বাগেরহাটের রামপালে অবস্থিত মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্লান্ট (এমএসটিপিপি) নভেম্বর মাসে ৭০০ মিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে একটি উল্লেখযোগ্য জাতীয় মাইলফলক অর্জন করেছে। বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের (বিআইএফপিসিএল) এই বিদ্যুৎ উৎপাদন বাংলাদেশের যেকোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে সর্বোচ্চ মাসিক উৎপাদন।
গতকাল সোমবার বিআইএফপিসিএল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাসব্যাপী এমএসটিপিপি বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১.৫০ শতাংশ অবদান রেখে ধারাবাহিকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যার ফলে দেশের শীর্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী হিসেবে এর অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, এই মাইলফলক প্লান্টের উচ্চ শিল্প ক্ষমতা, দক্ষ কয়লা ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ও কর্মক্ষম পরিকল্পনাও প্রতিফলিত করে। এমএসটিপিপি নিয়মিতভাবে ৬০০ মিলিয়ন ইউনিটেরও বেশি বা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৮ শতাংশ সরবরাহ করে আসছে এবং নভেম্বরের অর্জন দেশের বিদ্যুৎ খাতে একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। অটল কর্মক্ষমতা ও নির্ভরযোগ্যতার সঙ্গে এমএসটিপিপি দেশজুড়ে শিল্প, গৃহস্থালি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, স্থানীয় মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষায়ও ভূমিকা রাখছে প্রকল্পটি।
বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এনটিপিসি লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বাস্তবায়ন করে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। দ্বিতীয় ইউনিটের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয় ২০২৪ সালের মার্চে। বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুটি ইউনিট থেকে পুরো সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে প্রতিনিয়ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হিসেবে শিল্পায়নে অবদান রাখছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি। দেশের জাতীয় গ্রিডে যথেষ্ট পরিমাণে বিদ্যুৎ যোগ করছে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকেও চাঙ্গা করছে। স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুবিধা এবং নারী ও সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কার্জক্রমও বেশ ভালোভাবে করে যাচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।
কয়লা সরবরাহের বিষয়ে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে কয়লা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান নিরবচ্ছিন্নভাবে কয়লা সরবরাহ করছেন। যার কারণে নভেম্বর মাসে রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা গেছে।