বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:২১ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

একসঙ্গে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রস্ত্রতি চলছে সমকাল

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। দুই ভোটের তপশিল ঘোষণার প্রস্তুতি চূড়ান্ত হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন কমিশন। এরপরই কমিশন তপশিল ঘোষণার তারিখ চূড়ান্ত করবে।

আগামী রোববার ইসির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেও তপশিল ঘোষণার তারিখ ও নির্বাচনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হবে। দুই ভোটের শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতির খুঁটিনাটি দিক খতিয়ে দেখতে চায় ইসি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব মোহাম্মদ সাগর হোসেন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইসির সাক্ষাতের তথ্য সমকালকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার আগে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে থাকে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ও তপশিল বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে ইসির প্রস্তুতির বিষয়গুলো জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে তার নির্দেশনাও নেওয়া হয়।

ইসি সূত্রগুলো বলছে, এই সাক্ষাতের দু-এক দিন পর তপশিল ঘোষণা হতে পারে। জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে তপশিল ঘোষণা করবেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল নিয়ে নির্দেশনা চাইতে ১০ অথবা ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চেয়ে চিঠি দিয়েছে ইসি।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ সমকালকে জানান, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের পর তপশিল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচন ঘিরে সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। পূর্বঘোষিত সময়েই নির্বাচন ও গণভোট হবে।

শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি
আগামী বছর রমজানের আগে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি বেশ আগে থেকেই নিচ্ছে ইসি। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আলোচনা ও জুলাই সনদ চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারের পক্ষে জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট আয়োজনের নির্দেশনা দেওয়া হয়। ইসি সে অনুযায়ী প্রস্তুতি আরও জোরদার করেছে।

গত ২৮ আগস্ট ২৪টি কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে নির্বাচনের পথনকশা তথা রোডম্যাপ ঘোষণা করে ইসি। কর্মপরিকল্পনার বেশির ভাগই সম্পন্ন হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) সংশোধনী অনুমোদন হয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালাসহ অন্য আইন ও বিধি-বিধান চূড়ান্ত হয়েছে। ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন, পর্যবেক্ষক সংস্থা চূড়ান্তকরণ, নির্বাচনী সরঞ্জাম কেনাকাটা এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণসহ আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

তবে এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিন গণভোট আয়োজনকে অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে ইসি। বিশেষ করে ভোট গ্রহণের সময় ব্যবস্থাপনা কীভাবে করা হবে, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে। কেননা একজন ভোটারকে দুটি করে ভোট দিতে হবে, এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কিনা, তা বুঝতেই গত শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে মক ভোটিংয়ের আয়োজন করে ইসি। মক ভোটের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনায় ইসি বলেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি করে গোপন কক্ষ (যেখানে গিয়ে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দেন) স্থাপন করা হলে ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না। গোপন কক্ষ বাড়ানো এবং ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর পরিকল্পনাও করছে ইসি। রোববারের বৈঠকে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সরকার মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল শুরু করেছে। জাতীয় নির্বাচনে সাধারণত ৬৪ জেলার ডিসি এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনাররা রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। ইউএনওরা থাকেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। এ ছাড়া লটারির মাধ্যমে ৬৪টি জেলায় পুলিশ সুপার (এসপি), মহানগরগুলো বাদে ৫২৭টি থানার ওসি পদায়ন করা হয়েছে।

এবার রাজনৈতিক দলগুলোও আগেভাগে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। সাধারণত নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পর দলগুলো প্রার্থী চূড়ান্ত করে। তবে এবার বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বেশির ভাগ দল তপশিল ঘোষণার আগেই প্রাথমিকভাবে প্রার্থী মনোনয়ন করে রেখেছে। বিএনপি ২৭৩টি আসনে ও জামায়াত ২৯৮টি আসনে প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেছে। এনসিপিও শতাধিক আসনের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামী দলগুলো, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের মধ্যেও প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধান প্রধান দলের নেতৃত্বে এসব দলের আলাদা জোট গঠনের প্রচেষ্টাও রয়েছে।

এ ছাড়া বাম গণতান্ত্রিক জোট, বাংলাদেশ জাসদ, ঐক্য ন্যাপসহ বেশ কয়েকটি বাম দল সম্ভাব্য প্রার্থী ঠিক করছে। বামপন্থি ৯টি দল ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে বৃহত্তর জোট গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। এর বাইরে জাতীয় পার্টির (জাপা) একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বে ‘জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক জোট’ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হবে রিটার্নিং কর্মকর্তা প্রতীক বরাদ্দ করার পর।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com