বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০৮ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে অপশাসনের সহযোগী হয়েছে বিচার বিভাগ

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্বে বিচার বিভাগ অসাংবিধানিক ক্ষমতা, অপশাসন ও রাষ্ট্রীয় কপট-কৌশলের অঘোষিত সহযোগী হয়েছে। দুঃশাসনের বলয়কে আবরণ দিয়ে অনেক বিচারক অন্যায়-অবিচারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন।

গতকাল রবিবার সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে উচ্চ পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিদায়ি অভিভাষণে এ কথা বলেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।

প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমরা যদি ভেবে থাকি যে বিচারপ্রার্থী জনগণের প্রতি অবহেলা করেও বিচার বিভাগ তার প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতে পারবে, তাহলে আমরা প্রকৃত অর্থেই বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করছি।

বিদ্যমান অসৎ পন্থা, অযথা হয়রানি এবং প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির মানসিকতা নির্মূল করা না গেলে বিচার বিভাগ একদিন প্রান্তিক, অপ্রাসঙ্গিক ও অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’ 

সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেন, ‘সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি থাকার পরও এ দেশের জনগণ কোনো দিন পূর্ণাঙ্গ স্বাধীন বিচার বিভাগের স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। রাষ্ট্রের আর্থিক সামর্থ্য এখানে কোনো অন্তরায় নয় বলে আমি দৃঢ়ভাবে মনে করি। প্রয়োজন কেবল আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির রূপান্তর।

নাগরিকের সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সমাজ-উন্নয়নে বিচারকদের অবদানকে যথার্থ মর্যাদায় উপলব্ধি করা দরকার। কৃচ্ছ্রসাধনের নামে বিচারকদের দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত করে রাখার পুরনো নীতি পরিত্যাগ করতে হবে।’ 

সৈয়দ রেফাত আহমেদ আরো বলেন, অসৎ ও অসাধু বিচারকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। বিচারকদের দ্বারা সৃষ্ট সব অন্যায়ের জন্য এখন থেকে অন্যের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ বন্ধ করতে হবে।

জনগণের জন্য সংক্ষিপ্ত সময়ে সুবিচার নিশ্চিত করতে শতভাগ দায়িত্ব পালন করতে হবে। 

প্রধান বিচারপতির বিদায়ি অভিভাষণে উপস্থিত ছিলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছর ১০ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদকে দেশের ২৫তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

দায়িত্ব নিয়েই তিনি ‘কার্যকর স্বাধীন বিচার বিভাগ’ প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হন। সে জন্য গত বছর ২১ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে অধস্তন আদালতের বিচারকদের উদ্দেশে অভিভাষণ দেন তিনি।

সেদিনের অভিভাষণে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে স্বতন্ত্র-স্বাধীন বিচার বিভাগের গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচার বিভাগ সংস্কারের রোডম্যাপ ঘোষণা করেন। 

তাঁর ঘোষিত ‘রোডম্যাপ’ ঘিরেই গত দেড় বছর বিচার বিভাগে বিভিন্নমুখী সংস্কার হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিচার বিভাগের জন্য স্বতন্ত্র সচিবালয় গঠনের অধ্যাদেশ জারি করা হয়, যা বিচার বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন বলে মনে করেন অনেকে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com