
ঢাকা বিশ্ববদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের সমাধি চত্বরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিকের ইমামতিতে ওসমান হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নিয়েছেন দল-মত নির্বিশেষে দেশের লাখ লাখ মানুষ। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব রাজনৈতিক দলের নেতারা জানাজায় অংশ নেন। জানাজার আগে হাদির ভাই যখন বক্তব্য দেন, তখন লাখ লাখ মানুষ অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে দেশে গতকাল রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেসসহ আন্তর্জাতিক মহলেও এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানানো হয়েছে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের আহ্বান জানানো হয়েছে। জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য সকাল থেকেই মানুষ মিছিল সহকারে কেউবা নিজ উদ্যোগে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের দিকে আসতে শুরু করেন। রাজধানীর সব পথ যেন এসে মিলে এক মোহনায়। জানাজায় অংশগ্রহণকারীরা বলছেন, এটাই স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জানাজা। জানাজায় অংশগ্রহণকারী অনেকেই বলছেন, শহীদ ওসমান হাদির জানাজায় ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ৬৫ বছর বয়সি ধানমন্ডির বাসিন্দা ছিদ্দিকুর রহমান বলেন, আমার জীবনে অনেক জানাজায় অংশ নিয়েছি। কিন্তু এত বড় জানাজা দেখিনি। শহীদ হাদি স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এ কারণে এত মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন। মিরপুর-১ নম্বরের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, আমার ৪২ বছরের জীবনে এত বড় জানাজা দেখিনি। আমার ধারণা, ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নিয়েছেন।
মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আকিব হাসান বলেন, হাদি ভাইয়ের জানাজায় কত লাখ মানুষ হয়েছে, বলতে পারব না। তবে এত মানুষ জীবনেও দেখিনি। সেগুনবাগিচার বাসিন্দা সালাউদ্দিন বলেন, আমার ধারণা জানাজায় ৭ লাখ থেকে ৮ লাখ মানুষ হয়েছে। গতকাল দুপুর ১টার মধ্যে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার দুটি বড় মাঠ মানুষে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। এরপর মানুষের উপস্থিতিতে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের বিশাল রাজপথ ছাপিয়ে ফার্মগেটের খামারবাড়ি, আসাদগেট পর্যন্ত পরিপূর্ণ হয়ে যায়। চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র পর্যন্তও ছিল মানুষ আর মানুষ। জানাজা শেষে হাদির লাশ নিয়ে আসা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
ঢাবির সমাধিতে দাফন : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে ঢাবিতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে তাকে দাফন করা হয়। বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে হাদির লাশবাহী ফ্রিজারভ্যান থেকে কবর দেওয়ার উদ্দেশে বের করা হয়। এরপর বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা তার দাফন সম্পন্ন করেন।
গত ১২ ডিসেম্বর শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে রিকশায় থাকা হাদির মাথায় গুলি করে মোটরসাইকেলে আসা সন্ত্রাসীরা। ৬ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে মারা যান তিনি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুর থেকে শহীদ ওসমান হাদির লাশ দেশে আনা হয়। ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক ছিলেন। তিনি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে শুরু করেন রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’। প্রতিষ্ঠা করেন ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার। তিনি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
”