বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:০৩ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

দিল্লি, আগরতলা, শিলিগুড়িতে বাংলাদেশের ভিসা সেবা বন্ধ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: মঙ্গলবার, ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতের নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন কনস্যুলার সেবা ও ভিসা দেওয়ার কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। গতকাল সোমবার হাইকমিশনের ফটকে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে বলা হয়েছে– পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত এসব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি আগরতলায় সহকারী হাইকমিশন ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের ভিসা সেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা ও দিল্লির সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনে হাইকমিশনের সামনে ও বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ ও বাংলাদেশের ভিসা সেন্টারে হামলার ঘটনার পর বাংলাদেশের হাইকমিশন, উপহাইকমিশন, সহকারী হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারগুলোতে নিরাপত্তা ইস্যু প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে দেশটির কলকাতায় বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের সামনে বিক্ষোভ করেছে বেশ কয়েকটি সংগঠন। শিলিগুড়ির ভিসা সেন্টারে তালা লাগিয়ে দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। আর গতকাল আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অনিবার্য কারণবশত পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ২৩ ডিসেম্বর থেকে আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সব ধরনের ভিসা ও কনস্যুলার সেবা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

এর আগে শনিবার রাতে ভারতের দিল্লির কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ করে ‘হিন্দু চরমপন্থিদের’ একটি দল। এটি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমে প্রচারের পর এই প্রচারকে বিভ্রান্তিকর উল্লেখ করে বিবৃতি দিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল।

কিন্তু এই বিবৃতি প্রত্যাখ্যান করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। আর ২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ তুলে ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলা চালায় উগ্রপন্থি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন হিন্দু সংঘর্ষ সমিতিসহ কয়েকটি সংগঠনের সমর্থকরা।

গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ভিসা সেন্টার পরিচালনা করে একটি ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

এর আগে দুপুরে ও বিকেলে বাংলাদেশের উপহাইকমিশন ও শিলিগুড়িতে বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারে দুটি স্থানেই বিক্ষোভের সময় পোড়ানো হয় বাংলাদেশের পতাকা-সংবলিত ফ্লেক্স ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কুশপুতুল। শিলিগুড়িতে হুমকি দেওয়া হয় বাংলাদেশ ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার।

ময়মনসিংহে পোশাক শ্রমিক দিপু চন্দ্র দাস হত্যার প্রতিবাদে দুপুরে শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্কে জড়ো হয় বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও হিন্দু জাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। ১২টার দিকে তারা মিছিল বের করে। শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে তারা বাংলাদেশ ভিসা সেন্টারের সামনে যায়। সেখানে ভিড়ের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশের পতাকা-সংবলিত ফ্লেক্স টেনে ছিঁড়ে ফেলে। এরপর সেই ফ্লেক্স ও প্রধান উপদেষ্টার কুশপুতুলে আগুন দেয়।

এক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ভিসা সেন্টার ঘিরে ফেলেন। হিন্দুত্ববাদী দুই সংগঠনের কর্মসূচির জেরে এদিন আগে থেকেই বন্ধ ছিল ভিসা সেন্টার। পরে সংগঠন দুটির কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে ভেতরে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ও মন্দিরের সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ভিসা সেন্টার বন্ধ রাখার হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে কলকাতায় উপহাইকমিশনের সামনে তিন দফায় বিক্ষোভ হয়েছে। প্রথমে বিক্ষোভ করে ‘নাস্তিক মঞ্চ’ নামের একটি সংগঠন। ভারতীয় সময় দুপুর ২টার দিকে এর সদস্যরা উপহাইকমিশন চত্বরে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে তারা চত্বর থেকে ২০০ মিটার দূরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। আধাঘণ্টা পর স্মারকলিপি দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনার পর জমায়েত হয় জাতীয় কংগ্রেসের কর্মীরা। প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে তারা বিক্ষোভ করে। পরে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল উপহাইকমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে ক্ষোভের কথা জানায়। তারা চলে যাওয়ার পর বিজেপি এবং পশ্চিমবঙ্গ বিধান সভার বিরোধীদলীয় নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে জড়ো হয় ‘হিন্দু সনাতনীরা’। পুলিশ বাধা দিলে ধস্তাধস্তিতে জড়ায়। এই বিক্ষোভকারীদের অনেকে ছিল হিন্দু সাধু। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তারা কলকাতার বেকবাগান মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে রাখে। আগুন দেয় কুশপুতুলে। দিপু দাস হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে গতকাল রোববারও বিক্ষোভ মিছিল হয়। বিক্ষোভ হয় দিল্লি ও ত্রিপুরাতেও।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com