সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বাটিক কাপড়ের গ্রাম কমলপুর

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৭ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা সদর উপজেলার কমলপুর। সীমান্তের ছোট্ট গ্রামটি খ্যাতি কুড়াচ্ছে সারাদেশে। ১৯৭১ সালে কমলপুরে লাল মিয়া মেম্বারের হাত ধরে শুরু বাটিক কাপড়ের যাত্রা। এটি এখন ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

যুগের পর যুগ গ্রামের বাসিন্দারা সাদা কাপড় রাঙাচ্ছেন বাহারি রঙে। ১৫ থেকে ২০টি কারখানায় তৈরি হচ্ছে হরেক রকম বাটিকের পোশাক। ১২ মাসই চাহিদা থাকে এর। কারিগররা জানান, কমলপুরের বাটিকের বিশেষত্ব এর টেকসই রং ও মান। এখানকার শাড়ি, থ্রিপিস, শার্ট ও বিছানার চাদর দেশের গণ্ডি পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে। বছরে ৪০-৪৫ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিন সদরের জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামে বাটিকপল্লির কারখানা ঘুরে দেখা যায়, কারিগররা নানা রঙের বাটিকের পোশাক তৈরি করছেন। শাড়ি, থ্রিপিস, বিছানার চাদর, ওড়না ও লুঙ্গিতে ফুটিয়ে তুলছেন নতুন নতুন নকশা।

কারিগর তাছলিমা বেগম জানান, প্রথমে তারা প্রিন্ট করার জন্য সাদা কাপড় কেটে প্রস্তুত করেন। তাতে মোমের রঙিন পানিতে আলপনা করা কাঠের টুকরো দিয়ে নানা নকশার ছাপ দেন। এরপর রঙের স্থায়িত্ব বাড়ানোর জন্য কাপড় গরম পানিতে ভেজানো হয়। এ প্রক্রিয়া শেষে মাড় দেওয়ার পর কাপড় কয়েক দফা পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো হয়। পরে ইস্ত্রি করে বাজারজাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়।

বাটিক রঙের কারিগর সুমন দাস ও ইসমাঈল মিয়া বলেন, ‘আমরা প্রডাকশনে কাজ করি। কাজের ওপর টাকা। যে যত বেশি কাজ করেন, সে তত বেশি টাকা পান। প্রতিদিন ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা হাজিরা করতে পারি।’

পল্লির দেলোয়ারা ডাইংয়ের কর্ণধার সাদ্দাম হোসেন জানান, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানা থেকে তারা সাদা কাপড় কেনেন। ডাইংয়ে এনে রংতুলিতে আলপনা করা হয়। সারাবছর চাহিদা থাকে। ঈদ, বৈশাখ, ফাল্গুনসহ বিভিন্ন উৎসবে চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘আমার কারখানায় ৫০ জন কাজ করেন। নারীরা বাড়তি উপার্জনের মাধ্যমে পরিবারকেও সহায়তা করতে পারছেন। আমরা প্রতি পিস বাটিক ৬০ থেকে ৭০ টাকা লাভে পাইকারদের দিই।’

বাটিক শিল্পের সমস্যাও অনেক। বেড়ে গেছে কাঁচামালের দাম। উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে। অনেকে বিকল্প পেশায় চলে যাচ্ছেন। কমলপুরের কুমিল্লা নিউ বাটিক ঘরের মালিক আবু ছায়েদ হোসেন বলেন, কাপড়, রং ও কেমিক্যালের চড়া দাম। কম টাকায় মেলে না শ্রমিক। সব মিলিয়ে পোষাতে না পেরে অনেকে বাটিক ছেড়ে দিচ্ছেন। শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারের উচিত সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া।

ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) কুমিল্লার উপমহাব্যবস্থাপক মুনতাসীর মামুন সমকালকে বলেন, কমলপুরের বাটিকের কদর এখন বিদেশেও। বিভিন্ন মেলা ও প্রদর্শনীতে নিয়মিত পণ্য যাচ্ছে। বিসিকেও একটি বিক্রয়কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে তাদের সহায়তা করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com