বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সায়মনকে দায়ী করছেন পরিবার-সহপাঠীরা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বেসরকারি ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানহা বিনতে বাশারের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ তাঁর বন্ধু আনিল ফয়সাল সায়মনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী তানহা, তাঁর পরিবার ও বন্ধুরা তানহার মৃত্যুর জন্য সায়মনকেই দায়ী করছেন। অবিলম্বে তাঁকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারের জন্য ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

প্রথমে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মামলা হলেও আজ বৃহস্পতিবার তানহার পরিবার অভিযুক্ত সায়মনকে দায়ী করে একটি হত্যা মামলা করতে পারে। পরিবার ও তানহার বন্ধুদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

নিহত তানহা বিনতে বাশার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কুসুমপুর গ্রামের আবুল বাশার ভূইয়ার মেয়ে। অভিযুক্ত বন্ধু সায়মন কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বনকরা গ্রামের মৃত হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

তাঁরা দুজনই ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থী। এর আগে গত ৩ নভেম্বর বিকেলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি বাসা থেকে তানহা বিনতে বাশারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ। 

বিকেল সাড়ে ৩টায় সে ফোন করে কান্নাকাটি শুরু করে এবং আমাকে বলছিল—‘সায়মন আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে, এটি মেনে নেওয়া আমার পক্ষে কষ্টকর। বাবা, আমার ভুল হলে ক্ষমা করে দিও।

’ এরপর বিকেল সাড়ে ৫টায় বাসায় পৌঁছে দেখি মেয়ের গলায় ফাঁস লাগানো। সে আত্মহত্যা করেছে। আমি প্রশাসনের কাছে মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। অবিলম্বে সায়মনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি তাকে যেন স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয় এবং আইনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তার প্ররোচনায়ই আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে।” 

আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আজ সকালে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তানহার বাবা।

এ বিষয়ে জানতে সায়মনকে একধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। তবে নিহতের বড় বোন নুসরাত জাহান বলেন, ‘সায়মন ও তানহার প্রেমের বিষয়টি আমরা জানতাম। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর সকালে সায়মন ও তানহার কথা হয়। ওই সময়ও তানহা বিয়ের বিষয় নিয়ে কথা বলে। এরই মধ্যে তানহা কেন আত্মহত্যা করেছে এটি আমাদের জানা নেই।’ এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার ওসি কাজী রফিক বলেন, এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃতদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আত্মহত্যার কারণ জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। ফরেনসিক রিপোর্ট আসার পর বাকি আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত সায়মনের বিষয়ে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এমদাদ হাসান ইয়ামিন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেদিন তানহা আত্মহত্যা করে, ওই দিন বিকেলে সায়মন আমাকে কল দিয়ে জানতে চায় তানহার কিছু হয়েছে কি না। তখন আমি খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তানহা আত্মহত্যা করেছে। এটা সায়মনকে জানাতেই ও ফোন কেটে দেয়। এর পর থেকে ওর ফোন বন্ধ। লাস্ট আমাকে ও বলেছে যে ও ওর কাকার বাসায় চলে গেছে। কিন্তু আমরা কেউ ওর কাকার বাসা চিনি না।’

এর আগে তানহার মৃত্যুর জন্য সায়মনকে অভিযুক্ত করে ফেসবুক লাইভ করেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তানহার ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাসমিম আলম নাগর। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, ‘সায়মনের সঙ্গে তানহার কয়েক বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি সায়মন অন্য মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। তানহা সায়মনকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিলে সে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর তানহা আত্মহত্যা করে। আমরা এর জন্য সায়মনকে দায়ী করছি। তাকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে।’

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com