চীন ২০২০ সাল থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনার ব্যাপক সম্প্রসারণ শুরু করেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া ছবি, মানচিত্র ও সরকারি নথি বিশ্লেষণ করে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএন গতকাল শুক্রবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
সিএনএন জানায়, এই পদক্ষেপ দেশটির সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে মোকাবেলা করার এবং এশিয়া অঞ্চলে চীনের আধিপত্য বিস্তারের ক্ষমতাকে আরো জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন সরবরাহ সংকটে ভুগছে, তখন চীনের এই ঐতিহাসিক সামরিক প্রস্তুতি একেবারেই ভিন্ন এক বাস্তবতা।
স্যাটেলাইট ছবিতে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণকারী রকেট বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৩৬টি স্থাপনার মধ্যে ৬০ শতাংশেরও বেশি স্থাপনায় সম্প্রসারণের চিহ্ন দেখা গেছে।
এদিকে, চীনের সর্বাধুনিক বিমানবাহী রণতরি ‘ফুজিয়ান’ আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত বিশাল কমিশনিং অনুষ্ঠানের কয়েক দিনের মধ্যেই রণতরিটি কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
ফুজিয়ান চীনের তৃতীয় বিমানবাহী রণতরি, তবে প্রযুক্তিগতভাবে এটি সবচেয়ে উন্নত।
এতে রয়েছে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক ক্যাটাপাল্ট সিস্টেম, যা যুদ্ধবিমানগুলোকে উচ্চগতিতে উড্ডয়নে সহায়তা করবে। একই ধরনের প্রযুক্তি বর্তমানে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের রণতরিতেই ব্যবহৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ফুজিয়ানের এই প্রযুক্তি চীনকে সামুদ্রিক শক্তিতে এক ধাপ এগিয়ে নেবে। এখন দেশটির নৌবাহিনী জাহাজসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড়।
শি চিনপিংয়ের নেতৃত্বে গত এক দশকে চীনের নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ অভূতপূর্ব গতি পেয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
ফুজিয়ান রণতরিতে একই সঙ্গে তিন ধরনের যুদ্ধবিমান উড্ডয়নের সক্ষমতা রয়েছে। সমতল ফ্লাইট ডেক এবং শক্তিশালী ক্যাটাপাল্টের মাধ্যমে এটি ভারী অস্ত্র ও বেশি জ্বালানি বহনকারী বিমান মোতায়েন করতে পারবে, যা দূরপাল্লায় আঘাত হানার ক্ষমতা বাড়াবে। এর ফলে ফুজিয়ান চীনের আগের দুই রণতরি লিয়াওনিং ও শানডংয়ের তুলনায় আরো বেশি কার্যকর হয়ে উঠেছে।
সূত্র : সিএনএন, বিবিসি