি। বাড়ির চারপাশে ঝোঁপ-জঙ্গলে ভরা, সেইসব ঝোঁপ জঙ্গল থেকে হঠাৎ উঁকি দিতে দেখা যায় এমন সব সরীসৃপদের, যাদের দেখলে মনে হয় সেই প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বুঝি তারা ওখানে বাসা গেঁথে আছে।
বাবা মারা যাবার পর লোকটার মা বেঁচে ছিল কয়েক বছর। মা মারা যাবার পর কেউ তাকে আর দেখেনি অনেকদিন। আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীর সাথে সম্পর্ক ছিল না। বন্ধুবান্ধবও ছিল না। ছোটবেলা থেকেই একটু শান্ত, চুপচাপ ধরনের।
মারা গেল কেন? মারা যাবার মতো বয়স তার হয়নি। বয়সে যুবক, সুঠামদেহী; শেষ দেখায় লোকজন যতটুকু মনে করতে পারে, হঠাৎ রোগে ভুগে মরার মতো মনে হয়নি; বরং গাছ থেকে ঝরা একটা সবুজ পাতার মতোই মনে হয়েছিল তার নিথর দেহ।
শেষ বিকেলে তাকে মাঝে মাঝে হাঁটতে দেখা যেত নদীর পার ধরে। হাঁটতে হাঁটতে সে কোথায় যে যেত কেউ জানে না। দু-একজন বলত, আগেই, তার বেঁচে থাকার সময়ই; তাকে নাকি হঠাৎ হঠাৎ দেখা যেত দূর গ্রামে, রাত-বিরাতে। পরিচিত কেউ যদি জিজ্ঞেস করত, ‘এগুল কেরে, ভাই?’ সে  অপ্রস্তুত হাসত। বাজারের শেষ দোকানটা যখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম তখন নাকি সে বাজারে হাজির হতো। প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে আলগোছে চলে যেত, যেমন নিঃশব্দে চলে যায় মেনিমুখো বিড়াল।
স্কুলপলাতক কিশোররা গ্রামের ওই প্রান্তে নদীর তীরে যেত কাশবনের আড়ালে লুকিয়ে সিগারেট টানতে। এক দুপুরে তারা অতদূর না গিয়ে লোকটির বাড়ির ভেতর ঢুকে পড়ে, যেহেতু এই বাড়িতে অনেক দিন লোকজন কাউকে দেখেনি তারা, ভাবে, এখানেই নিরাপদ। বাড়ির আশেপাশের জঙ্গল পেরিয়ে তারা হেলেপড়া টিনের ঘরটির পেছন দিক দিয়ে ঢুকতে গিয়ে, হঠাৎ পাকা বরইয়ের ভারে নুয়ে-পড়া একটি বড়ই গাছ দেখে এমনই শিহরিত হয়ে ওঠে যে সিগারেট ধরানোর কথা ভুলে যায়। দুহাত ভর্তি বরই নিয়ে খেতে খেতে তারা চারদিক ঘুরে ঘুরে দেখতে থাকে এবং এই পর্যায়ে গর্তটি দেখতে পেয়ে ভাবে এমনিতেই হয়তো কেউ মাটি খুঁড়ে রেখেছে। আশপাশের তুলনায় জায়গাটি কিছুটা পরিষ্কার। খুঁড়ে-রাখা মাটির তলাটি বেশ মসৃণ। তিনটি বালক সুড়সুড় করে নেমে পড়ে সেই গর্তে, আর গর্তে বসেই মনের সুখে সিগারেট টানে। তারা নিজেদের এই নব-আবিষ্কারের কথা কাউকে বলে না, নিজেদের আর কোনো বন্ধুকেও না, পাছে জায়গাটি অন্য কারও দখলে চলে যায়।
কিন্তু জায়গাটির কথা জানাজানি হয়ে যায়। স্কুলপলাতক দুষ্ট বালকদের চেয়েও আরও দুষ্ট লোক আছে গ্রামে। সিগারেট না, তারা আরও খারাপ কিছু খায়, তাই নিশ্চিত-নিরাপদ জায়গা হিসেবে তারাও ওই গর্তটির খোঁজ পেয়ে যায়। এক পড়ন্ত বিকেলে চার যুবক এসে দেখে দুজন বালক গর্তের দুপ্রান্তে হেলান দিয়ে আয়েশ করে বসে আছে। ছেলে দুটোকে  তারা ধমক দেয়, ‘ওই তোরা এইখানে কী করস, যা এইখান থাইকা! এইটা ভূতের বাড়ি জানস না?’
সংগত কারণেই, নিজেদের স্বার্থে, ওই চার যুবকও গর্তটির কথা আর কাউকে জানায় না। তারপর আরও কজন জানতে পারে।
এক শীতের রাতে ওই চার যুবকের একজন, একটি মেয়েকে নিয়ে ওই গর্তের কাছে আসে। ঘন কুয়াশার মধ্যে গাছ-গাছালির ফাঁক-ফোকর দিয়ে চুইয়ে-পড়া কৃষ্ণপক্ষের আধখাওয়া চাঁদের আলোয় গর্তটি কোনোরকমে আবছা দেখে নিয়ে হাত ধরাধরি করে তারা ভেতরে নামতে যাবে তখনই দেখে কে যেন চিৎ হয়ে শুয়ে আছে গর্তের ভেতর, যেন জীবন্ত লাশ! ছেলেটা পালায়। মেয়েটা জ্ঞান হারায়। গর্ত থেকে লোকটা উঠে এসে মেয়েটিকে দেখে, পরখ করে, কোলে তুলে ঘরে নিয়ে গিয়ে চোখেমুখে পানি ছিটায়। মেয়েটির জ্ঞান ফেরে। জ্ঞান ফেরার পর সামনের লোকটিকে দেখে আবারও যখন তার জ্ঞান হারানোর দশা, লোকটি বলে, ‘তুমি কোন বাড়ির মেয়ে? বলো, পৌঁছে দিই।’
মেয়েটি একটু ধাতস্থ হবার পর সে নিজেই চলে যেতে চায়। লোকটি তাকে বাড়ির সীমানা পার করে দিয়ে আসে। বাঁশপাতা বেয়ে তখন ওষ গড়িয়ে পড়ছিল। বাদুড়ের ডানা ঝাপটানোর শব্দে মেয়েটি ভয় পেয়ে তার কাছাকাছি চলে আসে। আলগোছে এক হাতে তাকে ধরে লোকটি। অনেকটা জড়িয়ে ধরার মতোই। মেয়েটিও শীতে বা ভয়ে গুটিসুটি হয়ে তার বুকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকে কিছুক্ষণ। চাঁদ বা তারা বা জোনাকির আবছা আলোয় মেয়েটির ভয়ার্ত, শীতার্ত চোখ দুটো সে দেখে।  মেয়েটি দেখে তার নিঃসঙ্গতায় বাঙ্ময় চোখ দুটো। সেই চোখ এই হিম রাত্রির চেয়ে শীতল মনে হয় মেয়েটির কাছে। সে আরো ভয় পেয়ে যায়। শীত কাবু করে ফেলে তাকে। গায়ের চাদরটা সে দু’হাতে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।
সেই গভীর নির্জন রাতে ওই দৃশ্য কে দেখেছিল?
পাণ্ডবরাজ পরীক্ষিৎকে দংশন করতে আসছিলেন সর্পরাজ তক্ষক আর পরীক্ষিৎকে বাঁচাতে আসছিলেন মহর্ষি কশ্যপ। পথিমধ্যে তাদের দেখা হয়, পরিচয়পর্ব শেষে উভয়ে জানতে পারেন উভয়ের উদ্দেশ্য। নিজের ক্ষমতা দেখাতে তক্ষক এক বটবৃক্ষকে দংশন করেন, মুহূর্তে সেই বিশাল বটবৃক্ষ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মন্ত্রবলে কশ্যপ তা আবার জীবিত করেন। তবু তক্ষক নানা প্রলোভন দেখিয়ে, ধনরত্ন উপহার দিয়ে কশ্যপকে প্রতিনিবৃত্ত করেন। তক্ষকের কাছ থেকে উপহার সামগ্রী নিয়ে কশ্যপ পরীক্ষিৎকে না বাঁচাতে এসে ফিরে যান। পরীক্ষিৎ-পুত্র রাজা জনমেজয় যখন অমাত্যগণের কাছে জানতে চান, তক্ষক ও কশ্যপ মুনির এই অদ্ভূত বৃত্তান্ত নির্জন অরণ্য মধ্যে কে প্রত্যক্ষ করেছিল এবং কী প্রকারে তোমাদের কানে গেল, মন্ত্রীগণ তখন উত্তর করেছিলেন, এক ব্রাহ্মণ শুষ্ক কাষ্ঠ আহরণের জন্য ওই বটবৃক্ষে উঠেছিল, তক্ষক ও কাশ্যপ তা জানতে পারেন নাই। তক্ষকের বিষানলে বটবৃক্ষের সাথে ওই ব্রাহ্মণও ভস্মাবশেষ হয়, এবং কাশ্যপের অলৌকিক মন্ত্রবল বৃক্ষের সাথে সেও আবার জীবিত হয়; ওই ব্রাহ্মণ এসে সবাইকে খবরটা জানায়।
সেই রাতে কোনো চোর বা অপ্রত্যাশিত আগন্তুক বা কোনো গ্রামবাসী হয়ত ছিল বাড়ির আশেপাশে। সে-ই সব পরে কাউকে বলেছে। যেভাবেই হোক ঘটনাটা জানাজানি হয়, পরদিন মেয়েটির বাড়ির কজন হোমরা-চোমরা লোক উপস্থিত হয়।
‘ও আসছিল ক্যান তোমার বাড়ি? কী সম্পর্ক ওর সাথে তোমার?’
‘ও আমার কাছে আসে নাই। অন্য এক ছেলের সাথে আসছিল।’
‘কে সেই ছেলে?’
‘তাজানি না। ও অজ্ঞান হয়ে পড়ার পর ছেলেটি চলে যায়, বা ছেলেটা চলে যাবার পরই সে অজ্ঞান হয়ে যায়।’
‘ও অজ্ঞান হইয়া পড়ছিল ক্যান?’
‘তাজানি না। আমি গর্তে শুয়ে ছিলাম। তা দেখেই মনে হয়।’
‘গর্তে শুইয়া ছিলা? কীসের গর্ত!’
বাধ্য হয়ে মেয়েটির বাড়ির লোকজনদের গর্তটি দেখাতে হয় লোকটার। গর্তটি দেখে দু-একজন অবাক হয়ে বলে, ‘গর্ত কীসের, এইটা তো কবর! ঘরের পাছে কবর খুঁইড়া রাখছো কী জন্য?’
লোকটা কথা বলে না। মাতব্বর শ্রেণির একজন ধমক দিয়ে বলে, ‘কবর খুঁইড়া রাখছো কী জন্য? আবার বললা কবরে শুইয়া ছিলা!’
লোকটা তখন বিড়বিড় করে বলে, ‘মাটির ভেতর শুইয়া থাকলে কম একা লাগে।
মাতব্বর শ্রেণির লোকটার কণ্ঠস্বর নরম হয়, ‘কী বললা?’
লোকটা তখন অস্ফুট স্বরে, অনেকটা নিজে নিজে কথা বলেছে এমন ভঙিতে বিড়বিড় করে।
‘হঠাৎ হঠাৎ মনে হয় কোথাও কিছু নাই। খারাপ লাগে। একা লাগে। বিশেষ করে রাতে বেশি হয়। তখন আমি মাটির ভেতর আইসা শুই। মাটির ভেতর শুইলে একটু কম একা লাগে।’
মাতব্বর শ্রেণির লোকটা ছাড়া তার কথা আর কেউ শোনে না। শুনেও মাতব্বর পুরোটা বুঝতে পারে না কিংবা বুঝতে পারে। গলা আবার চড়ে ওঠে, ‘কী কও মিয়া, শিক্ষিত মানুষ তুমি! বিয়াশাদিটাও করলা না, বাড়িও একটা বানাইয়া রাখছো ভূতের বাড়ি। বিয়া করো। গর্ত বুজাইয়া দেও।’
বলে তিনি চলে যান। তার সাথের লোকজনও গর্তটা মাটিচাপা দিয়ে চলে যায়।
তারপর কিছুদিন আর কেউ আসেনি বাড়ির কাছে। তখন বর্ষা এসে গিয়েছিল। বর্ষা এলেই বাড়িটা ঢেকে যায় ঝোপ-জঙ্গল, লতা-পাতার আড়ালে। বড়ই, পেয়ারা, বুনোজামের লোভে যে-সব দস্যি ছেলে বন-জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায় তারাও সাপখোপের ভয়ে ও-মুখো হয় না। একদিন লোকটার বাড়ির ওদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে উৎকট গন্ধ। লোকজন বুঝতে পারে মানুষ বা পশুর মরদেহের গন্ধ। লোকজন এসে দেখে গর্ত বা কবর খোলা। ভেতর লোকটার লাশ ফুলে উঠেছে।
জানাজা পড়ানো হয় না লোকটার। ওভাবেই মাটিচাপা দিয়ে দেওয়া হয়। তারপর লোকজন বলাবলি করতে থাকে, একা থাকার কষ্টে লোকটা মরে গেছে। গ্রামের ছেলেমেয়েরা, বউ-ঝিরা দূর থেকে দেখেছে, লোকটা নাকি মাঝে মাঝে গাছ জড়িয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। গাছের সাথে, পাখির সাথে কথা বলত। মানুষের সাথে সে কখনও কথা বলত না। যতটা পারত মানুষের কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলত। সে যখন স্কুলে পড়ে, তখন তার বাবা খুন হয় আততায়ীর হাতে। কারণ, রাজনীতি। মা তাকে শক্ত হাতে মানুষ করেছিল। মাস্টার্স পাস করে একটা কলেজে মাস্টারি শুরু করেছিল লোকটা। কোনো এক মেয়ের সাথে নাকি সম্পর্কও হয়েছিল। সেই সম্পর্ক কেন টেকেনি, আর তারপর কেন তার চাকরিটা চলে যায় তাও কেউ জানে না।
অনেকের ধারণা, বাবার অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর থেকেই সে একটা কষ্টের মধ্যে থাকত সব সময়। মানুষের প্রতি একটা ভয়, শঙ্কা। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মা জপে গেছে– ‘বিয়ে কর, বিয়ে কর।’ লোকটা বলত, ‘আমার বউ এসে যদি তোমাকে কষ্ট দেয়। আমার আর তোমার মাঝখানে যদি দেয়াল হয়া যায়। আমারে যদি ছেড়ে চলে যায়। আমি তো সহ্য করতে পারব না। এ-ই ভালো আছি।’
মা অসুস্থ হয়ে বিছানায় পড়ে থাকার সময় লোকটাই মায়ের সেবাযত্ন করত। গ্রামের এক ভ্যানচালকের স্ত্রী দিনে একবার-দুবার গিয়ে ঘরের কাজ করে দিয়ে আসত। এমনও শোনা যায়, ওই নারীর সঙ্গে তাকে দু-একবার লগ্ন অবস্থায় দেখা গেছে।
কে দেখেছে?
এও সেই তক্ষক-কশ্যপের গল্পের মতোই। ওই কথা শোনা যাবার পর থেকে ভ্যানচালক তার স্ত্রীকে আর আসতে দেয়নি। ভ্যানচালকের স্ত্রীর পরিবর্তে লোকটা গ্রামের এক বয়স্ক বিধবা নারীকে মায়ের সেবার জন্য জোগাড় করেছিল। শেষ সেবাযত্ন সেই বিধবা নারীই করেছিল। সেই কারণে মায়ের কিছু গয়না, ঘরের কিছু আসবাব, তৈজস, বাড়ির জমির কিছু অংশও লিখে দিয়েছিল সেই মহিলাকে।
লোকটা মারা যাবার পর সেই মহিলা বিলাপ করতে লাগল, ‘আহারে, কত ভালা মানুষ আছিল, বাপধন আমার। আমারে কইছিল, আমি মরলে আমার বাড়িটাও তুমি নিয়া যাইয়ো খালা। আমার তো দুনিয়াতে আর কেউ নাই।’
লোকটার জ্ঞাতিগোষ্ঠীর কয়েকজন কোত্থেকে যেন মাটি ফুঁড়ে বের হলো তখন, ‘ও জমিন নিছো, এখন ভিটাবাড়িও নিতে চাও! থামাও তোমার মায়াকান্না!’
লোকজনের কথাবার্তা শুনে বোঝা যায়, গ্রামের লোকজন তাকে পছন্দই করত। এমনিতে কারও সাথে তার কোনো দেনদরবার ছিল না; তবু লোকজন বলাবলি করছিল, ‘আহারে, পাগল পোলাটা। ছোটকালে বাপরে হারাইয়া আধপাগলা হইছিল। যৌবনকালে মারে হারাইয়া হইল পুরা পাগল। বিয়াশাদিও করল না। একটা বিয়া করলে কি আর এই অবস্থা হইত! সন্তানসন্তুতি হইলে কত সুখী হইত। এমন একা একা অকালে মরা লাগত না।’

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com