নারীরা তখন অবরোধবাসিনী। ঘর থেকে দুই পা বাইরে ফেলতেও শত বাধা। এসবের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন বেগম রোকেয়া। তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, লেখালেখির শত বছর পর বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামের নারীরাও বাড়ির চৌকাঠ মাড়িয়ে চলতে-ফিরতে পারছেন। শিক্ষা-চাকরি; সর্বক্ষেত্রে দেশ ছাড়িয়ে পাড়ি জমাতে পারছেন বিদেশেও। তবে বেগম রোকেয়ার হাত ধরে শুরু নারীর অগ্রযাত্রার যুদ্ধ এখনও চলমান। আজও প্রাপ্য অধিকারের জন্য নারীকে লড়তে হচ্ছে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে।
বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান রংপুরের নারীনেত্রী ও সচেতন মানুষের এমন অভিযোগ। ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ গ্রামের রক্ষণশীল মুসলিম জমিদার পরিবারে জন্ম তাঁর। ১৯৩২ সালের একই দিনে কলকাতায় তাঁর মৃত্যু হয়। পর ১৯৯৫ সাল থেকে দেশে পালিত হয়ে আসছে রোকেয়া দিবস। রংপুরে ২০০৮ সালে স্থাপিত হয় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। সাম্প্রতিক সময়ে সেখান থেকেও তাঁর নাম মুছে ফেলার দাবি উঠেছে।
এসব বিষয়ে শঙ্কিত রংপুরের নারীনেত্রীরা। সচেতন নাগরিক কমিটি-রংপুরের সদস্য শামসাদ বেগম গিনি বলেন, বেগম রোকেয়া শিখিয়ে গেছেন কীভাবে এই সমাজে লড়তে হবে; অধিকার আদায় করতে হবে; নিজে বাঁচার পথ খুঁজে বের করতে হব। তবে কষ্ট লাগে, বেগম রোকেয়ার উত্তরসূরি নারীদের আজও অবমূল্যায়ন করা হয়।
স্বর্ণ নারী সংগঠনের সভাপতি মঞ্জুশ্রী সাহা বলেন, শুধু ৯ ডিসেম্বরে বেগম রোকেয়া স্মরণে নানা আয়োজন চলে। তারপর তাঁর আদর্শ-শিক্ষা সব শিকেয় তোলা থাকে। এখন তো বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের জন্যও অনেকে উঠেপড়ে লেগেছেন।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নিয়ামুন নাহার মনে করেন, নারীসমাজের চোখে রোকেয়া দিবস শুধু একটি দিন নয়; এটি দাবি ও দায়িত্বের প্রতীক। ন্যায্যতার স্মারকও বটে।
১৯৯৭ সালে পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়ার বাড়ি-সংলগ্ন তিন একর জমিতে তিন কোটি ৭৮ লাখ ৮৬ হাজার টাকা খরচে প্রতিষ্ঠিত হয় বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র। বেগম রোকেয়া স্মৃতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ভেস্তে গেছে। সুষ্ঠু তদারকির অভাবে গবেষণাগারটি বন্ধ থাকায় এখানে কোনো চর্চা হয় না।
নানা ক্ষোভ রয়েছে বেগম রোকেয়া পরিবারের সদস্যদেরও। এখন পর্যন্ত তাঁর বসতভিটার সাড়ে ৩০০ বিঘা জমি উদ্ধার সম্ভব হয়নি। বেগম রোকেয়ার বৈমাত্রেয় ভাই মছিহুজ্জামান সাবেরের মেয়ে রনজিনা সাবের বলেন, রোকেয়া দিবস এলেই শুধু সংবাদকর্মীরা খোঁজ-খবর নিতে বাড়িতে আসেন। সারাবছর আর খবর রাখেন না।