বিকেল চলে যেতেই তার কেমন কেমন লাগে। মাথা ও বুকের ভেতর অদ্ভুত সব সংকেত!
কী করলে একটু শান্ত ভাব আসবে ভেবে অনেকটাই পেরেশান হয়ে বড় বাড়িটার সুসজ্জিত লনে নেমে আসেন ফিরদৌস শিশির। পায়ের নিচে নরম ঘাস। কিন্তু মনে আনন্দ নেই। কোথাও যেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। হাঁটতে হাঁটতে লনের একপাশে রাখা দোলনায় বসে খানিকক্ষণ দোলেন।
প্রতিদিন সন্ধ্যায় হাঁটাহাঁটি শেষে এই দোলনায় বসে দোল খেতেন মাহমুদা। অসুস্থতার কারণে এখন আর বসতে পারেন না। অতিমারির সময় ঘরবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এখন শিশিরও এখানে এসে বসেন।
খোলা আকাশ অন্তত দেখা যায়!
বন্দি হয়ে বন্ধুবান্ধবের সাথে আড্ডা দেওয়া, জমিয়ে ড্রিংক করা সব ভেস্তে যাওয়াতে মন খিঁচিয়ে থাকত। মাহমুদা এসব ফিলিংস বোঝেন না, মুখ গম্ভীর করে বলে বসেন, ‘এত অস্থিরতা কেন তোমার? বয়স হয়েছে, এখন একটু স্থির হও। অন্য মানুষের কথাও ভাবো। মানুষ অনেক কষ্টে আছে। আয়নার সামনে এখনও পনেরো মিনিট সময় ব্যয় করো কেমন করে! খেয়াল করে দেখেছি সেদিন। নাতি দুটো স্কুলে যাচ্ছে।’
শুনে রাগ হয়। তারপরও সুর অনেকটা নিচের স্কেলে নামিয়ে, হাসির হালকা ছোঁয়া মাখিয়ে বলেন, ‘তাতে কী হয়েছে? চুল পাতলা হলেও মন তো আর পাতলা হয়নি ম্যাডাম। ছেলের ছেলে স্কুলে যাচ্ছে তো আমার কাজ শুধু বসে বসে তসবি গোনা? আমার এত দিনের জীবনযাপন ন্যাপথালিন দিয়ে আলমারিতে তুলে রাখব? তুমি আগাগোড়াই জেলা শহরের মেয়ে রয়ে গেলে। আন্তর্জাতিক হতে পারলে না। কত দেশ ঘুরিয়েছি তোমাকে। আজকাল মেয়েরা কত ফাস্ট হয়েছে তোমার ধারণাই নাই। জীবন একবারই আসে, হাহাহা।’
ফিরদৌস শিশিরের বয়সের কথা কেউ মনে করিয়ে দিলেই ঠা ঠা পিস্তল তাক করতে মন চায় তার! সূর্য চন্দ্র নিয়মমতো ওঠানামা করলেই বুঝি দেহের নির্যাস শুকিয়ে আমসত্ত্ব হবে? ঝাঁকি দিয়ে তাই পারদ নামিয়ে অসুস্থ মানুষটাকে সহ্য করে সুর নরম করতেই হয়। হাসিমুখে ঔষধের প্যাকেট এগিয়ে দিয়ে তবেই নিজের কুঠুরিতে ঢুকতে হয়।
‘কে বলেছে ধারণা নেই? খুব আছে,’ বলেন মাহমুদা, ‘তোমার ঐ যে রুপালি না সোনালি, ভিডিও কলে এক ঘণ্টা কথা বলল সেদিন। বাপরে বাপ, পারোও তোমরা। সংসারে কোথায় কী হচ্ছে এখনও চোখ রাখি, ওষুধের ঘোরে সারাক্ষণ ঘুমিয়েই থাকি না। ভিডিও কলে মাঝে মাঝেই উত্তেজিত হয়ে কথা বলার সময় আমার কানেও সামান্য কিছু আসে।’
এক সময়ের দাপুটে পুলিশ কর্মকর্তা ফিরদৌস শিশির। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার আগেভাগেই একটা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর পরিকল্পনা মাথায় রেখেছিলেন। এখন প্রতিষ্ঠিত একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। জমজমাট ব্যবসা। প্রচুর টাকাপয়সা হাতে এসেছে। করোনার মধ্যে হালকা একটু ধাক্কা লাগতে গিয়েও প্রণোদনা ইত্যাদি দিয়ে সামলানো গেছে। দুই সন্তানের দুজনই প্রতিষ্ঠিত। তার আয়ের পরিমাণের কাছে ব্যয়ের পরিমাণ নস্যি। স্ত্রীর বয়স হয়েছে, চিকিৎসার পেছনে কিছুটা খরচ হয় শুধু। তার জন্য আগেও তেমন খরচ করতে হতো না বা সুযোগ ছিল না বা স্ত্রী তেমন খরুচে স্বভাবের ছিলেন না। ভূগোলে এমএ মাহমুদা, একটা কলেজে পড়াতেন। আগেও খুব সাধারণ একজন মানুষ ছিলেন। এখন শরীরের এটা-ওটা সমস্যায় আরও সাধারণ। পুরোনো পেইন্টিংয়ের মতো দেয়ালে ঝুলছেন।
ভিডিও কলের মেয়েটিকে ওড়না নামিয়ে রাখতে বলেছিলেন শিশির, আর কিছু ওড়না ছাড়া ছবিও পাঠাতে বলেছিলেন, অবসরে দেখবেন। অবসরে এ রকম ছবি দেখে এখনও বিমোহিত হন তিনি। ‘সিডিউসড’ হন! ইংরেজিটা বেশ চলছে এখন। সবাই একটুতেই সিডিউসড হয়ে যাচ্ছে! মাথার ভেতর সিডিউসড হওয়ার বীজ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে! পরনের কামিজ আর একটু টাইট হলে ফিগারটা আরও সুন্দর লাগত, এটুকুও বলেছিলেন মেয়েটিকে। মাহমুদা কি শুনেছে? নাকি হাওয়া থেকে ধরে বলছে?
বাড়িতে তার নিজস্ব কক্ষ আছে যেখানে নিজের মতো করে অনেকটা সময় কাটান। ব্যবসায়িক প্রায় সব কাজকর্ম ল্যাপটপে সেখানে বসেই করেন, বাকিটা অফিসে গিয়ে ছেলে সামলে নেয়। স্ত্রীর এসব শোনার কথা নয়। এর পরেও যখন মাহমুদা বললেন, ‘আমি আসলে ভেবে পাই না পুরুষ মানুষের সমস্যাটা কোথায়, শরীরে না চিন্তায়?’ তখন কথাটা ভাবায় তাকে।
ব্যবসা করার সময় থেকেই ফিরদৌস শিশির ঢাকা ক্লাবের সদস্য। এরও আগে থেকে বন্ধুবান্ধবের সৌজন্যে যাতায়াত ছিল ঢাকা ক্লাবে। দেখতে সুদর্শন হওয়ায় ও সরকারি সম্মানীয় পদ থাকায় প্রায়ই নিমন্ত্রণ পেতেন। উজ্জ্বল শ্যামলা, ছয় ফুটের কাছাকাছি মেদহীন সুগঠিত দেহ। সঙ্গে বুদ্ধিদীপ্ততা। আকাশে হালকা মেঘ থাকলে আবহাওয়াটা যেমন কমনীয় লাগে, তার চোখের ভাবটায় তেমনই একটা আবেদন ছিল বাড়তি পাওয়া। এখন চোখের নিচে ফোলা হওয়ার কারণে সেই ভাব উবে গেছে। নানারকম অনুষ্ঠানে যেতে হতো। অবসর নিয়ে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে চিত্র বদলেছে। এখন তিনিই নিমন্ত্রণ করেন বন্ধুবান্ধবকে।
প্রায়ই দামি গাড়ি নিয়ে রাতে ক্লাবে আড্ডা দিতে যান, দামি ড্রিংক করান বন্ধুদের, এটা-সেটা গিফটও করে থাকেন অনেককে। ক্লাবের সিকিউরিটিদেরও ঈদ পর্বে বখশিশ দিয়ে খুশি রাখেন। যেসব বান্ধবীর নিজ বাড়িতে ড্রিংকের সুযোগ নেই, মূলত তাদেরই গিফট করেন তিনি। যাদের বাড়িতে সে রকম সুযোগ নেই তাদেরই একজন হঠাৎ হঠাৎ ফোনে আবদার ধরে, ‘শিশির ভাই, একদিন নতুন কোনো ব্র্যান্ড খাওয়ান তো। আগেরগুলো নয় কিন্তু। শক্তপোক্ত নেশায় যেন ধরে, এ রকম।’
এই বান্ধবী বাংলাদেশি হলেও পরিচয় হয়েছিল কলকাতায়। সেই থেকে এখনও বন্ধুত্ব। ওহ্, খেতেও পারে মহিলা! নাম, নীতু। নীতু একেবারে বেহেড মাতাল না হওয়া পর্যন্ত থামতে চায় না। ষোলোভাগ ন্যাকামি রপ্ত করা। সব দুঃখের বিলাপ, এমনকি বরের পারফরম্যান্স সম্পর্কেও হড়হড় করে বলে যায়। এইসব বিলাপ সরস হলেও একঘেয়েমি মনে হতেই এড়ানোর জন্য নিজের গাড়িতেই বাড়ি পৌঁছে দেন শিশির। আগে খুব পছন্দ করলেও এখন সেই ক্রেজটা আর অনুভব করেন না।
কিছুদিন আগে নীতুর চেয়ে বয়সে কম আরেকটি মেয়ের সাথে পরিচয় হয়েছিল এক বন্ধুর মাধ্যমে। ক্লাবে এসেছিল মেয়েটি।
কথা বলামাত্র মনে ধরেছিল মেয়েটিকে! মাঝামাঝি উচ্চতায় চমৎকার ফিগার, হালকা ফর্সা ভাব থাকলেও খুব যে সুন্দরী তা নয়, কিন্তু যথেষ্ট আকর্ষণীয়া। বেশি ফর্সা মেয়েদের আবার তেমন ইয়ে লাগে না বরং একটু বোকাই লাগে। মেয়েটি যে বেশ, বন্ধুকে ঠোনা মেরে বুঝিয়ে দিতেই পঁচাত্তর-ছিয়াত্তর বছর বয়সের বন্ধুও ভাঁজ পড়ে যাওয়া চোখ টিপে উত্তর দিয়েছিলেন!
মেয়েটি সামান্য এক পেগ ওয়াইনের সাথে কিছু কাজু নিয়েছিল। হাতে গ্লাস ধরার ভঙ্গিমাটা ছিল অসাধারণ! বুড়ো আঙুলসহ চকচকে নেইলপলিশ লাগানো তিনটি আঙুল দিয়ে চমৎকার ধরেছিল। দুটো আঙুলে সাদা লাল পাথরে আধুনিক নকশার দুটো আংটি। শিশির এমন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে দেখেছিলেন যেন ভ্যান গগের কোনো শিল্পকর্ম। বেচারা ভ্যান গগ। নিজ শিল্পকর্মের মূল্য ভোগ করতে পারেননি। অনেক পরে নাম জিজ্ঞেস করলে নীতুর মতো মেয়েটিও ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছিল তাকে।
ফিরদৌস শিশির গ্রাম থেকে আসা গোবরে পদ্ম ফোটা মেধাবী কেউ নন। তাদের শিকড়-বাকড়ে মেধা জড়ানো। বাপ-দাদা সবাই শহুরে মেধাবী ছিলেন। জেলা শহরের বিশাল জায়গা। গোলাভরা ধানে নয়, আরও নানারকম প্রতিপত্তির মধ্যে মানুষ হওয়া মানুষ তিনি। চুয়াত্তরের কৃত্রিম দুর্ভিক্ষের সময়েও পরিবারে কোনো আঁচড় পড়েনি। দেশ স্বাধীনের দু’তিন বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ সমাপ্ত করেই সরকারি চাকরি। তখন এসব চাকরিতে বাঙালি ছেলেরা সদ্য ঢুকতে শুরু করেছে।
দেশি-বিদেশি নানারকম ম্যাগাজিন সংগ্রহ করার অভ্যাস ছিল শিশিরের। পড়ার অভ্যাসের সাথে সাথে ফ্যাশন-সংক্রান্ত যাই পেতেন ফলো করতেন। চুলের স্টাইল, গোঁফের স্টাইল সবই দৃষ্টি কাড়ত সবার। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে চলেছেন এখনও। সাতাত্তর বছর বয়সেও চুলে কলপ তো দেন, লাল টকটকে শার্ট কিংবা টি-শার্টের সাথে জিন্সের প্যান্ট পরেন। এখনও মুখে পাইপ গুঁজে ছবি তুলে পোস্ট দেন।
ছাত্রজীবনে দু’একটি প্রেম করলেও বিয়ে করতে হয়েছিল বাবার পছন্দেই। প্রেম মানে, ঐ দু-একবার চিঠি চালাচালি করে ইতি টানা। হাত ধরে পার্কে ঘুরে বেড়ানো বা ঝোপের আড়ালে চুমুর কথা স্বপ্নেও ভাবা যেত না তখন। গভীর রাতে ভিডিও কলের কথা দুঃস্বপ্নেও না। তবে বিয়ের আগেই স্ত্রীর সাথে দেখা করে নিজের সম্পর্কে বলেছিলেন ফিরদৌস শিশির। শুনে তার স্ত্রী মাহমুদা মিটিমিটি হেসে বলেছিলেন, ‘আমারও একজনকে পছন্দ ছিল, বাবা রাজি হননি।’ মাহমুদার এই সত্য বলার সাহস পছন্দ হয়েছিল তার। তবে সত্য কথা হলো মাহমুদার কাউকে পছন্দ ছিল না, মজা করেছিলেন।
এই সেদিনও ক্লাব থেকে একটু বেশি রাতে ফিরে আসার পর মাহমুদা হালকা একটু অনুযোগ করার চেষ্টা করে শুধু বলেছিলেন, বয়স হচ্ছে, ‘এখন একটু থামো’।
থামাথামির কথা শুনলেই রেগে যান না ফিরদৌস শিশির, হাসেন। থেমে কে কতটা ভালো আছে তার অজানা নেই। চাকরি করতে গিয়ে কম মানুষ তো দেখেননি। মানুষ দেখে দেখেই তো চেহারায় আরও ধার এসেছে! একটা সময়ের পর মানুষের মুখের হাসি দেখেই বুঝে যেতেন আসল নকল। নারী-সংক্রান্ত দু’একটা কথার পরই পেট থেকে টেনে বের করে ফেলতেন মানুষটি কখন কোন চ্যানেলে হাঁটে। অবসরে গিয়েই ধর্মকর্ম নিয়ে মহাব্যস্ততা অথচ চাকরি জীবনে দুর্নীতির দিকে পাল্লা ঝোঁকা প্রায় সবার! শারীরিক কোনো সমস্যা শিশিরের নেই। প্রতিদিন সকালে হাঁটেন, ব্যায়াম করেন এখনও। অথচ কত সাধারণ, কত নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন করেও মাহমুদার কিডনির সমস্যা, হাঁটু ব্যথার সমস্যা।
সেদিন মেয়েটির আঙুলগুলো ধরার খুব ইচ্ছে হয়েছিল তার। তা ধরতে না পেরে দৃষ্টিতে ধরে রেখেছিলেন। নামটাও বেশ। মিষ্টি। ফোন নম্বর নিলেও পরদিনই ফোন করেন নাই। অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ধীরে সুস্থে ক্লাবে আরও একবার কথাবার্তা হওয়ার পর থেকেই যোগাযোগ করলেন। এরপর মেতে ওঠা!
এমনই হয়েছে বরাবর। নতুন কারও সাথে যোগাযোগ হলে নতুন করে মেতে উঠতেন। তাই বলে মাহমুদাকে অবজ্ঞা করেননি কখনও। মাহমুদা ছিলেন অন্য উচ্চতায়। আর কিছু না হোক, রাতে বিছানায় এক কাত হয়ে জড়িয়ে ধরার ভালোবাসা ছিলই। তাছাড়া বাড়িতে সংসার নামক সাম্রাজ্যে মাহমুদার উপস্থিতি একধরনের নিশ্চয়তা, সৌন্দর্য।
দ্বিতীয় দিন দেখা হওয়ার সময় বেশ কিছু বিষয় তার পুলিশি নজরে এসেছিল।
মিষ্টি নামে মেয়েটির চোখের পাতার ওঠানামা সহজে হয় না। অনেকেই চোখের পাতা ঘনঘন পিটপিট করে। এই মেয়েটির চোখের পাতা এত কম নড়ে যে মনে হয় স্থির হয়েই আছে। কথা বলার সময়ে মনে হয় কাছে নেই, অনেক দূরে বসে আছে। সবই শুনছে কিন্তু মনোযোগ অন্যখানে। যে দু’একবার চোখের পাতা পড়তে দেখেছে যখন, মনে হয়েছে মেয়েটি কিছু খুঁজছে। আকর্ষণের এটাই ছিল সবচেয়ে বড় কারণ।
পুলিশি জীবনেও বোধহয় অতটা দ্বিধাগ্রস্ত হতে হয়নি যেদিন প্রথম মিষ্টিকে কল দেওয়ার জন্য ফোন হাতে নিয়েছিলেন। ওপাশ থেকে প্রথমে খুব শান্ত ভাব থাকলেও মিনিট পাঁচেক পরেই বেশ উচ্ছল মনে হয়েছিল, যেটা সামনাসামনি দেখেননি। দ্বিধা কেটে নিজেকে অনেকটাই ঝরঝরে মনে হয়েছিল তার। যতই কথা এগোচ্ছিল ততই বুদ্ধিমতী মনে হয়েছিল ওকে। ব্যবসা-সংক্রান্ত অনেক কথাও হয়েছিল। আপ্লুত হয়েছিলেন তিনি।
করোনার দীর্ঘ বিরক্তিকর সময়টায় বেশ কয়েকবার নানা বিষয় নিয়ে কথা হয় তাদের। কথাবার্তা অনেকটাই সহজ, আন্তরিক হওয়ার পর এক সন্ধ্যার কথা। মেয়েটিকে স্নানরত অবস্থায় ভিডিও পাঠানোর কথা বললেন শিশির।
মিষ্টি হো হো করে হেসে উঠল। হাসি শুনে শিশির ভাই বিমোহিত হয়ে বোকার মতো বলেছিলেন, ‘ইটস মাই অর্ডার।’
হাসি থামিয়ে মিষ্টি যে কথাটা বলল তার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না ফিরদৌস শিশির।
‘আমি আপনার টাইপ নই, শিশির ভাই। আমার টাইপ একদম ভিন্ন। আমি নীতু টাইপও না।’
‘নীতুকে তুমি চেনো?’ থমকে গেলেও চটপট বললেন।
‘আপনার সব ফ্রেন্ডকে চিনি। আপনার পুরো প্রোফাইল আমার নখদর্পণে। শুধু নীতু কেন, আপনি যাদের সাথে সময় কাটান সবাইকেই প্রায় চিনি আমি। ইট’স মাই জব।’
এরপর বেশ ক’বার কথা বলার চেষ্টা করেন শিশির, কিন্তু মেয়েটি আর ফোন ধরেনি।