দেশের ৫৪তম বিজয় পূর্তি উপলক্ষে দিবসটিকে আরো মহিমান্বিত ও আকর্ষণীয় করার জন্য গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিকসংখ্যক প্যারাট্রুপার দেশের পতাকা হাতে স্কাই ডাইভিং করেছেন। গতকাল দুপুর ১২টার দিকে ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের ‘টিম বাংলাদেশ’ বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সি-১৩০বি পরিবহন বিমান থেকে জাতীয় পতাকাসহ ফ্রি ফল জাম্পের মাধ্যমে আকাশ থেকে ভূমিতে অবতরণ করে। দুই হাজার ফুট ওপর থেকে নেমে আসে তারা। এতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিকুর রহমানও অংশ নেন।
প্যারাট্রুপারদের মধ্যে ছয়জন তাঁদের নামের ব্যাজের পরিবর্তে সম্প্রতি দক্ষিণ সুদানে সন্ত্রাসীদের ড্রোন হামলায় নিহত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ছয়জন শান্তিরক্ষীর নামের ব্যাজ ধারণ করেন। আর বিডা চেয়ারম্যান সন্ত্রাসী হামলার শিকার ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ছবিসংবলিত হেলমেট ব্যবহার করেন। এই ফ্রি ফল জাম্পিংয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন প্যারাকমান্ডো ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এম ইমরুল হাসান। আর প্যারাশুটিংয়ের নেতৃত্ব দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল হাসান।
এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ছাড়া প্রধান বিচারপতি, সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিদেশি কূটনীতিকরা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধানরা, বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, স্বাধীনতাযুদ্ধের সব বীরশ্রেষ্ঠর উত্তরাধিকারীরা, ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিরা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী ও বিএনসিসি ক্যাডেট, অন্য গণ্যমান্য ব্যক্তিরাসহ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আর্মি এভিয়েশন গ্রুপের তিনটি বিমান মনোজ্ঞ ফ্লাইপাস্টের মাধ্যমে অভিবাদন জানায়। এরপর বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনী তাদের এভিয়েশন সক্ষমতা প্রদর্শন করে।
অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী একটি সমন্বিত ব্যান্ড পরিবেশনারও আয়োজন করে।
প্যারেড স্কয়ারে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত ফ্লাইপাস্ট, প্যারাজাম্প, এরোবেটিক প্রদর্শনী ও ব্যান্ড পরিবেশনা উপভোগ এবং প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টা ৫৪ জন প্যারাট্রুপারের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং তাঁদের সঙ্গে একটি ফটোসেশনেও অংশ নেন।
এদিকে গতকাল জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অর্কেস্ট্রা দল বাদ্য পরিবেশন করে এবং ঢাকার বাইরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনীর সেনানিবাস, ঘাঁটিসংলগ্ন এলাকায় সীমিত আকারে ব্যান্ড পরিবেশন করা হয়। এ ছাড়া বিমানবাহিনীও সীমিত আকারে খুলনা, বাগেরহাট, কুষ্টিয়া, নাটোর, বগুড়া, চট্টগ্রাম শহর ও ফৌজদারহাট এলাকা, কক্সবাজার ও মাতারবাড়ী এলাকায় ফ্লাইপাস্ট পরিচালনা করে।
দিবসটি উদযাপনে চট্টগ্রাম, খুলনা, মোংলা ও পায়রা বন্দর, ঢাকার সদরঘাট, পাগলা (নারায়ণগঞ্জ), বরিশালসহ বিআইডব্লিউটিসি ঘাটে নৌবাহিনীর নির্ধারিত জাহাজগুলো দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জনসাধারণের দর্শনের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এ ছাড়া সামরিক জাদুঘরসহ বাহিনীত্রয়ের অন্য জাদুঘরগুলো বিনা টিকিটে সর্বসাধারণের প্রদর্শনের জন্য খোলা ছিল।
পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যান্ড শো অনুষ্ঠিত হয়। এসব অনুষ্ঠান সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ছিল।