সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

অনিশ্চিত মাত্রা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬
  • ২৬ বার পড়া হয়েছে

একজন পুরুষের ঔরস থেকে একজন নারীর গর্ভে আসতে যেহেতু তাকে কোনো নাম ব্যবহার করতে হয়নি ফলে–আধা ইউরোপীয় একজন চরিত্র, হয়তো যার মা’টা ছিলেন হাঙ্গেরিয়ান এবং বাবাটা ছিল পলিনেশিও নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যবিশিষ্ট একজন বিস্তৃতনাসা পীতবর্ণের মৎস্যজীবী। –এই ধরনের জীবন এবং জীবনের গল্পে ক্লান্ত বোধ করে ছেলেটা ভাবল– না এভাবে আর চলতে দেওয়া কোনো কাজের কথা নয়। এবার এমন একজন গল্পকারের গল্পকল্পে তাকে ঢুকতে হবে– যিনি তার ওপরে কোনো নাম আরোপ করবেন না, আবার এও যেন না হয়– যে মানুষ তাকে ভুলে যাক, ইত্যবসরে গোঁফ ওঠার বয়স পেরিয়ে আসা ছোকরাটা মনে মনে এটাও ভাবত বিশ্ব-বীক্ষণের অবিস্মরণীয় মানচিত্রের এই জায়গাটাতে আসতে তো তার অনেকদিন লেগে গেল এবং আরোপ করা নামগুলোই হয়তো তার এ রকম দেরি হবার কারণ। আর যার গল্পকল্পে ছেলেটা ঢুকবে বলে ভেবেছিল– কেরালার সমুদ্র উপকূলবর্তী সেই লেখক ছেলেটার মনের অবস্থার সবটুকুই যেহেতু বুঝতে পারলেন– তাই তিনিও তাঁর পাঠকদের ছোকরাটার নাম সম্পর্কে স্থির হতে দিলেন না। তবে আমরা লোকাচারবশত লেখকের নামটা জানতে পেরেছি গল্পটা শুরু হওয়ার আগেই– মনিন্দ্রম রঘুনাথন। ছেলেটার সাথে রঘুনাথনের দেখা হয়েছিল এমন কথাও কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তিনি ছেলেটার ব্যাপারে বলতে শুরু করেই লিখলেন– হতে পারে ভাগাড়ের সাথে সম্পর্কযুক্ত একজন ময়লাটানা হাফ-ট্রাক চালকের নাম– পাভলুশকা অথবা মার্কো অথবা আবদেল মানাফ অথবা ড্যানজেল। হতেও পারে যে– সে এখন একজন সুরবিন্দর, যে কিনা ভারত থেকে মাইগ্রেট করে আসা খালিস্তানপন্থি একজন নারবিন্দারের তিসরা প্রজন্ম। কুইবেকের এক কোণ ঘেঁষে মাঝারি আকারের একটা হ্রদে ঘেরা শহরে তাদের বাস। তবে এমনটা হবার কোনো নিশ্চয়তাও গল্পটার কোথাও লেখা ছিল না। নিকটবর্তী জলাশয় থেকে মাছ ধরে তার বাবা দীর্ঘদিন একনাগাড়ে সচল থাকা একটা হাফ-ট্রাকে করে বয়ে এনে শহরের আড়তে জমা করত। আর রাতের হিসাবনিকাশের বাদে হাতে নগদ এলে মদ গিলত দেদার। সেসব বেশ কিছুকাল আগের কথা, স্মৃতি ঝাপসা হয়ে এলেও তার মনে পড়ে তখন তার মা’টা একটা রুটির দোকান চালাত। মোগল আমল থেকে রুটির কারবার করা একটা পরিবারের একজনের কাছ থেকে তন্দুরবাজির নানান কায়দাকৌশল শিখে ফেলতে মা’টার খুব বেশি দেরি হয়নি। তন্দুর থেকে বের করেই রুটিগুলোর ওপর গলে চারিধারে ছড়িয়ে যাবার জন্য– আগে থেকে কুচি করে রাখা মাখনের ক’টা টুকরো ছড়িয়ে দিত সে। তাতে যেন রুটিগুলোর বোল ফুটত– আর দেখাত যেন মদখোর বুড়োটার টাক মাথার মতন। ‘আমারে খেয়ে দেখোনা’ বলতে বলতে তারা মানুষজনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকত। প্রাচ্যদেশের রীতি মেনে গরুর দুধের বানানো চায়ে ভিজিয়ে রুটি খাবার চল বেশ প্রিয় হয়ে উঠেছিল– তা যে তার মায়ের গুণে সে কথা বলাই চলে আর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে মেকদার ঠিক রেখে সে বানাত নানখাতাই, চিবুতে হতো না– গালে দিলে নাড়া পড়লেই যারা গলে যেত। তবে সে ময়দা মাখত-পাউন্ড-পুদ না সেরের হিসাবে তা আমরা কিছুতেই আর জানতে পারিনি। সন্ধ্যার পর নতুন নতুন বিয়ে হওয়া অনেক কজন বর-বউ গাড়ি চালিয়ে রুটি ভিজিয়ে খেতে আসত তাদের দোকানটায়। ট্রাম গাড়িতে চেপে বাউন্ডুলেরাও আসত। টাকা হারানো অকম্মা জুয়াড়িরাও দোকানটার খবর জানত। আমাদের মাছ ধরা লোকটা পাত্তর পাত্তর মদ না গিলে– এই সময় তার বউটাকে দোকানের কাজে মদত করলে হয়তো সেই দোকানটা আজও টিকে থাকত। তাদের সংসারটাও হয়তো ভাঙত না। আলাদা আলাদা জায়গায় দেখা না হওয়া মানুষদের মতো তাদের মরতেও হতো না। গল্পের শেষ প্রান্তে একদম শেষকালে মা’টাও মদ্যপ হয়ে উঠেছিল খুব। তবে তাদের একমাত্র ছেলেটা বুঝতে পারত না– যে অনেক নেশা হলে মা কাঁদত কেন। নতুন নতুন কাপড় জোগাড় করে কম্বলগুলোয় তালি পেটানো– এটাও হয়ে উঠেছিল মা’টার আরেক ধাঁচের নেশা– দু’ইঞ্চি পুরু হয়ে ওঠা কম্বলগুলোর ওপর-পিঠ সব সময় একদম ঝকঝকে নতুনের মতো দেখাত। শেষকালে মা’টা কাঁদত– কিন্তু ঠিক কী বলে যে সে বিলাপ করত– ছেলেটা তার কিছুই বুঝতে পারত না। হতে পারে সেটা ছিল তাজিকদের ভাষা অথবা গ্রাম্য পশতু অথবা অন্য কোনো কিছু। ছেলেটা কোনোদিন তার বালিকাকালের মাতৃভাষা শোনেনি তাই– সেই বিলাপের আগামাথা সবটাই তার কাছে অচেনা লাগত। আর বুঝবার চেয়ে মা’টা কী ভাষায় মাথাকুটে কাঁদছে– সেই বিষয়টা তাকে অবাক করে রাখত বেশি।
অবাক হবার সেই বিষয়টা ছিল তার পরিচিত যে কোনো বেদনার চেয়ে গভীর। সেইসব হাঙ্গামার ভেতর তার বাপের আমলের সেই লেক’টা কুইবেকে না হয়ে– সেটা যে কেন ট্যাঙ্গানিকার লেকটা হলো না– সেই বিষয়টা তেমন ঠাওর করে ওঠা যেত না, তাই ছেলেটার স্মৃতির সবকিছু ধূসর মতন দেখাত, যেমনটা আমরা পাঠকরাও দেখতে পাচ্ছি।
আর ছোকরাটার সাথে আমাদের কখনও কোনো কথা হয় না তাই আমরাও বুঝে উঠতে পারি না যে– কোথায় বাপের সাথে তার মায়ের দেখা হয়েছিল। আমাদের এদিককার ঘটনা হলে হতে পারত যে তার মা’টা ছিল কয়েক প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের ঢাকায় বাস করা একজন আর্মেনিয়ান যুবতী আর বাপটা সিলেটের হাওরের একজন কামুটে বোয়াল মাছশিকারি। লম্বায় যারা ছিল একেকটা মানুষের সমান। কিন্তু আসলে ছেলেটার বাবা-মাকে নিয়ে কি যে ঘটেছিল– তাদের নাম না জানা থাকায় আমরা তার কিছুই আর দিশা করতে পারিনি। তারা সবাই ছিল ইতিহাসের পাতা থেকে ছিটকে যাওয়া মানুষ, নাম খতিয়ানের বাইরের চরিত্র।
শীতের লম্বা লম্বা রাতগুলোতে মায়ের রেখে যাওয়া কম্বলখানা আর সারাটা দিন– যুগান্তর আমলের ভারী শেভ্রলে’র হাফ-ট্রাকটার সাথে কেটে যেতে লাগল ছেলেটার দিন, প্রায় কথা না বলেই পার হওয়া টুকরো টুকরো সময়, আর খুব প্রয়োজনীয় আরেকটা অভাব কেন যে সে অনুভবই করতে পারত না, সেই অভাবটা যেন এই গল্পটার কোনো অংশই নয়– সেই ব্যাপাটায় আমাদের যেন কোনো কিছু করারই নেই।
শহরের গুনে রাখা আটটা কোনা থেকে দিনান্তের আটটা আবর্জনাভর্তি কনটেইনার বয়ে একটা ভাগাড়ে এনে ডাঁই করাটাই ছিল তার করণীয়। পৌর কর্তৃপক্ষ হালকা একটা ক্রেন বসিয়ে দিয়েছিল গাড়িটার বগলের কাছে, মুফতে। শহর থেকে নাতিদীর্ঘ দূরত্বের এই ময়লাফেলা ভাগাড়টা ছোকরাটার যে খুব অপছন্দের জায়গা ছিল– এই বিষয়টাও নিশ্চিত হওয়া যেত না। কনটেইনারগুলো উপুড় করে দিয়ে খানিকক্ষণ জিরিয়ে নিতে ড্রাইভারের আসনটায় হেলান লাগিয়ে সব থেকে কাছের একটা পারিবারিক রেডিও স্টেশনকে ধরতে পারা গাড়ির রেডিও সিস্টেমটা সে চালিয়ে দিত। কখনও প্রবাদপ্রতিম বি. বি. কিং-এর অদ্ভুতভাবে টিউন করা গিটার অথবা মেনুহীনের সুর করে কাঁদতে পারা ভায়োলিন কখনওবা মাস্টার সালামত আলি খানের বার্লিন কনসার্টের অংশবিশেষ রেডিওটা সম্প্রচার করত। স্বামী-স্ত্রী আর তাদের একটা আট আরেকটা সাড়ে ছয় বছুরে ছেলে-মেয়ে নিয়ে সেই রেডিও স্টেশনটার স্বত্বাধিকারী পরিবারটা কষ্ট করে অনুবাদ এবং নাট্যরূপ দেওয়া ‘ঈশপের গল্পগুলো’ তারা প্রচার করত। মনে পড়ে একটা নাটিকায় আট বছুরে মেয়েটা এবং তার বাপ মিলে– এন্ডারসনের সেই গল্পটা প্লে করেছিল– যে গল্পটায় একটা ভূতকে বোতলবন্দি করতে দারুণ ফন্দি এঁটেছিল মেয়েটা। সে বলছিল– ও ভূত! তুমি তো সবই পারো দেখছি, আচ্ছা তুমি কি আমাদের এই পানি রাখার বোতলটায় ঢুকে আমাকে দেখাতে পারবে– তারপর না হয় আমাকে খেয়ো!
পারি তো! বলে করে দেখাতে যাওয়া ভূতটা হয়তো আজও পৃথিবীর কোনো এক ভাগাড়ভর্তি আবর্জনার তলায় চাপা পড়ে আছে… আমরা তা জানতে পারিনি।
রেডিও সম্প্রচারের খুঁটিনাটি জানা চারজনের সেই পরিবারটা থাকত ভাগাড়টা থেকে মাইল চারেক দক্ষিণে– একটা দোতলা বাড়ির উপরতলায়, নিচতলায় ছিল তাদের রেডিওখানাটা– শহর আর ভাগাড়টার মাঝ বরাবর। ছেলেটা ভাবত একদিন গিয়ে তাদের সাথে কিছু কথাবার্তা বলে আসবে সে– যেটা আজও হয়ে ওঠেনি। সে বুঝতে পারত মিষ্টি করে কথা কওয়া রেডিওর সেই ছোট্ট মেয়েটার জন্য– কোথায় যেন তার একটু মায়া বোধ হতো। মায়া বলতে ওটুকুই তার জানা হয়েছিল। মায়ের হাতের তালি পেটানো পুরুষ্টু কম্বলটা গায়ে চড়িয়েও কখনও সে মায়ের জন্য মায়া বোধ করত না তেমন, শুধু নিজের রান্না নিজে করার সময় তার কখনও-সখনও মায়ের মুখটা মনে পড়ত। ছেলেটাকে কোনোমতেই অপ্রকৃতিস্থ বলা না গেলেও বিসম্বাদের বিষয়টা হলো যে– অনেক রকম প্রয়োজন সে অনুভব করতে পারত না। গাড়িটা কীভাবে চলে– জানার বিষয়টাই ছিল তার কাছে প্রিয়। তার মনে হতো গাড়িটারও হৃদয় রয়েছে। যন্ত্রটাও যেন মানুষের মতো আচার-ব্যবহার করা শিখে নিয়েছে। কার্বোরেটর, ফুয়েল সিস্টেম, হর্ন, প্লাগ, ইগনিশন সবার কথাই সে বুঝতে পারত। ছোকরাটার মনে হতো– সে নিজেও যেন একজন গাড়ি।
কোনো এক কর্মদিবসের দুপুর বারোটার দিকে আবর্জনা ঢিপি করার পর– ছোকরাটা বসে ছিল আপনমনে। তাকিয়ে ছিল– আনারসের খোসা, আলু-পেঁয়াজের ছাল-চামড়া, ছেঁড়া একটা হাফপ্যান্টের রোদ লেগে চমকে ওঠা বোতাম, দোমড়ানো অজস্র কাগজ, খাবারের শূন্য হওয়া প্যাকেট, ছেঁড়া জুতো, জং ধরে তুবড়ে যাওয়া একটা ট্রাঙ্ক, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া জন্মনিরোধক ট্যাবলেটের পাতা, একটা-দুটো কলার খোসা, ছিঁড়ে যাওয়া অনেক কাপড়চোপড়, মহামারিতে মরে যাওয়া ফার্ম হাউসের অনেক কটা মুরগির মরদেহ, তাদের লক্ষ্য করে উড়ে বেড়ানো মাংসভুক পাখিদের নেমে আসা জটলা– তাদের এখনই ত্যাগ করা গরম গরম বিষ্ঠা, একটা দুটো স্যানিটারি ন্যাপকিনে জড়িয়ে থাকা কোনো কিশোরীর হঠাৎ বড় হয়ে উঠবার লজ্জা, দ্বিধা, উৎকণ্ঠা, ভয় কেমন একটা অস্পষ্ট গর্ব, দরপতনের শিকার কতক আধপচা কুমড়ো, চমকে উঠবার মতো আয়তনের কতক অন্তর্বাস, ইম্পোর্টেড জুসের সদ্য সমাপ্ত কিছু প্যাকেট আর বিবরণের অধিক ধুলো– এতসব কিছুর ভেতরে কাত হয়ে থাকা একটা আধখালি ওষুধের শিশিতে আটকে গেল ছেলেটার চোখ– সে ভাবল ভাগাড়টাতে উপস্থিত হওয়া সবকিছুই একটা করে নিজস্ব গল্প যেন বয়ে এনেছে। গল্পহীন এখানে কেউ নেই, অথচ এসব ঠিক গল্পও যেন নয়।
অবচেতনে একটা শিশির চেহারা তার স্মরণে ছিল– ক্যান্সার আক্রান্ত হলে একদম শেষদিকে ডাক্তার বাবাকে যেটা খেতে দিয়েছিল। অনেক দিন পর আধখালি সেই ওষুধের আরেকটা শিশি এই ভাগাড়ে দেখতে পেয়ে ছেলেটা যেন চমকেই উঠল বলা যায়। শিশিটা আধখালি যেহেতু– ছেলেটা বুঝতে পারল– এখানেও ষাট, সত্তর কিংবা আশি বছরের দীর্ঘ একটা গল্প শেষ হয়েছে। ভাগাড়ের প্রান্তে কটা কাঁটাবহুল ধুতরা ফুলে এখানেও কয়েকটা প্রজাপতি থমকে থমকে উড়ে বেড়াচ্ছে। আড়াআড়ি উড়ে যাচ্ছে একসারি ক্রেন।
গাড়ি ঘুরিয়ে ফিরতে ফিরতে এই প্রথম ছেলেটা অনুমান করল যে– আবর্জনা নয়, সে আসলে নানানসব গল্পের পরিণতি জড়ো করে এই ভাগাড়ে। আর আমাদের সবার দৃষ্টির অগোচরে দস্তয়েভ্‌স্কির একটা ছিঁড়ে যাওয়া বই উপুড় হয়ে ছিল ভাগাড়টাতে– শেষ পাতাটায় লেখা ছিল– পৃথিবীকে আপনি যতটা জানতে পারবেন আপনার জীবন থেকে ততটা আনন্দ হারিয়ে যাবে, সেজন্য দেখবেন যে– নির্বোধরাই পৃথিবীতে অপেক্ষাকৃত আনন্দিত থাকে।
এই গল্পটার সব থেকে নিকটতর ছেলেটা– গাড়ি সারাই করতে আনন্দ পেত। এখানে কোথাও কীভাবে যেন প্রমাণিত হয় যে, দস্তয়েভ্‌স্কি জুয়াড়ি তো ছিলেনই, এমনকি তাঁকে মিথ্যাবাদীও মনে হয়। কেননা, গাড়ি সারাই কোনো নির্বুদ্ধিতার কাজ নয়। সেখানেও গাড়ির মরম বোঝাবুঝির মতো বুদ্ধিদীপ্ত প্রেমের যথোপযুক্ত উপস্থিতি রয়েছে। আর রেডিও স্টেশনের সেই ছোট্ট মেয়েটা এত দিনে বড় হয়ে উঠেছে কিনা– সে কথাও আমরা কেউ আর জানতে পারি না।
এইভাবে শেষহীন একটা গল্প বয়ে যেতে থাকে এবং হতে পারে এটাই পৃথিবীর একমাত্র গল্প, যা আমরা একটা ঘষা কাচের এপার থেকে দেখতে পেয়েছি।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com