পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ জানায়, ধারণা করা হচ্ছে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।
হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহদাত হোসেন বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে হোস্টেল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল সম্পন্ন করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, জান্নাত আরা রুমির পারিবারিক জীবনে জটিলতা ছিল। তাঁর দুবার বিয়ে হয়েছিল এবং দুবারই বিচ্ছেদ হয়। দুই সংসারে তাঁর দুই সন্তান রয়েছে। তিনি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, রুমির কক্ষে বিষণ্নতার ওষুধ পাওয়া গেছে। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পারিবারিক কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। জান্নাত আরা রুমি নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার জাকির হোসেনের মেয়ে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহ ও ব্যক্তিগত কিছু বিষয় নিয়ে তিনি হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, জান্নাত আরা রুমিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অ্যাক্টিভিস্টের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ও পেজ থেকে সাইবার বুলিং করা হচ্ছিল। পাশাপাশি তাঁকে হত্যা ও ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
মৃত্যুর আগে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া সর্বশেষ স্ট্যাটাসে তিনি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির কথা উল্লেখ করে লেখেন, ‘ইয়া আল্লাহ, হাদি ভাইকে আমাদের খুব দরকার।’
এর এক দিন আগে দেওয়া আরেকটি পোস্টে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি লেখেন, ‘একদিন ভোর হবে, সবাই ডাকাডাকি করবে কিন্তু আমি উঠব না—কারণ আমি ভোরে উঠি না!’
জান্নাত আরা রুমির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে একটি পোস্ট দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা। তিনি লেখেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রায়ের দিন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একজন কর্মীকে জান্নাত আরা পুলিশে সোপর্দ করেছিলেন। এর পর থেকেই তাঁকে সাইবার বুলিংয়ের পাশাপাশি হত্যা ও ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই পোস্টে তারেক রেজা আরো লেখেন, এসব ঘটনার কারণেই জান্নাত আরা আত্মহত্যা করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে।