সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বইয়ের প্রাণে তারুণ্যের প্রাণ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মানুষের বই পড়ার অভ্যাস সেই আদিকাল থেকেই। এই পাঠাভ্যাসের তথ্য সভ্যতার শুরু থেকে। প্রথম দিকে বই অবশ্য দুর্লভ ছিল। তারপর যখন বই হয়ে উঠল কাগজে ছাপানো বস্তুতে, তখন সেটি সুলভ হয়ে উঠল। সাধারণ মানুষও বই পড়তে শুরু করল। বই পড়া শুরু করার পরই বদলাতে শুরু করল জগৎ। লিখেছেন আশিক মুস্তাফা

স ময়ের তরুণরা প্রযুক্তিতে ডুবে থাকলেও প্রযুক্তিই জ্ঞানের সর্বোচ্চ ধাপ–এমনটা মনে করেন না। তারুণ্যের এগিয়ে চলার সঙ্গী হয়ে উঠছে বই। তাই বলে প্রযুক্তিকে যে তারা দূরে ঠেলে দিচ্ছেন তা না। যতটা কাজে লাগাতে পারেন ঠিক ততটাই প্রযুক্তিমুখী থেকে বইকে আপন করে নিচ্ছেন। বইয়ের প্রাণে মেলাচ্ছেন প্রাণ। যদিও এবারের বইমেলাটা শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষে এসে। চলবে মার্চের ১৫ তারিখ পর্যন্ত। তবু প্রথম দিন থেকেই জমে উঠেছে মেলা। মেলায় এবারও সবচেয়ে বেশি আনাগোনা তরুণদেরই।

অনলাইনের এই সময়ে
এটিও ধ্রুব সত্য। যুগ যুগ ধরে বই পড়ার কথা উঠলেই কেমন যেন লাগে অনেকের! মোটেই ভালো লাগে না। এখন তো দিনমান কেবল অনলাইন আর অনলাইন। যতক্ষণ ইউনিভার্সিটিতে ক্লাস থাকে ততক্ষণ বই নিয়ে বসে থাকতে হয়। সেই ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে বসবাস। প্লে, নার্সারি, কেজি, ওয়ান, টু…। চলছেই। পাঠ্যবইয়ের ওপর বিরক্তি ধরে গেছে অনেকের। সে জন্য গল্প-উপন্যাস পড়ার তো প্রশ্নই আসে না। বইমেলাতেও যাওয়া হয় না সামাজিক মাধ্যম ভূতের কারণে! এমন অনলাইন পাগলদের পারলে ধরে বইমেলায় নিয়ে যান। দলবেঁধে হইহই করতে করতে ছোটে যান মেলায়। মেলায় আসা এত এত মানুষ দেখে অবাকই হবেন সামাজিক মাধ্যমপ্রেমী কাছের মানুষটা। পারলে নিজেদের উদ্যোগে তাঁকে বই উপহার দিন। হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলুন–বইটা পড়ে জানাবি, কেমন লেগেছে।

বইয়ের পাতায় ঘোর
অনলাইনপ্রিয় মানুষটির যখন অনলাইনে থাকতে ইচ্ছা করবে না, মোবাইলের ব্যাটারির চার্জ ফুরিয়ে আসবে, তখন ঠিকই কাছের মানুষ কিংবা বন্ধুদের খোঁচা হজম করে বইটা হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করবেন। পড়তে গিয়ে টেরই পাবেন না যে, কখন তিনি দশ-বিশ পেরিয়ে একশ পাতার ওপর পড়ে ফেলেছেন। সত্যিই বইটা যদি ভালো লাগে তবে পাতার পর পাতা টেনে নিয়ে যাবে একেবারে শেষে। রাতেই বইটা শেষ করে ফেলবেন। তারপর বেড়ে যাবে কৌতূহল। বুঝতে পারবেন, বইয়ের পাতায় লেপ্টে থাকে মহাকাল!

একটু পেছনে ফিরে
মানুষের বই পড়ার অভ্যাস সেই আদিকাল থেকেই। এই পাঠাভ্যাসের তথ্য পাওয়া যায় সভ্যতার শুরু থেকে। প্রথম দিকে বই অবশ্য দুর্লভ ছিল। তখনকার বই ছিল তালপাতার কিংবা মাটির পাতে। তারপর যখন বই হয়ে উঠল কাগজে ছাপানো বস্তু, তখন তা সুলভ হয়ে গেল। সাধারণ মানুষও বই পড়তে শুরু করল। বই পড়া শুরু করার পরই বদলাতে শুরু করল জগৎ। বই কেন পড়া দরকার, সে সম্পর্কে দুনিয়াখ্যাত মহামানবরাও দিয়ে গেছেন নানা উক্তি। যেমন– স্পিনোজা  বলেছেন, ‘ভালো খাবার পেট ভরায় আর ভালো বই মানুষের আত্মাকে পরিতৃপ্ত করে।’ দেকার্তে বলেছেন, ‘ভালো বই পড়া মানে সেরা মানুষের সঙ্গে কথা বলা।’ ফরাসি যোদ্ধা ও সম্রাট নেপোলিয়ন তো জাহাজডুবির আগে পর্যন্ত বই পড়ার কথা বলেছেন। তাঁর মতে, অন্তত ষাট হাজার বই না থাকলে জীবন অচল। জন মেকলে বলেছেন, ‘অজস্র বই নিয়ে গরিব হয়ে ছোট্ট ঘরে বাস করব, তবু এমন রাজা হতে চাই না, যে বই পড়তে ভালোবাসে না।’

গবেষকরা যা বলেন
বই পড়লে মানুষের জীবন এবং দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাতে বাধ্য। মন ও জীবনযাপনে কেমন প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে গবেষণাও হচ্ছে জগৎজুড়ে। তেমনি কিছু গবেষণার ফল এমন–বই আলঝেইমার রোগ প্রতিরোধ করে। বই পড়া মানেই আপনি আরও বেশি জানতে পারছেন। প্রতিদিন নতুন কিছু। বই পড়ুয়ারা অন্যদের চেয়ে বেশি সংস্কৃতিমনা, বেশি জনপ্রিয়। রোগ নিরাময় করতে পারে বই। বাড়ায় স্মৃতিশক্তি। শুনলে হয়তো অবাক হবেন, বই পড়ুয়ারা বেশি আবেদনময় বা আবেদনময়ী হয়। তাছাড়া শিশুর জন্য তো বই পড়ার তুলনাই হয় না। কারণ বই কল্পনাশক্তি বাড়ায়। কে না জানে, দুনিয়ার যত আবিষ্কার বা উদ্ভাবন, যত মহৎ সৃষ্টি সবকিছুর মূল কল্পনাশক্তিরই বিকাশ।

তবে চলুন বইমেলায়
মাঝে মধ্যে আমরা প্রচণ্ড উদাসীন হয়ে যাই। এই উদাসীনতা কাটাতে বইয়ের বিকল্প নেই। তাই বই পড়ার অভ্যাস করুন। নিজের ভেতর থেকেই নিজেকে বদলে ফেলুন। সব তরুণের কাছেই বই হয়ে উঠুক প্রেমিক কিংবা প্রেমিকার মতোই! সময় করে মেলায় যান। বই হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করুন, কোলে রাখুন, ভালো লাগলে বুকে চেপে ধরুন, মুখ ঢেকে রাখুন বই নামের প্রিয় আঁচল দিয়ে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com