এশিয়া কাপে কখনও ট্রফির স্বাদ পায়নি বাংলাদেশ। ২০১২ সালে ওয়ানডে সংস্করণের আসরে ও ২০১৬ সালে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে ফাইনাল খেলাই তাদের সেরা সাফল্য। দুটিই ছিল দেশের মাঠে। এর মাঝে ২০১২ সালে শেরেবাংলায় সাকিব-মুশফিক-নাসিরদের সেই কান্নাভেজা চোখ আজও পোড়ায় কোটি ক্রিকেটপ্রেমীদের। এবারের এশিয়া কাপ হবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণে। এই সংস্করণের আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে ভারত, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান তো বটেই, আফগানিস্তানও বাংলাদেশের ওপরে। ২০ ওভারের এশিয়া কাপ সবশেষ হয়েছিল ২০২২ সালে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে সেবার শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের কাছে হেরে গ্রুপ থেকেই বিদায় নেয় বাংলাদেশ। এবারও লঙ্কানরা ও আফগানরা বাংলাদেশের গ্রুপসঙ্গী। এবারও তাই গ্রুপ পর্ব উতরানো খুব সহজ হবেনা। এছাড়াও গ্রুপে আছে হংকং।
তবে সেই চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ। এই যেমন জাকের আলী শুরুতে বললেন নিজের বিশ্বাসের কথা, এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়াটাই তার লক্ষ্য। পরে তিনি তুলে ধরলেন দলের আবহও। বাংলাদেশের এই ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে জোর প্রত্যয়, এশিয়া কাপে শিরোপার জন্যই খেলবেন তারা। গতকাল দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে জাকের বললেন, গ্রুপ পর্ব ছাড়িয়ে চূড়ান্ত সাফল্যই লক্ষ্য তাদের, ‘এবার এশিয়া কাপে আমরা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যেই যাচ্ছি। এটা ব্যক্তিগতভাবে বলতে পারি যে, আমি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই যাচ্ছি আর ড্রেসিং রুমেও সবাই এটা বিশ্বাস করে। বিশেষ করে আমাদের দলে এখন যে আবহ, সবাই যেমন চেষ্টা করছে, আমরা বিশ্বাস করি আমরা এবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য খেলবে।’
সেই আত্মবিশ্বাসের পালে জোর হাওয়া লাগাচ্ছেন একজন- জুলিয়ান উড। শুধু টি-টোয়েন্টি নয়, সীমিত ওভারের যেকোনো ফরম্যাটেই এখন মূল মন্ত্র- ‘পাওয়ার ক্রিকেট’। আধুনিক ক্রিকেটে বল উড়িয়ে মারতে পারাটা অনেক সময় ম্যাচের হিসাবই পাল্টে দেয়। এখানেই বারবার উঠে আসে বাংলাদেশের ঘাটতির গল্প। সেই ঘাটতি পূরণেই এশিয়া কাপের আগে বিসিবি এনে দিয়েছে বিশেষজ্ঞ পাওয়ার হিটিং কোচ উডকে। ঢাকায় প্রথমে স্থানীয় কোচ আর নারী ক্রিকেটারদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। এরপর শুরু করেছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের নিয়ে। রাজধানীতে তিন দিনের অনুশীলন শেষে নেদারল্যান্ডস সিরিজকে সামনে রেখে আগামীকাল থেকে সিলেটে শুরু হবে মূল স্কিল ক্যাম্প। এদিন উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান জাকের শোনালেন উডের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও, ‘আমাদের পাওয়ার হিটিংয়ের কিছু স্কিল নিয়ে কাজ হচ্ছে। কীভাবে আরও উন্নতি করা যায়। যারা জেনেটিক্যালি ভালো আছে, তারা কীভাবে আরও ভালো করতে পারে। যারা টাইমার, তাদেরকে কীভাবে আরও ২-৩ মিটার ভালো দূরত্ব দেওয়া যায়, ওই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ হচ্ছে।’
উডের সঙ্গে চুক্তি মাত্র ২৮ দিনের। আগামী ৩ সেপ্টেম্বরই দেশে ফিরবেন তিনি। তাই বৈপ্লবিক কোনো পরিবর্তনের সুযোগ নেই, সেটি ক্রিকেটারদের আগেই বুঝিয়ে দিয়েছেন ইংলিশ কোচ। ঢাকায় কিছু মৌলিক কাজ করানো হয়েছে, সিলেটে হবে তারই অনুশীলন- বাংলাদেশ দলে ‘পাওয়ার হিটার’ হিসেবেই পরিচিত জাকের বললেন, ‘এত তাড়াতাড়ি মন্তব্য করা ঠিক হবে না। কী উন্নতি হলো, কী না হলো, এগুলো বুঝতে আরেকটু সময় লাগবে। কিন্তু আমাদেরকে যে কাজগুলো দেওয়া হয়েছে, ওই কাজগুলো আমরা করার চেষ্টা করছি। এই সুইং প্র্যাকটিসগুলো কিংবা ডিফারেন্ট ড্রিলসগুলো অবশ্যই কাজে আসবে।’
কোচ উড এসেছেন একেবারে স্পেশাল এক ব্যাট নিয়ে। ‘প্রো ভ্যালোসিটি’ নামের এই ব্যাট ক্রিকেটারদের ব্যাট স্পিড আর হাত-চোখের সমন্বয়ে সাহায্য করে। ব্যাটটা ঘোরালে যে শব্দ হয়, সেটাই বলে দেয় শটের শক্তি কেমন হলো। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতিমধ্যে তার অনুশীলনের কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এই ব্যাট নিয়ে অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে জাকেরের হাসি, ‘যখন যে কয়টা সাউন্ড বের করতে বলে, ওইটা যদি বের করা যায়, তখন ভালো লাগে। কিন্তু অনেক ফোর্স লাগে এটা বের করতে। সাউন্ডটা বের করতে ফোর্স লাগে, আরও এফোর্ট দিতে হয়। তো এই জিনিসগুলো নিয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ করলে অবশ্যই কাজে দেবে।’ তবে নিজের খেলার ধরন পাল্টে ফেলতে হবে- এমনটা নয়। জাকেরের ভাষায়, ‘যারা টাইমার, তারা কীভাবে আরও ৪-৫ মিটার বাড়াতে পারে শটের দূরত্ব, সেটা নিয়ে কাজ করার কথা বলেছে। টাইমারদের কিন্তু পাওয়ার হিটার হতে বলেনি সে। টাইমাররা টাইমারই থাকবে। তারা কীভাবে শটের দূরত্ব আরও ৪-৫ বা ৬ মিটার বাড়াতে পারে…এটা হলে যা হবে, আগে যেটা আউট হতো, সেটা এখন ছক্কা হয়ে যাবে।’
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে সিলেটে বাংলাদেশের তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু ৩০ আগস্ট। এরপর এশিয়া কাপে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ আবু ধাবিতে ১১ সেপ্টেম্বর।