এই পাঠশালায় শুক্রবার ও শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত শিশুরা ‘আনন্দমামা’ আর ‘আনন্দমাসিদের’ সাথে প্রাণময় সময় কাটায়।
আনন্দলোকের ইনডোর ক্লাস হয় ১/ই/১, পরিবাগ সংস্কৃতি বিকাশকেন্দ্রের ২য় তলায় এবং আউটডোর ক্লাস হয় রমনাপার্কসহ আনন্দলোক নির্ধারিত স্থানে।
দেখা, শোনা, বলা ও করা- এ চারটি ধাপে সৃজনশীল, কর্মময় জীবনের সাথে পরিচয় করিয়ে সংস্কৃতি, মানবতা ও মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে আনন্দের আদান-প্রদানই আনন্দলোকের কর্মপদ্ধতি বলে এর প্রতিষ্ঠাতা অজুফা আখতার জানান।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এ পদ্ধতিটিকে কোনোভাবেই শেখানো বলতে চাই না আমরা যারা আনন্দলোকের শিক্ষক বা আনন্দমামা ও আনন্দমাসিরা।
“বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর যেমনটি বলেছেন- ‘পাখি উড়িতে শেখে, মা-বাপের গান শুনিয়া গান অভ্যাস করে, সেটা তার জীবলীলার অঙ্গ, বিদ্যার সঙ্গে প্রাণের ও মনের প্রাণান্তিক লড়াই নয়। সে শিক্ষা আগাগোড়াই ছুটির দিনের শিক্ষা, তাহা খেলার বেশে কাজ।’- আনন্দলোক তেমনই।”
দশটি প্রধান কর্মসূচির মাধ্যমে আনন্দিত অথচ কর্মঠ মানুষ হওয়ার চর্চা করে আনন্দলোকের আনন্দবন্ধুরা। এগুলো হলো- মূল্যবোধচর্চা ও আত্মন্নোয়ন (সুন্দর ব্যবহার, মোটিভেশন), অভিনয়চর্চা, সঙ্গীতচর্চা, শরীরচর্চা, খেলাধুলা ও নৃত্য, আবৃত্তিচর্চা ও পাঠাভ্যাস, ফটোগ্রাফিচর্চা (বেসিক), চিত্রকলা,হস্ত ও মৃৎশিল্পচর্চা, চলচ্চিত্রশিল্প পরিচিতি (সিনেমাটোগ্রাফি ও ডিরেকশনের টুকিটাকি পরিচিতি), সৃজনশীল কর্ম পরিচিতি, পরিকল্পনা ও কর্ম সম্পাদনা (দলগত) ও আনন্দ-আনন্দ (জাদু, ধাঁধাঁ, কৌতুক, ভ্রমণ, নিসর্গপাঠ, বৃক্ষরোপণ)।
বয়স অনুপাতে শ্রেণিবিভাগ আনন্দকর্মসূচির জন্য বিবেচ্য বিষয় না হলেও বয়স অনুযায়ী চারটি শ্রেণিতে আনন্দলোকের ভর্তির কার্যক্রম চলছে। এগুলো হলো- দুধভাত (৩-৫ বছর), হৈচৈ (৬-৮ বছর), ঝিকমিক (৯-১২ বছর) ও আনন্দসংঘ (১৩-১৫ বছর)।
দশটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের জন্য একজন শিশুর ভর্তি ফি ২,০০০ টাকা এবং প্রতি মাসের বেতন ২,০০০ টাকা। শুধু ইনডোর বা শুধু আউটডোরেও ভর্তি হওয়া যায়। সেক্ষেত্রে মাসিক বেতন এক হাজার টাকা।
আনন্দলোকের প্রতিষ্ঠাতা অজুফা বলেন, আনন্দলোক শিশুদের প্রতি দায়িত্বের জায়গা থেকে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো শিশুর অভিভাবকের জন্য আনন্দলোকের নির্ধারিত বেতন বেশি হলে তিনি আলোচনা করতে পারবেন, এমনকি কেউ যদি তার বাসার কাজে সহায়তাকারী শিশুকেও তার সন্তানের সাথে আনন্দলোকে নিয়ে আসেন তাহলে সেই শিশুর জন্য তাকে কোনো অর্থ দিতে হবে না।
“আমরা চাই প্রতিটি শিশুর অন্তরে আনন্দসুর বাজুক।”