বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৯:১৪ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মবিরতি, পরীক্ষা হয়নি অনেক বিদ্যালয়ে

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ৮ বার পড়া হয়েছে
সারাদেশে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো কর্মবিরতি পালন করেন সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কিছু স্কুলে অভিভাবকরা পরীক্ষা নেন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার ঝিকিড়া বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কক্ষ পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে এক অভিভাবক

আন্দোলনরত সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের চলমান কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে আজ বুধবার থেকে সারাদেশে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

তবে দাবি আদায়ের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে গতকাল মঙ্গলবারও ঢাকাসহ দেশের অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা না দিতে পেরে ফিরে গেছে। তবে কিছু বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে অভিভাবক, দপ্তরি, নৈশপ্রহরীদের সহায়তায় পরীক্ষা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষকরা।

এদিকে, চার দফা দাবিতে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে গত সোমবার থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এ কারণে ঢাকাসহ দেশের বেশির ভাগ সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত দুদিন বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। রাজধানীর ফার্মগেটের গভর্নমেন্ট সায়েন্স হাই স্কুলে দুপুরের পর গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেছে।

দেশজুড়ে বর্তমানে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে প্রায় সাতশ। এর মধ্যে নতুন করে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়ও আছে তিন শতাধিক। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, মূলত পুরোনো সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর পরীক্ষাই সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়েছে। হঠাৎ কর্মবিরতির কারণে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দেয়।

তবে মঙ্গলবার রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতি সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি। তারা জানান, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা যাতে অনিশ্চয়তায় না পড়ে, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব বোধ থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

একই সঙ্গে সমিতি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেছে। শিক্ষকদের চার দফা দাবি হলো– ১. সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করে নবম গ্রেডসহ পদসোপান নির্ধারণ এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেট প্রকাশ; ২. বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন কার্যকর করা; ৩. সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের অনুমোদন প্রদান এবং ৪. ২০১৫ সালের মতো সহকারী শিক্ষকদের জন্য দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বেতন-সুবিধা পুনর্বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

শিক্ষক সমিতি আশা প্রকাশ করেছে, আলোচনার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান হবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আর কোনোভাবে ব্যাহত হবে না।

‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষকরা
লাগাতার কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের পর তিন দফা দাবি আদায়ে এবার ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে যাচ্ছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আজ থেকে এ কর্মসূচি পালন করবেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষকরা উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এটিইও) অফিসের সামনে অবস্থান নেবেন। গতকাল বিকেলে ‌প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ সমকালকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন, সারাদেশে আমাদের শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। দাবি আদায়ে কর্মসূচি করতে গিয়ে অনেকে হেনস্তার শিকার হয়েছেন এবং হচ্ছেন। এ জন্য আমরা বিদ্যালয় ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করতে যাচ্ছি।
অন্যদিকে, একাদশ গ্রেডে বেতন, উচ্চ গ্রেডের জটিলতা নিরসন ও সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলন করা প্রাথমিকের শিক্ষকদের ১২টি সংগঠনের আরেক মোর্চা বুধবার পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়েছে। ‘প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ নামে এই মোর্চা বলেছে, এর মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে বৃহস্পতিবার থেকে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হবে।

ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনিসুর রহমান বলেন, (আমরা) ঐক্য পরিষদ সোমবার রাতে ভার্চুয়ালি সভা করে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেছি। সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘তালাবদ্ধ’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে, পরীক্ষায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের চার নেতাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা, নোয়াখালী, ময়মনসিংহ ও জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সংশ্লিষ্টদের এই নোটিশ দেন। নোটিশে তিন কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শোকজ নোটিশ পাওয়া শিক্ষক নেতারা হলেন– প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাজধানীর মোহাম্মদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুন নাহার লিপি, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নোয়াখালী সদরের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামছুদ্দীন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার চানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম এবং প্রাথমিক শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের সমন্বয়ক ও জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার হিন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহবুবার রহমান।

তিন দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টাকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। মঙ্গলবার নিজ নিজ জেলার ডিসির মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দেন ৬৪ জেলার প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নেতারা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সারাদেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এসব বিদ্যালয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সহকারী শিক্ষক। প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। তবে সহকারী শিক্ষকরা ১৩তম গ্রেডে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। তারা এ নিয়ে অসন্তুষ্ট। গ্রেড উন্নীতকরণের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন।

গত ৮ থেকে ১১‌ নভেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষকরা। এ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের হামলায় দেড় শতাধিক শিক্ষক ‍আহত হন। এরপর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেন। তবে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কোনো অগ্রগতি না থাকায় ২৭ নভেম্বর থেকে ফের কর্মবিরতি শুরু করেন তারা।

সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো– দশম গ্রেডে বেতন নির্ধারণ, ১০ বছর ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান ও শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় দশম গ্রেড দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়ে আপাতত ১১তম গ্রেডের সুপারিশ করেছে। শিক্ষকরাও আপাতত সেই প্রতিশ্রুতি (১১তম গ্রেড দেওয়ার) বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশের চিত্র
নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গতকালও পরীক্ষা হয়নি। তবে অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকরা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সহযোগিতায় পরীক্ষা পরিচালনা করেছেন। ঝালকাঠির কাঁঠালিয়ায় বেশির ভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি। কিছু বিদ্যালয়ে কর্মচারী ও অভিভাকদের নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা নিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। কুষ্টিয়ার খোকসায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি। তবে একটি বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে কিছু শিশু শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের বিদ্যালয়গুলোতে বিকল্প ব্যবস্থায় বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কক্ষে পরীক্ষার পরিদর্শক ছিলেন অভিভাবকরা। তবে নিজের সন্তানের কক্ষের পরিবর্তে অভিভাবকরা ছিলেন ভিন্ন কক্ষে। কটিয়াদী ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল থেকে ছাত্রছাত্রী ও অভিভাকরা প্রতিবাদ করলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাবনী আখতার তারানা ও প্রাথমিক শিক্ষা কমকর্তা রফিকুল ইসলাম পরিদর্শনে গিয়ে পরীক্ষা নিতে বলেন। এরপর তারা তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা নেন। তবে অন্যান্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে না পেরে বাড়ি ফিরে গেছে। রংপুরের মিঠাপুকুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হয়নি।

মঙ্গলবার সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার ২৭৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার দ্বিতীয় দিনে শিক্ষা কর্মকর্তা ও প্রধান শিক্ষকদের অনুরোধে অভিভাবকরা পরীক্ষার কক্ষে পরিদর্শকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অভিভাবক, নৈশপ্রহরী, দপ্তরি ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের সহায়তায় পরীক্ষা নিয়েছেন।

সাতক্ষীরার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে দ্বিতীয় দিনেও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি চার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। বিদ্যালয়গুলো হলো– সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, তালা বি দে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও শহীদ আলী আহমদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। এদিকে মেহেরপুরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি।

মাধ্যমিকে টানা দুই দিন পরীক্ষা বন্ধ
চার দফা দাবিতে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাগাতার কর্মবিরতির কারণে গতকাল দ্বিতীয় দিনের মতো অধিকাংশ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বন্ধ ছিল। তবে কোথাও কোথাও কর্মচারীদের পাহারায় পরীক্ষার আয়োজন করেন প্রধান শিক্ষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিচ্ছিন্নভাবে কিছু বিদ্যালয়ের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল। রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে সোমবার সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষা কর্মচারীদের মাধ্যমে নেওয়া হলেও দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা হয়নি। এ ছাড়া খুলনা, রাজশাহী, যশোর, কুমিল্লা, দিনাজপুরসহ বিভিন্ন জেলা থেকেও বার্ষিক পরীক্ষা বিঘ্নের তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে ৬৩১টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১৩ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত। সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করা, শূন্য পদে নিয়োগ ও পদোন্নতি কার্যকর করা, বকেয়া টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড অনুমোদনসহ চার দফা দাবি আদায়ে শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। দাবি না মানায় ৩০ নভেম্বর থেকেই বিভিন্ন বিদ্যালয় বার্ষিক পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয়।

দেশের বিভিন্ন স্থানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা বন্ধ করে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা সরকারি কর্মচারী বিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে জানিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের কারণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সোমবার বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
(প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা)

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com