সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩০ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ঐতিহ্য-আধুনিকতার শৈল্পিক সন্ধি

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৪৫ বার পড়া হয়েছে

উত্তরার গ্যালারি কায়ায় ২০২৬ সালের ৩ থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত দলগত শিল্প প্রদর্শনী ুক্রসরোডৃ নট এ প্রজেক্ট” সমসাময়িক শিল্পকলার এক চমৎকার মেলবন্ধন । এগারো জন প্রতিভাবান শিল্পীর অংশগ্রহণে এই প্রদর্শনীটি জীবনের বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এক শৈল্পিক সন্ধি তৈরি করেছে।
ুক্রসরোডৃ নট এ প্রজেক্ট” প্রদর্শনীটি  শিল্পীদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সামাজিক বাস্তবতা-বোধের এক সমন্বিত রূপ । গ্যালারি কায়া আয়োজিত এই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা চিত্রকলা ও ভাস্কর্যের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্য থেকে শুরু করে বৈশ্বিক নাগরিক জীবনের নানা সংঘাত ও সম্ভাবনাকে তুলে ধরেছেন । এই শিল্পীদের কাজে যেমন ফুটে উঠেছে গ্রামবাংলার ধুলোমাখা পথ, তেমনি আছে আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা এবং আধুনিক সমাজের জটিলতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ।
প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলোকে প্রধানত চিত্রকলা এবং ভাস্কর্য—এই দুই ধারায় ভাগ করে বিশ্লেষণ করা যায়।
চিত্রকলা: রং ও ভাবের জগত
আবদুস সাত্তার তৌফিকের কাজে শ্রমজীবী মানুষ এবং হারানো ঐতিহ্যের প্রতি গভীর মমতা ফুটে উঠেছে । তিনি এক্রেলিক মিডিয়ামে রং, রেখা এবং ফর্মের নিরীক্ষামূলক ব্যবহারের মাধ্যমে একটি স্বকীয় দৃশ্যভাষা তৈরি করেছেন, যা ‘সাইকেল অব দ্য রুরাল টাইম’ এবং ‘টেলস অব দ্য ফিল্ডস’ -এর মতো কাজে স্পষ্ট ।
বর্ষার স্নিগ্ধতা ফুটে উঠেছে আজমীরের জলরঙের সিরিজে । তিনি নরম ওয়াশ এবং টোনাল ট্রানজিশনের মাধ্যমে আকাশ ও জলের সীমানাকে একীভূত করেছেন, সেখানে স্থির বক বা ভাসমান নৌকা জীবনের শান্ত অথচ গীতিময় দিকটিকে তুলে ধরে ।
মনজুর রশীদ খুব সহজভাবে চারপাশের মানুষ ও প্রকৃতিকে উপস্থাপন করেছেন, যেখানে শৈল্পিক জটিলতার চেয়ে অনুভূতির গভীরতা বেশি কাজ করেছে । অন্যদিকে, নবরাজ রায়ের কাজে মানুষ ও প্রকৃতির নাজুক সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা যায় । তার ‘কম্প্লেক্স’ সিরিজটি আধুনিক জীবনের জটিলতাকে নির্দেশ করে ।
শাহানূর মামুনের চিত্রকর্মগুলোতে ফসল কাটার মুহূর্তের প্রাণচাঞ্চল্য ইম্প্রেশনিস্টিক তুলির টানে ফুটে উঠেছে । সোহাগ পারভেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে প্রান্তিক জীবনের সংগ্রাম ও জয়কে ক্যানভাসে ধারণ করেছেন, যা তার ‘ফিশিং বোট’ বা ‘রিভারব্যাঙ্ক’ কাজে দৃশ্যমান। দুজনের কাজই নিসর্গচিত্রে বাংলাদেশি চিত্রশিল্পের উৎকর্ষের প্রমাণ।
শহীদ কাজী দেশীয় ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক আধুনিকতার সেতুবন্ধন তৈরিতে সচেষ্ট । মৃত্যুর সৌন্দর্য তার চিত্রে ভাস্মর। সুশান্ত কুমার অধিকারীর ‘জয় ইন দ্য নেচার’ সিরিজটি গতানুগতিক রিয়েলিজমের বাইরে গিয়ে প্রকৃতিকে এক আধ্যাত্মিক এবং আবেগীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখার সুযোগ করে দেয় ।
ভাস্কর্য: কাঠামো ও উপকরণের ভাষা
অসীম হালদার সাগর সিরামিক ভাস্কর্যের মাধ্যমে আধুনিক সমাজের ভোগবাদী মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন । তার কাজে ‘ধীরতা’  এবং ‘স্থায়িত্ব’ প্রধান উপজীব্য। তার ‘আর্চ’ বা  ‘ব্লুপ্রিন্ট অব পিস’ ভাস্কর্যগুলো ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সামষ্টিক অভিজ্ঞতার এক গভীর সংলাপে পর্যবসিত হয়েছে ।
আজহারুল ইসলাম চঞ্চল তার সিরামিক কাজের মাধ্যমে ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় ইতিহাসের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন । তার ‘ইন্টারনাল স্ট্রেংথ’ সিরিজটিতে মাটির আধারের মাধ্যমে আত্মত্যাগ ও মর্যাদাকে রূপকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে ।
তেজস হালদার যশ ব্রোঞ্জ, কাঠ, লোহা এবং টেরাকোটার মতো বিচিত্র মাধ্যমে রিয়েলিজম ও অ্যাবস্ট্রাকশনের মাঝামাঝি এক নিরীক্ষামূলক ভাষায় কাজ করেন । তার ‘লাইন অ্যান্ড স্পেস’ এবং ‘লিগেসি অব বডি অ্যান্ড আর্থ’ কাজগুলোতে ফর্মের গতিশীলতা এবং উপাদানের ছন্দের মাধ্যমে মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে ।
সামগ্রিকভাবে, প্রদর্শনীটি আমাদের শৈল্পিক ধারার বিবর্তনকে খুব সার্থকভাবে উপস্থাপন করেছে। শিল্পীদের তুলি ও ছেনিতে যেমন ভালো লাগার স্নিগ্ধ প্রকৃতি ধরা দিয়েছে, তেমনি সমাজ ও মানুষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের ‘মন্দ লাগা’ বা নেতিবাচক দিকগুলোও বিশ্লেষিত। প্রদর্শনীটি ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি আধুনিক ফর্ম ও প্রযুক্তির উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমসাময়িক শিল্পকলাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলেই মনে করেছেন দর্শক ও সমালোচকবৃন্দ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com