সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৭ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

নারী ফুটবলে প্রত্যাশা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

ইকরামউজ্জমান

দেশে বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্যে নারী ফুটবলে মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে যে উত্থান, এটি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি, বিশেষ করে বয়সভিত্তিক ফুটবলে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে আলোচনার জন্ম দেওয়া এবং সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দাগ কাটার বিষয়টি চাট্টিখানি কথা নয়। নারী ফুটবলে তো আমাদের কোনো ইতিহাস বা ঐতিহ্য ছিল না—এমন অবস্থা থেকে খেলাটি রপ্ত করে বর্তমানে যে স্তরে এসে পৌঁছেছে, এটি শুধু অসাধারণ নয়, গৌরবময় একটি উপাখ্যানও বটে। অসম্ভব চিন্তাকে সম্ভব করেছেন নারীরা ফুটবলে।নারীরা প্রমাণ দিয়েছেন আত্মবিশ্বাস, সাহস, অদম্য মানসিক শক্তি, ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ়তা কী জিনিস। এতে দক্ষিণ এশিয়ার যেকোনো দেশ থেকে আমাদের নারী ফুটবলাররা বয়সভিত্তিক ফুটবলে এগিয়ে আছেন। অবশ্যই ভারতের চেয়েও। এটি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে ইতিবাচক এবং আশা সঞ্চারী।

এটি বলতে পারি, নারীরা ফুটবলে আরো অনেক বেশি আস্থার সঙ্গে এগিয়ে যেতে সক্ষম হতেন যদি সঠিক রূপরেখা প্রণয়ন করে কাজ করা হতো।দেশের ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো ধারাবাহিকতার অভাব। অভাব পরিকল্পনামাফিক গুছিয়ে কাজ করার। ক্রীড়াঙ্গনে কখনো অগ্রাধিকার নির্ণয় করে কাজ করা হয় না।ক্রীড়াঙ্গনে প্রয়োজনীয় ক্রীড়াকাঠামো এবং অন্যান্য বস্তুগত সুযোগ-সুবিধার প্রকট অভাব। চিন্তা করুন, যে নারী ফুটবলাররা এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাঁদের জন্য দেশে কোথাও একটি ‘ডেডিকেটেড’ ফুটবল মাঠ নেই। নেই আধুনিক জিমনেসিয়াম। সরকারের তরফ থেকে নারী ফুটবলে নিয়মিতভাবে অর্থ বরাদ্দ করা হয় না। সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ছাড়া তো নারী ফুটবল এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
পদে পদে অর্থের প্রয়োজন আছে। বাণিজ্যিক পৃষ্ঠপোষকতা তো কম। ইচ্ছা এবং ঐকান্তিকতা থাকা সত্ত্বেও অর্থের অভাবে নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা সম্ভব হয় না। সম্ভব হয় না দেশের বাইরে ভালো এবং র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলগুলোর বিপক্ষে খেলে নিজ অবস্থানকে যাচাই করে নেওয়া। দুর্বলতা এবং সবলতা নিয়ে কাজ করা। ভালো খেলার তো বিকল্প নেই। ফুটবলে অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।বিভিন্ন বয়সের নারী ফুটবলারদের দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে স্কাউটিংয়ের মাধ্যমে তুলে এনে আবাসিক একাডেমিতে রেখে তাঁদের লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে, সেই সুযোগটি এতগুলো বছরে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এ ক্ষেত্রে সব আশ্বাস ‘মুখ থুবড়ে’ পড়ে আছে। পেশাদার ফুটবলে ক্লাবগুলো কেন নারী দল রাখতে চায় না—এর জবাব কার চাওয়ার দায়িত্ব।নারী ফুটবলে আমাদের প্রত্যাশা অনেকক্রীড়াঙ্গন বোঝা, বোঝা ক্রীড়াঙ্গনের প্রয়োজনীয়তা—আর সেই অনুযায়ী উদ্যোগ নিতে না পারলে তো কোনো কিছুই ফলদায়ক হবে না। ক্রীড়াঙ্গন এমন একটি জগৎ, যেখানে চিন্তার ব্যত্যয় ঘটলেই সবকিছু এলোমেলো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আজকের কাজ আজই করতে হবে। আগামীকালের জন্য অপেক্ষার অবকাশ নেই। মাঠের ফুটবল প্রতিদিন বদলাচ্ছে, রং পাল্টাচ্ছে।

নারী ফুটবল নিয়ে দেশের বাইরেও আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছে। প্রতিবারই দেশে ‘পেপার’ তৈরির সময় মনে হয়েছে নারী ফুটবলারদের ওপরে মহান আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমত আছে নতুবা তাঁরা যে পিছিয়ে থাকা অবস্থা থেকে গিয়ে আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের মঞ্চে আলো ছড়ান, নতুন নতুন গল্পের জন্ম দেন—এটি সম্ভব হতো না। এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করার পর প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে—এটি কিভাবে সম্ভব হলো? যারা কোয়ালিফাই করেছে, তাদের ফুটবলকাঠামো, তাদের প্রস্তুতি, তাদের সুযোগ-সুবিধা আর ফুটবলকে ঘিরে চিন্তা-ভাবনার সঙ্গে তো তোমাদের কোনো মিলই হয় না। বলেছি, আমাদের নারী ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস, প্রচণ্ড ইচ্ছা বাস্তবায়নের শক্তি এবং দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাই তাঁদের কামিয়াব হতে সাহায্য করেছে। দেশের মানুষ তাঁদের পেছনে ছিল, এটি একটি শক্তি। আরেকটি হলো নারী দলের সঙ্গে ভাগ্য সব সময় আছে। জাতীয় দলের পর অনূর্ধ্ব-২০ নারী দলও এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করেছে। আমাদের ছেলেরা যা পারেননি, জাতীয় এবং বয়সভিত্তিক নারী দল সেটি পেরে অনুপ্রেরণার উৎস হতে পেরেছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে জাতি চরিত্রের প্রতিফলন ঘটিয়ে নারীরা প্রমাণ করেছেন বাংলাদেশের মেয়েরা ফুটবলে কোনো অংশে ছেলেদের থেকে পিছিয়ে নেই, বরং এগিয়ে আছেন। তাঁরা সব সময় বড় স্বপ্ন দেখেন।

এবার আশা করা হয়েছিল নারী অনূর্ধ্ব-১৭ দল এএফসি এশিয়ান কাপে কোয়ালিফাই করবে। এর আগে অনূর্ধ্ব-১৭ নারী দল এএফসি এশিয়ান ফাইনাল রাউন্ডে ২০১৭ ও ২০১৯ সালে খেলেছে। এবার ছন্দঃপতন হয়েছে। চায়নিজ তাইপের কাছে বড় পরাজয়ের মধ্য দিয়ে মিশন শেষ হয়েছে। তবে এই ‘কম্পিটিশন’ থেকেও যথেষ্ট প্রাপ্তি আছে, যা আগামী দিনগুলোতে নতুন উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে কাজে লাগবে। নারী ফুটবলে যে বিষয়টি এখনো উপেক্ষিত, সেটি হলো দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাগুলোকে চিহ্নিত করে তাদের যথাযথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ। এই সুযোগ না থাকায় এন্ট্রি লেভেল থেকে শুরু করে ওপরের ধাপ পর্যন্ত সব সময় সম্ভাবনা এবং প্রতিভার অপচয় হচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে ভাবা এখন জরুরি। আমরা এখন কম বয়সের জনসংখ্যার দিক থেকে অন্যান্য দেশ থেকে অনেক ভালো অবস্থায় আছি। নারীদের ক্ষেত্রে এটি আরো ভালো অবস্থা। এই সুবিধাটাকে ক্রীড়াঙ্গনে কাজে লাগানোর এটাই সময়। আগামী ১৫ বছর পর এই সুবিধা আর থাকবে না। বয়সভিত্তিক নারী দল ভালো করছে ধারাবাহিকতার সঙ্গে—এতে নারীরা ফুটবল খেলায় অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। বয়সভিত্তিক দলগুলোকে যদি টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে বাস্তবধর্মী পরিকল্পনায় এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তাহলে কিন্তু জাতীয় দল নিয়ে চিন্তার বোঝা হালকা থাকবে। বিষয়টি হলো দায়িত্ব গ্রহণ এবং দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়া। নারী ফুটবলে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। ফুটবলাররা সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে দেশকে কিছু দিতে সব সময় প্রস্তুত। তাঁরা যাতে দেশকে অর্থবহ এবং গৌরবময় উপহার নিয়মিতভাবে দিতে পারেন এর জন্য দরকার সুস্থ ফুটবলময় পরিবেশ সৃষ্টি। নারী ফুটবলকে ঘিরে আমরা গত কয়েক বছর প্রচুর আবেগ প্রদর্শন করেছি। এই আবেগ কতটুকু কাজে লেগেছে? প্রয়োজন এখন আবেগের পাশাপাশি বাস্তবধর্মী উদ্যোগ গ্রহণ, যেখান থেকে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে ফলাফল। ফলাফল তো সর্বক্ষেত্রে শেষ কথা। নারী ফুটবল দল এমনভাবে তৈরি হোক, যেখানে বলা সম্ভব হবে মাঠে নামার আগে আমরা জয়ের জন্য খেলব। নারীরা খেলবেন আনন্দের সঙ্গে। চেষ্টা করবেন দেশের ফুটবলকে একটির পর একটি ধাপ অতিক্রম করে ওপরে তুলতে।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্লেষক। সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি, এআইপিএস এশিয়া। আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশন প্যানেল রাইটার, ফুটবল এশিয়া

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com