ভূমিকম্পের সময় কোনো নির্দিষ্ট স্থানে মাটির স্তরগুলো কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়, তার মানচিত্র হচ্ছে সিসমিক মাইক্রোজোনেশন ম্যাপ। এই ম্যাপ এবং মাটির ভূতাত্ত্বিক গঠন বিবেচনা করে শহরে উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল শুক্রবার ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত অনলাইন সেমিনার ‘ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ডে বিপর্যস্ত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর ঢাকার পরিকল্পনাগত সংকট ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় এই মত উঠে আসে।
বক্তারা বলেন, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, জলাশয়-জলাভূমি ভরাট, দুর্বল মাটিতে বহুতল ভবন নির্মাণ, বিল্ডিং কোড অমান্য করা এবং রাজনৈতিক প্রভাব-দুর্নীতির কারণে ঢাকা ঝুঁকিপূর্ণ শহরে পরিণত হয়েছে। সরকার ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) পরিবর্তনের মাধ্যমে ব্যবসায়িক স্বার্থে অতিরিক্ত ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) ও জনঘনত্ব অনুমোদনের উদ্যোগ নিচ্ছে, যা ভূমিকম্প ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
মূল প্রবন্ধে আইপিডির পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কঠোরভাবে বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি) প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দ্রুত বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ঢাকামুখী জনস্রোত ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতাও নগর সংকট বাড়িয়েছে। কর্মসংস্থান, আবাসন ও নাগরিক সেবা অন্যান্য শহরে পর্যাপ্ত না থাকায় মানুষ ঢাকায় ছুটে আসে। আইপিডি মনে করে, এখনই বিভাগীয় ও জেলা শহরে পরিকল্পিত উন্নয়ন, নিরাপদ আবাসন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উন্নয়নের বিকেন্দ্রীকরণ করতে পারলে আগামী ১৫ থেকে ২০ বছরে ঢাকার ওপর চাপ কমানো সম্ভব।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. ফরহাদুর রেজা বলেন, ঢাকায় বাণিজ্যিক এলাকা, হোটেল-রেস্তোরাঁ নির্ধারণে জোনিং মানা হয় না। ফলে অগ্নিকাণ্ড দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সমান বিস্তার না হওয়া ঢাকামুখী চাপের প্রধান কারণ।
আইপিডি উপদেষ্টা অধ্যাপক আকতার মাহমুদ উল্লেখ করেন চিলি, হাইতি ও তুরস্কের উদাহরণ দেখেই বোঝা যায় বিল্ডিং কোড মানা না হলে ক্ষয়ক্ষতি ভয়াবহ হয়। ভবন মালিক ও পেশাজীবীদেরও দায়বদ্ধতায় আনা জরুরি।
বিআইপির সহসভাপতি পরিকল্পনাবিদ সৈয়দ শাহরিয়ার আমিন বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম করিডোরে শিল্পায়ন বাড়লেও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে উন্নয়ন হয়নি। ফলে ঢাকায় চাপ বাড়ছে।