জুনিয়র বিশ্বকাপ সামনে রেখে ডাচ কোচ সিগফ্রায়েড আইকম্যানের সঙ্গে আজ চুক্তি করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন। জাপানকে এশিয়ান গেমসে সোনা জেতানো কোচ গত দুই দিন বাংলাদেশের খেলোয়াড়দেরও পরখ করেছেন। গতকাল দল নিয়ে তাঁর ভাবনা এবং বিশ্বকাপের পরিকল্পনা ও লক্ষ্যের কথা শুনেছেন শাহজাহান কবির।
প্রশ্ন : বাংলাদেশ দলটাকে দুই দিনে কেমন দেখলেন?
সিগফ্রায়েড আইকম্যান : তরুণ একটা দল।চোখভরা স্বপ্ন। ছেলেরা হকি ভালোবাসে এবং কিছু একটা করতে চায়। ভারতে ভালো করার তাড়না আছে ওদের মধ্যে। এটা ইতিবাচক।তবে অনেক কিছুই করতে হবে আমাদের। যেমন—ফিটনেসের দিক দিয়ে ওরা ভালো অবস্থায় নেই। দেখতে শক্তপোক্ত মনে হলেও ওদের আসলে সেই শক্তিমত্তা বা দম নেই। চতুর্থ কোয়ার্টারে গিয়ে হাঁপিয়ে উঠছে এবং ভুল করছে।এটা নিয়ে আমরা কাজ করব।
প্রশ্ন : আপনি পুরোদমে কাজ শুরু করবেন আগামী মাস থেকে। তিন মাস সময় পাবেন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য। এটা কি যথেষ্ট?
আইকম্যান : এটা যথেষ্ট। তবে নির্ভর করছে আপনার লক্ষ্যটা কী তার ওপর।আমরা কি বিশ্বকাপ জিততে যাব, সেমিফাইনাল খেলব? না। কিন্তু আমরা বাংলাদেশের হকিটাকে এগিয়ে নিতে পারি। কারণ এই খেলোয়াড়রাই আমাদের ভবিষ্যৎ। ওদের তৈরি করতে হবে। ওখানে যেন ওরা পারফরম করতে পারে, সেই জায়গাটায় ওদের যেতে হবে। অবস্থান বা র্যাংক নিয়ে চিন্তা না করি, কারণ ওই পর্যায়টা আমরা জানি না এবং আমাদের গ্রুপটা যথেষ্ট কঠিন। তার চেয়ে বরং আমরা ভালো হকি খেলার চেষ্টা করব।
প্রশ্ন : তাহলে কোনো লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন না?
আইকম্যান : ওই যে বললাম, ভালো হকি খেলতে চাই। তারপর দেখি কোনো একটা দলকে চমকে দিতে পারি কি না। তবে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে পারব বলে মনে করি না। এর পরের স্থান নির্ধারণী খেলাগুলোতে আমরা কিছু ম্যাচ জেতার চেষ্টা করতে পারি।
প্রশ্ন : আপনি জাপান, পাকিস্তান, ওমানে কোচিং করিয়েছেন। জাপানকে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতিয়েছেন। বাংলাদেশকে নিয়ে আপনার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়াটা কী?
আইকম্যান : আমি এশিয়ান হকিতে কাজ করতে পছন্দ করি। আর এই দলটা সত্যি প্রতিভাবান। তাদের ভালো করার প্রবল ইচ্ছা আছে। সেটা সম্ভব। তবে হাল ছেড়ে দিলে কিছুই হবে না। আমি সব সময় যে দলগুলো উন্নতি করতে চায়, এমনদের নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি। আর এমন একটা দলকে নিয়ে চমক দিতে পারাটা দারুণ ব্যাপার।
প্রশ্ন : গ্রুপে ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষ আছে। কাদের বিপক্ষে চমক দেখানো সম্ভব, কোরিয়া?
আইকম্যান : তিনটা দলই শক্তিশালী এবং তাদের আলাদা খেলার ধরন আছে। হতে পারে সবগুলো দলের কাছেই আমরা হারব। তবে আমরা আশা করতে পারি যে, ওরা আমাদের হালকাভাবে নেবে। আর সেটাই আমরা কাজে লাগাব। আর তার জন্য আমাদের অদম্য লড়াই করতে হবে। আর কোরিয়া যথেষ্ট সুশৃঙ্খল একটা দল, যেটা আমরা না। আমাদের কার্ড দেখার প্রবণতা আছে। বিশ্ব আসরে গিয়ে এই প্রবণতা ভোগাবে। একজনকে বাইরে খেলা মানেই গোল হজমের শঙ্কায় পড়া। এসব কাটাতে পারলে আমরা লড়াই করতে পারি। আর সেটা নিয়ে আমরা অবশ্যই কাজ করব।
প্রশ্ন : ইউরোপে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার ব্যাপারে কতটা জোর দিচ্ছেন?
আইকম্যান : ফেডারেশন টাকার সংস্থান করতে পারলে খুবই ভালো। না হলে বিকল্প দেখতে হবে।