সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

রুপালি পাহাড় সোনালি উপত্যকা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৩১ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

চাঁদের কুহকী আলোটাই আজ সন্ধ্যায় তাদের চন্দ্রাহত করেছে। ওরা শহর থেকে গ্রামে আসে কেবল চাঁদ দেখতে।
পাগল কাকে বলে!
শুদ্ধা বলল, পাগলামির কী আছে? তোমার কি মনে নেই ভাটি বাংলার একজন মেয়র নগরবাসীকে জোছনা উপভোগ করাতে ভরা পূর্ণিমায় লোডশেডিং দিতেন?
তা মনে আছে। সৌর আবার বলল, তুমি যে বারবার আমাকে ইনসিস্ট করছো ক্ষেতের আইলে বসে চাঁদের আলো উপভোগ করবে, তা কতক্ষণ চালাতে পারবে?
দরকার হলে সারা রাত ওইখানেই পড়ে থাকব।
দেখা যাবে।
সুবিধা কিছুটা আছে বইকি। ওদের বাড়ির অদূরেই একটা গোপাট থেকে আইল ধরে ধানক্ষেতে যাওয়া যায়। সেখান থেকে জোরে ডাক দিলে বাড়ির লোকজন শুনতে পাবে। আইলে তো আর বসা যায় না, বসতে হবে গোপাট বা হালটে।
চৈত্রের প্রারম্ভে সেচের কাজ পুরো মাত্রায় চালু হয়েছে। গরমও পড়তে শুরু করেছে। সব গাছেই মৌ-ভ্রমর ওড়াউড়ি করে, আর দূরে উড়ে যায় পাতা ও পাখির পালক।
ওরা হালটে ওঠার আগে একটি বাড়ির ত্রিভুজ দেয়ালের কোনায় পাগল করা ফুলের গন্ধে থমকে দাঁড়াল।
সৌর একটি গভীর দম নিতে নিতে বলে, বাহ্‌। অপূর্ব, অদ্ভুত ও অসাধারণ!
মানে তুমি বলতে চাচ্ছো ট্রিপল ‘অ’?
তা’ তো ভেবে বলিনি। তবে গন্ধটা কামিনী ফুলের।
বুদ্ধু কোথাকার! এটা কি কামিনীর গাছ? চাঁদের আলোয় তো বড় পাতাগুলো স্পষ্ট, এটা জাম্বুরা।
হতেই পারে না। জাম্বুরা গাছে কামিনীর গন্ধ?
শুদ্ধা ঈষৎ রেগে বলল, দেখো সৌর, আমি বোটানির ছাত্রী, আমাকে গাছ চেনাতে এসো না।
মেনে নিলাম।
মানতে তো হবেই। শীতের আগেই যে কামিনীর ফুল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।
তাই তো। তবে জাম্বুরা নামটি আমার পছন্দ না, বলা উচিত বাতাবি লেবু।
সেটা বলা যায়। তবে তাতে অসুবিধাও আছে। ‘এই বছর বাতাবি লেবুর বাম্পার ফলন হয়েছে’ কথাটি এখন গন্ধ ছড়াচ্ছে। তার চেয়ে জাম্বুরা ফুলের গন্ধ অনেক ভালো।
শুদ্ধার ব্যাখ্যায় সৌর একটা বিকট চাপা হাসি দিয়ে চাইল। অতঃপর বলল, ভালোই হলো, বোটানি পড়ে তুমি আমাকে গাছ চেনাতে পারলে।
ধুর্‌ বোকা, জাম্বুরা বাতাবি কামিনী কাঞ্চন চেনার জন্য বোটানি পড়তে হয় না। তুমি ইগনোর করো অনেক বেশি।
আচ্ছা বাদ দাও। চলো সামনে এগোই।
ওরা যেতে যেতে হালটের ওপর গিয়ে দাঁড়াল। চরাচর ও ধানক্ষেতের বিস্তৃত দিগন্ত থেকে দৃষ্টি পেরিয়ে দূরের আবছা গ্রামগুলোর দিকে স্থির হলো।
আহা, ঐ গ্রামগুলো পাহাড় হলে চাঁদের আলোর রুপালি ছটায় আমাদের হাতছানি দিতে পারত।
শুদ্ধা বলল, তা পারত, কিন্তু আমি ভাবছি এই গ্রামেরও একজন মেয়র বা গ্রামপাল থাকা উচিত ছিল।
কেন?
দূরের ঐ সেচ মেশিনের আওয়াজটি ভালো লাগছে না। কোনো সেনসিটিভ গ্রামপাল থাকলে এখন সেটি কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ করে দিয়ে আমাদের ব্যাঙ আর কীটপতঙ্গের ডাক শোনাতেন।
হা হা। নাও ইউ টক লাইক আ স্টুডেন্ট অব জুয়োলজি।
তুমি হাসছো, কিন্তু তোমার কথা শুনে আমার কিছুটা কান্নাও পাচ্ছে। যা-ই হোক, বসো দেখি, জোছনাটা ভালোই লাগছে।
বসতে বসতে সৌর বলল– শুদ্ধা তোমার কি ইন্ডিয়ানদের ইসরো কর্তৃক চন্দ্র জয়ের কথা মনে আছে?
মনে থাকবে না কেন? দু’বছরও তো হয়নি।
ঠিক বলেছো। সে চন্দ্রাভিযানে তোমার মতো নয়জন নারী বিজ্ঞানী জড়িত ছিলেন।
আর এ থেকে আমাদের অনেক কিছু শেখার ছিল। অন্যের আলোয় আলোকিত দূর থেকে যা সুন্দর, কাছে থেকে তাকে কুৎসিতও মনে হতে পারে চাঁদের বড় বড় গর্তের মতো। তেমনি রাষ্ট্রের অক্ষমতা, মানুষের শারীরিক দুর্বলতা, রোগবালাই দূর থেকে বোঝা ভার। মানুষ চাঁদের কলঙ্কগুলো পৃথিবী থেকে আবছা বুঝলেও তাদের প্রেরিত ছবির মাধ্যমে ক্ষতচিহ্নগুলো এবং চারশ মিটার গভীর গর্ত স্পষ্ট বোঝা গেল।
ঠিক বলেছো শুদ্ধা, চাঁদে কখনও লেভেল প্লেয়িং সম্ভব নয়।
পৃথিবীতে কি লেভেল প্লেয়িং সম্ভব?
তোমার কথায় এখন রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছি।
এটা রাজনীতি নয় সৌর, এ হচ্ছে সামাজিক বাস্তবতা।
বুঝলাম। তবু আমাকে বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলোই দাও।
চাঁদের আলো এনজয় করতে এসে বিজ্ঞান চর্চা কি ভালো লাগবে সৌর?
তবু বলো, আমার যে ডিটেইল্‌ড মনে নেই।
তবে শোনো, সংক্ষেপে বলছি। চন্দ্রপৃষ্ঠটি বৈষম্যে ভরপুর, কোথাও ছোট গর্ত, কোথাও বড় বড়। চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে ল্যান্ডার রোভার দেখিয়েছিল সূর্যের আলো পড়ায় সেখানকার চৌদ্দ দিন কাটে আলোতে ও উষ্ণতায়, চৌদ্দ দিন অন্ধকারে প্রচণ্ড ঠান্ডায়। এজন্য মাইনাস ১৮০ ডিগ্রিতে যখন কাটবে চাঁদের এই অংশটি, তখন চন্দ্রাভিযান তিন-এর বিক্রম ও রোভার প্রজ্ঞানকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার কথা চিন্তা করেছিলেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
হ্যাঁ, এখন মনে পড়ছে। তবে তোমার বৈজ্ঞানিক আলোচনারও সারমর্ম যেখানে এসে দাঁড়াল, তা হচ্ছে বৈষম্য।
হতে পারে, বিজ্ঞান তো আর সমাজনিরপেক্ষ নয়।
আগে মানুষ চাঁদ নিয়ে কত কিছু ভেবেছে। সবই ছিল কুসংস্কার। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় ধীরে ধীরে সেসব দূর হচ্ছে। কত গল্পদাদুর কত গল্প প্রচলিত ছিল! চাঁদে এক বুড়ি সুতো কাটছে, পরীরা দূর মহাকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে, আরও কত কী! কিন্তু সেই চাঁদে মানুষ পাঠিয়েও চরকাওয়ালি বুড়ির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এই সাধারণ কথাগুলো বলে বলে সৌর মনে মনে একটা তৃপ্তির ঢেকুর তুলল। তখন ভাবছে, বিজ্ঞানালোচনায়ও সে অংশ নিতে পারে।
ঐদিকে শুদ্ধা ভাবছে এখন এসব কথা বলার সময় নয়। এটি সে মৃদুভাবে সৌরকে জানিয়েও দেয়।
সৌরও মৃদুভাবেই বলল, কেবল চাঁদের দিকে তাকিয়ে থেকে কত সময় কাটানো যায়? আমাদের চন্দ্রদর্শন আর হাজার মানুষের সমুদ্র দেখা একই কথা। পানির দিকে কতক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায়? তখন মানুষ বাধ্য হয়েই ঘোড়ায় চড়ে, বাইকে ওঠে, পেট পুরে বারবিকিউ খায়। এখন তোমার গায়ে বাতাবি লেবুর গন্ধ শোঁকা বা চুলের সৌরভে উন্মাতাল হওয়া ছাড়া আমার কিছু করার নেই। সৌর নিজেকে বোদ্ধা ভেবে আরও বলতে লাগল, কাজেই কথাকে প্রলম্বিত করতেই হবে, না হয় ফিরে যেতে হবে ঘরে।
তাহলে বলো তো শুনি প্রথম চন্দ্র জয়ের ঘটনা। দেখি কতটা জানা আছে।
সে তো ১৯৬৯ সালের কথা, যখন প্রথম মানবের পদচিহ্ন পড়েছিল চাঁদের পিঠে। আর্মস্ট্রংয়ের হাঁটার ভঙ্গি ছিল হেলেদুলে। কিন্তু তাদের পুঁতে দেওয়া পতাকাটি কেন পত্‌পত্‌ উড়ছিল সেটাই বোঝা গেল না। চাঁদে তো বাতাস নেই।
তখন তো, ক’বছর পর, দেয়ার ওয়াজ এ বিগ কোয়েশ্চেন– তবে কি মানুষ চাঁদে যায়নি? হবে হয়তো এটা কোনো সিমুলেশন ছিল।
বুঝলে না, সোভিয়েত আর মার্কিনের মধ্যে তখন একটা কোল্ড ওয়ার চলছিল। কে কাকে টেক্কা দিতে পারে এটাই ছিল মূল প্রবণতা।
অথচ মহাকাশ অভিযানটা শুরু করেছিল রাশিয়ানরা, যাদের প্রথম নামটি ইউরি গ্যাগারিন। আর পৃথিবীর প্রথম নারী নভোচারী ছিলেন তাদেরই ভ্যালেন্তিনা তেরেসকোভা। বিরোধী শিবিরের এই রকম অগ্রযাত্রা দেখে মার্কিনিরা সহ্য করবে কেন? তাই বাস্তবে যদি না-ও যেতে পার, একটা কিছু করে দেখিয়ে দাও।
এতক্ষণ আলাপে মশগুল থেকে পরিপার্শ্বটা তারা লক্ষ্য করেনি। ওরা দেখতে পেল ধান গাছে শীষ দেখা দিলেও মাটি এখনও কাদার মতো।
সৌর বলল, দেখো শুদ্ধা, চাঁদের আলোয় ধানগাছগুলোকে কেমন অপার্থিব মনে হচ্ছে।
ঠিক। তবে তুমি কি ধানগাছের জীবনবৃত্তান্ত জানো?
না, বলো তো।
এক পর্যায়ে ধানগাছে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিলেই সে ভাবে পৃথিবীতে আমার আয়ু শেষ। কাজেই এখন বংশবিস্তারে যেতে হবে। সে সময়ই গাছে দেখা দেয় ছড়া। গাছগুলো ফুল, তারপর শস্য দিতে শুরু করে।
অদ্ভুত তো।
হ্যাঁ, প্রাণী আর উদ্ভিদ জগতে এ রকম অদ্ভুত বিষয় বহু আছে।
তখন সৌর লক্ষ্য করল পাশেই একটা মজা ডোবা। কিন্তু চাঁদের আলোয় সেটাকেও খারাপ লাগছে না। সে বলল, এই ঘুপচি জলাশয় দেখে আবিদ ভাইয়ের একটি কবিতার পঙ্‌ক্তি আমার মনে পড়ছে।
বলো তো।

“জ্বলজ্বলে এঁদোডোবা, কে ধোয় বিনষ্ট জলে চন্দ্রকান্ত মণি!
নাকি ভুল যমুনার জলে সিনানে নেমেছে উলঙ্গ পরীর ঝাঁক
জরিদার ডানার ঝাপটে খিলখিল ভেঙে পড়ছিল
বহুদিনকার স্পর্শরহিত জল…।”
ব্রাভো সৌর! কীভাবে মনে রাখলে, নাকি বানিয়ে বললে?
না, বানিয়ে বলিনি। প্রিয় মানুষদের কথাগুলো কষ্ট করে মনে রাখতে হয়।
আচ্ছা, আবিদ ভাই কে?
আমাদের কটিয়াদীর আবিদ আনোয়ার, বড় কবি।
চাঁদের আলোর সর্বগ্রাসী মায়া! কথাটি বলেই শুদ্ধা সৌর’র গা ঘেঁষে বসল। তার গায়ের গন্ধ ও স্পর্শে সৌর নেশার মতো আচ্ছন্ন। সে বাতাসে ভেসে বেড়ানো চরকায় কাটা বুড়ির সুতো ধরবার বাল্য অনুভূতিতে নিজকে অবলোকন করল। কোনো কোনোটি দৌড়েও ধরা যায় না, আবার কোনোটি এমনিতেই উড়তে উড়তে মাথায়, গায়ের ওপর এসে বসে। একবার সব বন্ধু তাদের জমানো শিমুল-কার্পাসের তন্তুগুলো সৌরকে দিয়ে দিলে সে মাথার চুল থেকে এসব সরিয়ে দু’হাতের তালুতে চাপ দিয়ে দিয়ে নরম বলের মতো বানিয়ে ফেলেছিল। এ রকমই একটি নরম শিহরণ তাকে পেয়ে বসে। তখনই সৌর বলল, তুমি চাঁদের আলোর মায়ার কথা বললে, মায়া নামে একটি সভ্যতাও ছিল, যদিও দুই মায়ার অর্থ ভিন্ন। এর আরও শত শত বছর পর এমনই বিখ্যাত আর একটি সভ্যতা ছিল ইনকা। সেই ইনকা সভ্যতার মানুষরা চাঁদের জীবনচক্রের সাথে নারীঋতুকে তুলনা করত।
দ্যাট মিন্‌স, ওয়াজ ইট দ্য রেগুলেটর অব উইম্যান’স মিন্‌সট্রুয়াল সাইকেল?
অ্যাকজাক্টলি, পিরিয়ডের ধারণাটি ঐখান থেকেই আসে। চাঁদের হ্রাসবৃদ্ধি যেন নারী-অঙ্গেরই স্বাস্থ্যগত উত্থান-পতন।
শুদ্ধা জিজ্ঞেস করল, কী করে জানলে?
আমার এক মেঙ্কিন ফেসবুক ফ্রেন্ড জানিয়েছিল।
দারুণ বললে, আরও বলো না শুনি।
চাঁদের আলো হচ্ছে অশ্রু বা কান্নার জল। সিলভার সম্পর্কে ইনকা মানবদের ধারণা ছিল, এ হচ্ছে চাঁদের অশ্রু, যা ক্রমান্বয়ে জমে জমে কঠিন রুপা হয়ে যায়।
শুদ্ধার নীরবতা তার তন্ময়তার বহিঃপ্রকাশ। একসময় নীরবতা ভঙ্গ করে বলে– না সৌর, মাটি-ঘাসে বসে থেকে থেকে পেছনটা শিশিরে ভিজে উঠেছে।
তুমি যেখানে বসেছো, সেটি হচ্ছে একটি গো-সড়ক। সারাদিন এটির ওপর দিয়ে গরু-মহিষ আসা-যাওয়া করে।
তা বুঝলাম। আমি চাঁদের আলোয় ভালো করে ভিজতে চাই।
আলোতে ভেজা যায় নাকি? অবশ্য আমাদের কবিদের এই এক দোষ, অসম্ভবকে সম্ভব করে তোলে। কবিতার নাম দেয় ‘রোদে ভিজে বাড়ি ফেরা’। তুমিও এখন কবি হয়ে উঠেছো।
শুদ্ধা বলল– না, কবিত্বের ছিটেফোঁটা থাকলে তোমার মধ্যেই আছে। তবে তোমার নাম সৌর হলেও তুমি সূর্যও না, চাঁদও না, তুমি দূরের নক্ষত্র।
শুদ্ধা কিছু না বলে একসময় তার বসন খসিয়ে ফেলে। অতঃপর রুপালি কাঁচল খুলে টিপে টিপে সেটির অধিকাংশ কাদায় গুঁজে দেয়। সৌর দেখতে পায় আবছা আলোর নিচে এক গ্রিক ভাস্কর্য। সে বলল, কী করলে শুদ্ধা?
কেন, মায়াদের যে ছিল না, ইনকা কিংবা আজটেকদের যে ছিল না, তাতে বয়ে গিয়েছিল?
সৌর বুঝতে পারছে শুদ্ধা এখন আধুনিক সভ্যতাকে বিদ্রুপ করছে।
শুদ্ধা ধীরে ধীরে ঈষৎ কাদাজলে শুয়ে চাঁদের দিকে তাকিয়ে থাকে। সৌর শুদ্ধার অ্যাম্বুশ করা জামাটি হাতে নিয়ে দলা পাকিয়ে ঘ্রাণ-মদিরায় উন্মত্ত হয়। এর সাথে সে দূর আকাশের ভেসে আসা কার্পাস-তুলোর মিল খুঁজে পায়।
“বুঝলে সৌর, চাঁদের কোনো সভ্যতা নেই।”
শুদ্ধা জানে না সভ্যতার কালপর্বহীন চাঁদকে কীভাবে তার সমস্ত অস্তিত্ব দিয়ে সে ধারণ করে আছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com