বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার দাবি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের  ঘটনায় জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সন্তুষ্টি ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আস্থার কথা জানিয়েছেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্বজনরা। তবে ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার নাম প্রকাশ না করায় কিছুটা হতাশ তাঁরা।  তাঁদের দাবি, সম্পূর্ণ প্রতিবেদনটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করার পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

গতকাল সোমবার রাজধানীর রাওয়া ক্লাবে ‘বিডিআর তদন্ত কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশে শহীদ পরিবারের মতপ্রকাশ’ শিরোনামে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

 

তাঁরা বলেন, ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনের প্রাণহানি শুধুই একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি জাতিগত বিপর্যয়। করদাতাদের অর্থে সংগঠিত রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে  দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করার যে ষড়যন্ত্র ঘটেছে, তার সত্য জানার অধিকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের রয়েছে।

শহীদ সেনা পরিবারের সদস্যরা বলেন, পিলখানায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত কেউ যেন বিচার থেকে রেহাই না পায়, সে বিষয়ে সরকারের কঠোর ভূমিকা রাখতে হবে। নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের  দাবিও জানিয়েছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে শহীদ কর্নেল কুদরত ইলাহীর সন্তান আইনজীবী সাকিব রহমান বলেন, ‘কমিশন খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন, কিছু কিছু নাম, যেগুলো তাঁরা পেয়েছেন, তাঁরা এই মুহূর্তে সেগুলো প্রকাশ করতে পারবেন না। সেটার যৌক্তিকতাটা আমরা কিছুটা বুঝি। তবে আমার মনে হয় না যে এটাকে অজুহাত দেখিয়ে অনেক দিন ধরে সেই নাম প্রকাশ হবে না। সেটা কোনোভাবে আমরা মেনে নেব না।

’ 

তিনি আরো বলেন, ‘যত দ্রুত সম্ভব ওই অপরাধে জড়িত সব সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তি সবার বিরুদ্ধে যেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং তারা যেন গ্রেপ্তার হয়। যদি রিপোর্টটা পাবলিক না হয়, আমরা আশঙ্কা করছি যেসব মানুষের নাম এসেছে, তারা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে।

পিলখানায় হত্যার শিকার বিডিআরের তৎকালীন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের ছেলে রাকিন আহমেদ ভূঁইয়া বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের স্বার্থে আর নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার স্বার্থে জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছেন। মীর জাফরদের বিচার করা না হলে এ দেশে কিন্তু ভবিষ্যতে আরেকটা পিলখানা হত্যাকাণ্ড করার আশঙ্কা রয়েছে। দেশপ্রেমের কারণে ভারতের সেনাদাস হতে চান না—এমন সেনা কর্মকর্তাদের পিলখানা হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনার শিকার হতে হবে—এটাই মেসেজ ছিল সেদিনের ওই হত্যাকাণ্ডে।

 

তিনি আরো বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হতেই হবে। আমরা ছাড়ব না। রিপোর্টে যাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে এখনই ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করতে হবে সরকারকে।

 সেদিনের হত্যাকাণ্ডের শিকার কেন্দ্রীয় সুবেদার মেজর নুরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল আলম হান্নান বলেন, ‘এই রিপোর্টের পরে আমরা শুধু শহীদ পরিবার নয়, দেশের সব মানুষ এখন একেবারে সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারবে যে আওয়ামী লীগ এই হত্যাকাণ্ড করেছে। শেখ হাসিনা এই হত্যাকাণ্ড করেছে। ভারত এর সঙ্গে জড়িত ছিল। এখন আমাদের আর কোনো ভীতিতে থাকতে হবে না। আর আমি সরকারের কাছে দাবি করব, যে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে, তা যেন দ্রুত সময়ে ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।’

শহীদ লেফটেন্যান্ট কর্নেল লুৎফর রহমান খানের মেয়ে ডা. ফাবলিহা বুশরা বলেন, ‘আমি যখন সাক্ষ্য দিতে গেছি তখন বিশেষ কিছু কথা বলার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে চাপ নিতে হয়েছে। আমি যখন সেটা কমপ্লাই করতে অস্বীকার করি তখন বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে হুমকি-ধমকি আসে, লাঞ্ছনার শিকার হই। এমন অগণিত প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। যদি এটা চলমান থাকে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত রয়েছি।

তিনি আরো বলেন, ‘কমিশনের প্রধান  মেজর জেনারেল (অব.) আ ল ম ফজলুর রহমান গত রবিবার বলেছেন, প্রতিবেদনটি ‘ক্ল্যাসিফায়েড’ নয় এবং পরে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।  আমাদের আহবান, প্রতিবেদনটি বিলম্ব না করে প্রকাশ এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। তাদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা নিশ্চিত করতে হবে।’

শহীদ মেজর কাজী মোসাদ্দেক হোসেনের মেয়ে কাজী নাজিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘দীর্ঘ ১৬ বছর শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারগুলো অবহেলা, ভান করা সহমর্মিতা আর মিথ্যা আশ্বাসই পেয়েছে। এখনো পরিবারগুলো পুরো আস্থা পায় না কারা সত্যিকার অর্থে তাদের পাশে আছে।’

শহীদ কর্নেল মুজিবুল হকের ছেলে মুহিব হক বলেন, ‘ডিফেমেশন (মানহানি)  শুধু আইনি শব্দ না, এটা একটা অস্ত্র। এই অস্ত্রটা ব্যবহার করা হয়েছে আমাদের পরিবারের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে, ন্যায়বিচারের বিরুদ্ধে।’

উল্লেখ্য, ঢাকার পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গত রবিবার বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিডিআর) সদর দপ্তর ঢাকার পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের নামে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৮ জন সেনা সদস্যকে (৫৭ জন কর্মকর্তা এবং একজন সৈনিক) নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। হত্যা করা হয় মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের স্ত্রী নাজনীন হোসেন শাকিলকেও।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে গত বছর ২৪ ডিসেম্বর সাত সদস্যের স্বাধীন জাতীয় কমিশন গঠন করা হয়। বিডিআরের সাবেক মহাপরিচালক এ এল এম ফজলুর রহমানকে সভাপতি করে এই কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন গঠনের আগে গত বছর ১৫ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, পিলখানা হত্যাযজ্ঞে আদালতে দুটি মামলা চলমান। তাই কমিশন গঠন আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ জন্য কমিশন গঠন হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই নেতিবাচক ঘোষণায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ওই হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে কমিশন গঠনের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ এবং আইন উপদেষ্টার কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করে। এ অবস্থায় গত বছর ১৭ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, ওই নৃশংস হত্যাযজ্ঞের তদন্তে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। এতে কমিশন গঠন না করে কেন কমিটি গঠন করা হবে—সে প্রশ্নও ওঠে। পরে সরকার কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মঈন উ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটিতে) অভিযোগ করেন শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা। ৫৮ জনের এই তালিকায় আরো রয়েছেন শেখ হাসিনার তৎকালীন প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিম, শেখ ফজলে নূর তাপস, মির্জা আজম, জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং সাবেক কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা। তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনেও উল্লিখিত ব্যক্তিরা জড়িত বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া বলা হয়েছে, ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দলগতভাবে আওয়ামী লীগ জড়িত। মূল সমন্বয়কারী ছিলেন তাপস। জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি ভূমিকা রেখেছে। ভারতও জড়িত। পুরো ঘটনাটি সংঘটিত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মঈনেরও দায় আছে। ১১ মাস ধরে তদন্ত করে এই প্রতিবেদন তৈরি করে এই কমিশন। গত রবিবার প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সন্ধ্যায় সায়েন্স ল্যাবরেটরির বিআরআইসিএমের নতুন ভবনে সংবাদ সম্মেলন করে তদন্ত কমিশন। কমিশন প্রধান সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com