সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০১:৩৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

কামরুল হাসান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

চিত্রশিল্পী কামরুল হাসানের প্রকৃত নাম আবু শরাফ মোহাম্মদ কামরুল হাসান। ১৯২১ সালের ২ ডিসেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস ছিল পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার নারেঙ্গা গ্রামে। পিতা মোহাম্মদ হাশিম ছিলেন তিলজলা গোরস্তানের সুপারিনটেনডেন্ট। পরবর্তী সময়ে তাঁর শিক্ষাজীবন কাটে কলকাতায়। নগরীর মডেল এম ই স্কুল [১৯৩০-৩৫] ও কলকাতা মাদ্রাসায় [১৯৩৬-৩৭] প্রাথমিক শিক্ষালাভ করার পর ১৯৩৮ সালে কলকাতার গভর্নমেন্ট স্কুল অব আর্টসে ভর্তি হন কামরুল হাসান। সেখান থেকে ১৯৪৭ সালে চিত্রকলায় স্নাতক হন। ছাত্রজীবনে চিত্রাঙ্কনের পাশাপাশি তিনি বয়-স্কাউটস, শরীরচর্চা, ব্রতচারী আন্দোলন, শিশু সংগঠন মণিমেলা, মুকুল ফৌজ ইত্যাদি কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪৫ সালে শরীরচর্চা প্রতিযোগিতায় তিনি বেঙ্গল চ্যাম্পিয়ন হন।
দেশ বিভাগের পর কামরুল হাসান ঢাকা চলে আসেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের সঙ্গে মিলিত হয়ে ঢাকায় একটি আর্ট স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন [১৯৪৮]।
কামরুল হাসানের চিত্রকলার প্রধান উপাদান নর-নারী [বিশেষত রমণীর শরীর], পশু, পাখি, মাছ, সাপসহ নানান প্রাকৃতিক উপাদান। এসবের মধ্য দিয়ে তিনি আবহমান বাংলার গ্রামীণ সমাজের সামগ্রিক রূপ, বাংলার নিসর্গ উঠে আসে। নিসর্গের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা সেখানে প্রতিফলিত হয়। সুতরাং সাধারণ মানুষ গভীরভাবে তাঁর শিল্পকর্মের সঙ্গে সংলগ্নতা অনুভব করেন।
যার ধারাবাহিকতায় তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনসহ অগণিত সামাজিক আন্দোলনকে প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন। তাঁর অঙ্কিত চিত্রকলা ষাটের দশকে বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশের আন্দোলনে, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে জনসাধারণকে দারুণভাবে উজ্জীবিত করে।
এখানে কামরুল হাসানের মাছের স্বপ্ন ছাপচিত্রটি উপস্থাপিত হলো।
কামরুল হাসানের চিত্রকলায় লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি ‘পটুয়া কামরুল হাসান’ নামে পরিচিতি লাভ করেন। তিনি বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার চূড়ান্ত নকশা ও গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সরকারি মনোগ্রাম তৈরি করার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দেশ-বিদেশে তাঁর চিত্রকলার অনেক একক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেমন- ঢাকা [১৯৫৫, ১৯৬৪, ১৯৭৩, ১৯৭৫, ১৯৯১, ১৯৯৫], রেঙ্গুন [১৯৭৫], রাওয়ালপিন্ডি [১৯৬৯] ও লন্ডন [১৯৭৯]। অসংখ্য যৌথ প্রদর্শনীতেও তিনি অংশগ্রহণ করেন।
চিত্রকলায় অসাধারণ অবদানের জন্য কামরুল হাসান বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মানে ভূষিত হন। সেসবের মধ্যে প্রেসিডেন্ট পুরস্কার [১৯৬৫], কুমিল্লা ফাউন্ডেশন স্বর্ণপদক [১৯৭৭], স্বাধীনতা দিবস পুরস্কার [১৯৭৯], চারুশিল্পী সংসদ সম্মান [১৯৮৪], বাংলা একাডেমির ফেলো [১৯৮৫] এবং কাজী মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন পুরস্কার [১৯৮৫] উল্লেখযোগ্য। কামরুল হাসানের ‘তিনকন্যা’ চিত্রকর্ম অবলম্বনে যুগোস্লাভিয়া সরকার [১৯৮৫] ও ‘নাইওর’ চিত্রকর্ম অবলম্বনে বাংলাদেশ সরকার [১৯৮৬] ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে। ১৯৮৮ সালের ২ ডিসেম্বর মহান এই চিত্রকর মৃত্যুবরণ করেন।
সূত্র : বাংলাপিডিয়া, সৈয়দ আজিজুল হক
প্রশ্ন
১. কামরুল হাসানের আসল নাম কী?
২. ছবিতে লৌকিক ও আধুনিক রীতির মিশ্রণ ঘটায় তিনি কোন নামে অভিহিত হতে থাকেন?
৩. যুগোস্লাভিয়া সরকার কামরুল হাসানের কোন ছবি স্মরণে ডাকটিকিট প্রকাশ করেছে।
কুইজ ৮৭-এর উত্তর
১. ছয় বছর বয়সে
২. কাজী নজরুল ইসলম
৩. অন্তত দশটি

কুইজ ৮৭-এর জয়ী
জাকির হোসেন জীবন
মনিরামপুর, যশোর

সুস্মিতা সান্যাল
পাবনা সদর, পাবনা

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৩১ জানুয়ারি সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com