কে তুমি স্বপ্নের মাঝি
আসাদ মান্নান
বুকের বাঁ পাশে নদী, ডান পাশে কষ্টের নীলিমা;
অদৃশ্য সবুজে জ্বলে বসন্তের আগুন প্রতিমা।
সময়ের উল্টোপিঠে জীবনের বাস্তুচ্যুত সুখ;
পূজারি মন্দিরে রাখে ঈশ্বরের রক্তমাখা মুখ।
ক্ষমতা উলঙ্গ নৃত্যে সভ্যতার বুকে হানে ছুরি;
বিদীর্ণ আকাশ যেন সুতোহীন পেন্টাগনি ঘুড়ি।
মানুষ মানুষ ছেড়ে দানবের সঙ্গ পেতে চায়–
বেসুরো নিরুর বাঁশি দেশে দেশে বাজে– কে বাজায়?
অস্তগামী সূর্যটাকে বুকে ডাকে তমাল যুবতী:
কে তুমি স্বপ্নের মাঝি– বৈঠাহীন আলোর সারথি?
আলোকে আড়ালে নিয়ে অন্ধকারে ডুবে গেছে দিন!
জীবন ফুরিয়ে গেলে শোধ হবে কি জন্মের ঋণ?
কী হবে লালন করে মানুষের জন্তুর জীবন,
যদি না মানুষ হয় মানুষের প্রকৃত স্বজন!
তোমার নাম জপ করে
শোয়াইব জিবরান
আমার ভেতর তোমা নামে পাখি
ওড়াউড়ি করে
আমার মন তো এক দিওয়ানা মাওলানা
তোমার নাম জপ করে।
এ পাঁজর থেকে ও পাঁজরে বসে
বুকের শুকনো বৃক্ষ ডালখানা নড়ে
আমার ভেতর তোমা নামের পাখি ওড়াউড়ি করে।
আমি তারে দিই প্রেম নামের শস্যদানা
তবু নাহি চুপটি করে বসে
আমার ভেতর তোমা নামের পাখি ওড়াউড়ি করে।
মাঝে মাঝে তোমার নরম পালক খসে
দিয়েতে পড়ে
আমার ভেতর তোমা নামের পাখি ওড়াউড়ি করে।
দেয় না ঘুমুতে রাত্রিরে
জবালায় ভীষণ দিনে
আমার ভেতর তোমা নামের পাখি ওড়াউড়ি করে।
কেন যে পোষিতে গেলাম তোমারে
আমার গহিন বনের ভেতর
এখন ছুটিয়া বেড়াই
ধরিতে না পাই
চঞ্চল থাকি সদাই
ধরিবার আশে
আমার ভেতর তোমা নামের পাখি
সদা ওড়াউড়ি করে।
আমার মন তো এক দিওয়ানা মাওলানা
তোমার নাম জপ করে।
নিরুপায় কাল
মনিজা রহমান
চন্দ্রাহত প্রজাপতি লুকায় মুখ ঘাসের সমান্তরালে
বিরাণ বাগানে রূপবান জয়তুন-ফুলের আড়ালে
উদ্ভ্রান্ত জেগে থাকে আদিগন্ত বারুদের ঝাঁঝ
বাতাসে নজরদারি, কারা যেন সন্তর্পণে শত্রু খোঁজে।
উনুনের সামনে যে বধু একান্তে ভেজা চোখ বোজে
তার কাছে যুদ্ধ মানে চালের দাম, দুগ্ধহীন বুকজুড়ে ক্ষুধা,
দিনরাত নিষ্কলুষ বাতাসের খরা, বেদনার নকশাদার খাঁজ।
গোলাপ বাগানে তবু ঘুমহীন অনিন্দ্য সুধা।
নগ্ন নদীতে ভাসে পালতোলা হিংসার আগুন
নিঃশব্দে কেঁদে ওঠে যুদ্ধকালের বিনম্র ফাগুন
শস্যহীন প্রান্তরে নির্বাক কাকতালীয় কৃষক
লাঙলের ফলায় রক্ত, মধ্যাহ্নের রোদও ভয় পায়
গর্তজীবী সাপ, একটি বাগানও নয় নিষ্কণ্টক
বিধ্বস্ত অন্তরীপে সশস্ত্র অর্জুনও নিরুপায়।
জীবন শপথ
আরিফ মঈনুদ্দীন
বিনয়-বেহালা নিয়ে ঘুরি
ভিসার আঞ্জাম নেই– ছাড়পত্র শুধু
টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া– এইটুকুই নমুনা
আর বেশি প্রয়োজন নেই
দিঘল স্বপ্নরা প্রাণ পেলে এতেই ফুটবে ফুল
সৌরভের মাতাল মৌতাতে
সীমা লঙ্ঘিত হওয়ার আগেই হাল ধরবে তারা
বিনয় বেহালা কাঁধে নিয়ে যারা সুর তুলছে–
মানবতার সুর
অগ্রগণ্য সিপাহসালারের আদেশে
যারা বুক পেতে দেবে ট্রিগার সমুখে
এই সাহস যাদের বুকে বাসা বেঁধেছে তারাই
বেহালায় সুর তুলবে– মহান সুর
বারুদ খরচ– তার আগে যদি ফুল থেকে ফল হয়–
এখানেই সফলতা–
সাফল্য কথায় ভরে যাবে পৃথিবীর সবগুলো সাদা পাতা–
শান্তির বারতা নিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াবে–
বেহালাবাদক বলিবে সর্বদা সব সত্য কথা
সত্যের শক্তিতে রচিত হবে মাঠ
যে বিশাল ময়দানে সবাই হাত সটান করে
দাঁড়াবে। ধারালো কণ্ঠে তুলে নিবে
তারা জীবন-শপথ পাঠ।