বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায় সোমবার

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর, ২০২৫
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলার রায় আগামী সোমবার ঘোষণা করা হবে। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। গত বছরের ৫ আগস্ট তীব্র গণআন্দোলনের মুখে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এ মামলার অন্য আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও ভারতে আছেন বলে ধারণা করা হয়। তাদের পলাতক দেখিয়ে বিচারকাজ চলেছে। সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনও এতে আসামি। তিনি দায় স্বীকার করে ‘রাজসাক্ষী’ হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন। সকাল ৯টায় তাঁকে কারাগার থেকে প্রিজন ভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। কাঠগড়ায় তিনি ছিলেন ভাবলেশহীন।

গত ২৩ অক্টোবর উভয়পক্ষের শুনানি, যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের পর সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারকাজ শেষ হয়। সেদিন রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য ১৩ নভেম্বর নির্ধারণ করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। চলতি বছর ১০ জুলাই এ মামলার অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু হয় এবং ২৩ অক্টোবর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। অভিযোগ গঠনের পর থেকে তিন মাস ১৩ দিনের মধ্যে শেষ হলো গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের প্রথম বিচার।

গতকাল দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ট্রাইব্যুনালে দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। বেঞ্চ অফিসার এক নম্বর আইটেম হিসেবে দৈনন্দিন কার্যতালিকায় শেখ হাসিনা বনাম চিফ প্রসিকিউটর মামলাটির ডাক দেন। এ পর্যায়ে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদার রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন।

এ মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গতকাল সকাল থেকেই পুরোনো হাইকোর্ট ভবনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হাইকোর্ট মাজারসংলগ্ন ট্রাইব্যুনাল এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেন সেনাবাহিনী, র‌্যাব, পুলিশ, এপিবিএন ও বিজিবি সদস্যরা।

হাইকোর্ট মাজার গেট এলাকায় দেখা যায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সাঁজোয়া যান। পুরো এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হয় নিরাপত্তাবলয়। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশের সময় সাংবাদিক ও আইনজীবীদের তল্লাশি করা হয়।
আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে নাশকতা ঠেকাতে আগের দিন বুধবার থেকেই ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হয়। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন করা হয় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য। পাশাপাশি রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল বিজিবি ও সেনাবাহিনী।

শেখ হাসিনার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা চিফ প্রসিকিউটরের
ট্রাইব্যুনাল রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর সাংবাদিকদের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে, যারাই বাংলাদেশে যত শক্তিশালী হোক না কেন, যদি কেউ অপরাধ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাদের সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং আইন অনুযায়ী প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। ১৭ নভেম্বর আদালত তার সুবিবেচনা, তার প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন এবং এই জাতির যে বিচারের জন্য আশঙ্কা যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন, একটি সঠিক রায়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে, তেমন একটি রায়ই আমরা প্রত্যাশা করছি।’

তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ শাস্তি আদালতের কাছে আবেদন করেছি। আদালত তাঁর সুবিবেচনা প্রয়োগ করবেন এবং আমাদের পক্ষ থেকে আবেদন হচ্ছে যে এই অপরাধের দায়ে আসামিদের যেন সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা সন্ত্রাস বা উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।’ ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণার দিন ঠিক করার পর তাজুল ইসলাম সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি বিচ্ছিন্নভাবে যা কিছু ঘটছে, সেগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং সবকিছু সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। দেশ সামনে এগিয়ে যাবে।’

বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার বিষয়ে জাতিসংঘের অভিযোগ প্রসঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ মুহূর্তে এসে ওনারা বিচারটাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন নানাভাবে। এই বিচার আমরা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটা ছিল স্বচ্ছ (ট্রান্সপারেন্ট)। আপনারা সবাই তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে অকাট্য প্রমাণ, শক্তিশালী সাক্ষ্য প্রমাণ– সবকিছু জাতির সামনে তুলে ধরা হয়েছে। দুনিয়ার সামনে ক্রিস্টাল ক্লিয়ারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ন্যায়বিচার তার নিজস্ব গতিতেই চলবে।’

শেখ হাসিনা খালাস পাবেন, আশা তাঁর আইনজীবীর 
মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল খালাস পাবেন বলে আশা করেছেন রাষ্ট্র নিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী আমির হোসেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমার প্রত্যাশা আমার মক্কেলরা খালাস পাবেন। যেসব সাক্ষী জবানবন্দি দিয়েছেন, তাদের জেরা হয়েছে, বিভিন্ন সময় আইনজীবী হিসেবে তাদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে আনতে সক্ষম হয়েছি। দালিলিক সাক্ষ্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছি।’ বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে আমির হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো অস্বস্তি দেখি নাই। মামলা পরিচালনায় যে সহযোগিতা প্রয়োজন যেমন দলিল-দস্তাবেজ, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী আমাকে দেওয়া হয়েছে। যেসব ডকুমেন্ট পেয়েছি তার ভিত্তিতেই আমাকে কাজ করতে হয়েছে।’

ফাঁসির দাবিতে আইনজীবীদের বিক্ষোভ
শেখ হাসিনার ফাঁসির দাবিতে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা বিক্ষোভ করেছেন। গতকাল ঢাকার নিম্ন আদালত প্রাঙ্গণে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ব্যানারে এ মিছিল হয়। পরে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন আদালত ও ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত ঘুরে আইনজীবী সমিতির সামনে গিয়ে মিছিল শেষ হয়। মিছিলে কয়েকশ আইনজীবী অংশ নেন। এ সময় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিটের সদস্যসচিব নিহার হোসেন ফারুক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

প্রেক্ষাপট
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত বছর ১৪ আগস্ট তদন্ত সংস্থায় প্রথম অভিযোগ দায়ের হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিচারকাজ শুরু হয় গত বছরের ১৭ অক্টোবর। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চলতি বছরের ১২ মে চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে গত ১ জুন। প্রসিকিউশনের দাখিল করা অভিযোগপত্রটি ছিল ১৩৫ পৃষ্ঠার। এর সঙ্গে আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার বিভিন্ন নথি ও তথ্যপ্রমাণ জমা দেওয়া হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জানে আলম খান ও মো. আলমগীর।

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান দমনে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যা ও ২৫ হাজার মানুষের অঙ্গহানিতে উস্কানি, প্ররোচনা ও নির্দেশ দান, ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’সহ মোট পাঁচটি অভিযোগ আমলে নিয়ে গত ১০ জুলাই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিচার শুরুর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ওইদিন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে এ মামলায় প্রসিকিউশন আসামি করার আবেদন করলে তাতে সম্মতি দেন ট্রাইব্যুনাল। এর মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার বিচার শুরু হয়।

সাক্ষ্য দিলেন যারা
এই মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন গণঅভ্যুত্থানের শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের অনেকে। এ ছাড়া সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। ৮৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫৪ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন।

পাঁচটি অভিযোগ
এ মামলায় পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়। সেগুলো হলো– গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনের সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার ‘উস্কানিমূলক বক্তব্য’ দেওয়া; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দেওয়া; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানোর অভিযোগ।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com