টানা দুটি আসরে এখন এশিয়ার মূল পর্বে খেলার হাতছানি মেয়েদের সামনে। মায়ানমারে সিনিয়রদের সাফল্যের পর লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ দলও ছুটছে একই গতিতে। আজ যদিও বড় চ্যালেঞ্জ, সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি তার পুরস্কারও।
টানা দুটি আসরে এখন এশিয়ার মূল পর্বে খেলার হাতছানি মেয়েদের সামনে। মায়ানমারে সিনিয়রদের সাফল্যের পর লাওসে অনূর্ধ্ব-২০ দলও ছুটছে একই গতিতে। আজ যদিও বড় চ্যালেঞ্জ, সামনে দক্ষিণ কোরিয়া। তবে চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনি তার পুরস্কারও।
এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ এই দলকে হারাতে পারলে বা রুখে দিতে পারলেও যে সিনিয়রদের মতোই অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়া কাপের মূল পর্বে উঠে যাবে মেয়েরা। হারলেও থাকবে বাছাইয়ের সেরা তিন রানার্স আপ দলের একটি হয়ে সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনা।বাংলাদেশ এর আগে অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ে দুইবার এশিয়ার মূল আসরে খেলেছে। সেই মারিয়া, মনিকা, ঋতুপর্ণা চাকমারাই পরে সিনিয়রে সেই স্বপ্ন পূরণ করেছেন। বাংলাদেশ এবার এশিয়ায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে বাংলাদেশ সম্প্রতি ২৪ ধাপ এগিয়ে আলোড়ন তুলে এখন ১০৪তম স্থানে। তবে পিটার বাটলারের শিষ্যরা দেখাচ্ছেন তাঁদের সামর্থ্য আসলে আরো অনেক বেশি। আগের দিন পূর্ব তিমুরকে ৮-০ গোলে উড়িয়ে বা তার আগে লাওসকে সহজেই হারিয়ে সেটি তাঁরা জানান দিয়েছেন। ৫৬তম স্থানে থাকা মায়ানমারকে হারিয়ে বড়রাও সেই সামর্থ্য দেখিয়েছেন কয়েক দিন আগে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে মুখোমুখি হতে যাওয়া কোরিয়াই সবচেয়ে শক্তিশালী দল বলতে হবে।
বাটলার খেলোয়াড়দের ভিন্নভাবে অনুপ্রাণিত করছেন, ‘এখানে জয়, হারের হিসাব করে আমরা নামব না। এই ম্যাচে আমাদের সর্বস্ব ঢেলে দিতে হবে, সেরা খেলাটা খেলতে হবে। তবে সেটা কী করে ঠিকঠাক করতে হয়, তা-ও শেখার ব্যাপার আছে। আমরা সেটাই করছি।’ গত পরশু লাওস অনেকটাই দেখিয়েছে শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কী করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হয়। কোরিয়াকে তারা আটকেই দিয়েছিল প্রায়, ম্যাচটা হারে ৮৩ মিনিটের একমাত্র গোলে। সেই লাওসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আসা আফঈদা খন্দকাররা তাই আশাবাদী হতেই পারেন।
পরশুর ওই ফলের পর বাংলাদেশ আজ শেষ ম্যাচে নামছে গ্রুপের শীর্ষে থেকে। বাংলাদেশ ও কোরিয়া দুই দলেরই সমান ৬ পয়েন্ট। দুই দলের গোল ব্যবধানও সমান, ১০। তবে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে বেশি গোল করে। কোরিয়ার গোল ১০টি, সেখানে ১১ গোল সাগরিকাদের। গ্রুপ শীর্ষে থাকায় আজ তাই ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সরাসরি মূল পর্বে খেলবে বাংলাদেশ। তবে সেই লড়াইয়ে রক্ষণভাগে আফঈদাদের বড় পরীক্ষাই দিতে হবে। আসরে ৪ গোল করা মোসাম্মৎ সাগরিকাও চাইবেন আরো একবার নিজেকে তুলে ধরতে।
পূর্ব তিমুর ম্যাচের বাংলাদেশ দল গতকাল ‘রিকভারি সেশন’-এ কাটিয়েছে। সাঁতার, স্ট্রেচিং করেছে। যারা খেলেনি, তারা জিম করেছে। সন্ধ্যায় কোরিয়া ম্যাচের পুরো পরিকল্পনা নিয়ে দলকে ব্রিফ করেছেন বাটলার। দলের ম্যানেজার মাহমুদা আক্তারের আশা শেষটাও ভালো হবে তাদের, ‘লাওসে এসে এ পর্যন্ত দুটি ম্যাচেই ভালো খেলে মাঠ ছেড়েছে ফুটবলাররা। আশা করি, আগামীকালও (আজ) ম্যাচ শেষে এই খুশিটা থাকবে আমাদের মাঝে। বাংলাদেশের মানুষকেও এই হাসিটা উপহার দিতে চাই।’ শেষ দিনে তিমুর লেস্তে ও লাওসও মাঠে নামছে। এ পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় রানার্স আপ হওয়ার সমীকরণেও নেই তারা।