নিহত তানহা বিনতে বাশার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের আবুল বাশার ভূইয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত বন্ধু সায়মন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বনকরা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় সে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করে এবং আমাকে বলছিল—‘সায়মন আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে, এটি মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কষ্টকর। বাবা, আমার ভুল হলে ক্ষমা করে দিও।
আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আজ সকালে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তানহার বাবা।
এ বিষয়ে জানতে সায়মনকে একধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিহতের বড় বোন নুসরাত জাহান বলেন, ‘সায়মন ও তানহার প্রেমের বিষয়টি আমরা জানতাম। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর সকালে সায়মন ও তানহার কথা হয়। ওই সময়ও তানহা বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা বলে। এরই মধ্যে তানহা কেন আত্মহত্যা করেছে এটি আমাদের জানা নেই।’ এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর বাকি আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত সায়মনের বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমদাদ হাসান ইয়ামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেদিন তানহা আত্মহত্যা করে, ওই দিন বিকেলে সায়মন আমাকে কল দিয়ে জানতে চায় তানহার কিছু হয়েছে কি না। তখন আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তানহা আত্মহত্যা করেছে। এটা সায়মনকে জানাতেই ও ফোন কেটে দেয়। এর পর থেকে ওর ফোন বন্ধ। লাস্ট আমাকে ও বলেছে যে ও ওর কাকার বাসায় চলে গেছে। কিন্তু আমরা কেউ ওর কাকার বাসা চিনি না।’
এর আগে তানহার মৃত্যুর জন্য সায়মনকে অভিযুক্ত করে ফেসবুক লাইভ করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তানহার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাসমিম আলম নাগর। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সায়মনের সঙ্গে তানহার কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সায়মন অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তানহা সায়মনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তানহা আত্মহত্যা করে। আমরা এর জন্য সায়মনকে দায়ী করছি। তাকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’