গতকাল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা অডিটরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এই আলোচনাসভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন দুদকের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘আর্থিক ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বড় বিষয়। হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তাদের শাস্তি দেবেন? সারা জীবন কারাগারে থাকলেও তাদের সাজা পর্যাপ্ত হয় না। কারণ তারা দেশের অনেক বড় ক্ষতি করেছে।’
অর্থ উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘দেশে দুর্নীতি কমাতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।
লুকিয়ে রাখা অর্থ ব্যাংকে ফিরছে, বাড়তে পারে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট : এদিকে গতকাল সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, অনেকে দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে লুকিয়ে রাখা অর্থ এখন ব্যাংকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। ফলে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়তে পারে। তবে তিনি একই সঙ্গে স্বীকার করেন মানুষের হাতে নগদ অর্থ সংকটের বাস্তবতাও বিদ্যমান।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে কোটিপতি অ্যাকাউন্ট বাড়ে পাঁচ হাজার ৯৭৪টি, এরপর জুন থেকে সেপ্টেম্বর আরো ৭৩৪টি অ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ-বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক বলেন, ‘শুধু শাস্তি দিয়ে পৃথিবীর কোথাও দুর্নীতি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি। সামাজিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। বাংলাদেশে ১৪ থেকে ১৫ ধরনের দুর্নীতি রয়েছে। কিন্তু আমরা শুধু ঘুষ নিয়ে কাজ করছি। দুর্নীতি এখন বিজ্ঞান হয়ে গেছে। নিত্যনতুন কৌশল দেখা যাচ্ছে।’
সভাপতির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বলেন, “আমাদের রন্ধ্রে রন্ধ্রে যে দুর্নীতি ঢুকে গেছে, সেটাকে ধীরে ধীরে নির্মূল করা সম্ভব। এখন বাস্তবতা হলো গত ১৫ বছরে যেসব দেশে আমাদের বিপুল পরিমাণ অর্থ চলে গেছে, সেখানে আমাদের কার্যকর যোগাযোগ নেই। এমনকি যোগাযোগের পথও খুঁজে পাচ্ছি না। বিদেশে আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ ‘ডার্টি মানি’ হিসেবে পড়ে আছে। আর সেসব দেশে এই অর্থ উদ্ধার বা ব্যবস্থাপনার মতো লোকবলও আমাদের নেই।”
তিনি আরো বলেন, ‘আগে মধ্যপ্রাচ্য ও আমেরিকা থেকে বাংলাদেশে টাকা আসত। এখন বাস্তবতা উল্টো। বাংলাদেশ থেকে অর্থ আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে যায় এবং পরে কোনো না কোনোভাবে আবার দেশে ফিরে আসে। এসব লেনদেনে বিভিন্ন ধরনের ইনসেনটিভ বা প্রণোদনাও থাকে। এত বড় কাঠামো এক দিনে, এক মাসে বা এক বছরে বদলানো সম্ভব নয়। ১৫ বছর ধরে যাঁরা অপরাধ করেছেন, তাঁদের আমাদের দেশের রাজনৈতিক এলিটরা কোটি টাকার বিনিময়ে সীমান্ত পার করে দিয়েছেন। এসব লোককে আপনারা নির্বাচিত করবেন কি না তা চিন্তা করতে হবে।’
ক্ষমতাচ্যুতরা টাকার বিনিময়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের যারা সহযোগিতা করেছে, তাদের ভোট না দেওয়ার আহবান জানান দুদক চেয়ারম্যান।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার (অনুসন্ধান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ, কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলী আকবার আজিজী, সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম, মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী, আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, আক্তার হোসেন।