এতে প্রত্যেক নাগরিককে তার তথ্যের প্রকৃত মালিক হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে উপাত্ত (ডেটা) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও ব্যবহার করার আগে তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
এতে প্রত্যেক নাগরিককে তার তথ্যের প্রকৃত মালিক হিসেবেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যার ফলে উপাত্ত (ডেটা) সংগ্রহ, সংরক্ষণ, স্থানান্তর ও ব্যবহার করার আগে তার স্বতঃস্ফূর্ত সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নাগরিকের তথ্য ব্যবহার বা সংরক্ষণের আগে তার সম্মতি নিতে বাধ্য থাকবে।
গতকাল ফেসবুকে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা প্রমাণ করেছি আমরা পারি, নতুন বাংলাদেশ পারে।
উপাত্তের ওপর নাগরিকের অধিকার : অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, নাগরিক চাইলে যেকোনো তথ্যভান্ডারে নিজের তথ্য দেখতে, সংশোধন করতে, মুছতে বা তথ্যের মাধ্যমে নেওয়া স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তে বাধা দিতে পারবেন। সরকারি বা বেসরকারি সংস্থাগুলো কেবল ‘উপাত্ত-জিম্মাদার’ বা ‘প্রক্রিয়াকারী’ হিসেবে কাজ করবে, কোনোটিই তথ্যের মালিক নয়।
শিশু ও সংবেদনশীল তথ্যের সুরক্ষা : অধ্যাদেশে শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য সুরক্ষায় বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। শিশুদের তথ্য সংগ্রহে অভিভাবকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের অনলাইন ট্র্যাকিং, প্রোফাইলিং বা বিজ্ঞাপন প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সংবেদনশীল তথ্য, যেমন—আর্থিক, স্বাস্থ্য, জেনেটিক ও বায়োমেট্রিক ডেটা অতিরিক্ত সুরক্ষার আওতায় আনা হয়েছে।
উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ গঠন : নতুন আইনের আওতায় গঠন করা হবে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কর্তৃপক্ষ, যা ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য ব্যবস্থাপনার নীতিমালা প্রণয়ন, তদারকি ও অভিযোগ নিষ্পত্তি করবে। এই কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রীয় সফটওয়্যার ও ডেটা-ভাণ্ডারের নিরাপত্তা রক্ষা করবে এবং সব সরকারি সফটওয়্যারের সোর্সকোড জাতীয় সোর্সকোড রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ করবে। এতে সফটওয়্যার ভেন্ডর-লক বা নির্ভরতা থেকে রাষ্ট্র মুক্ত হবে।
ডিজিটাল অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধা : উপাত্ত বিনিময়ের জন্য চালু হচ্ছে ন্যাশনাল রেসপন্সিবল ডেটা এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম। এর মাধ্যমে অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ও নিরাপদ প্রোটোকলে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে।
অধ্যাদেশে নাগরিকদের জন্য একক ডিজিটাল পরিচয়ের ধারণা আনা হয়েছে, যাতে এক আইডির মাধ্যমেই সরকারি ও বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা যাবে নিরাপদ ও সহজভাবে।
আন্তর্জাতিক মান ও বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো : সরকার বলছে, নতুন আইন দুটি বৈশ্বিক তথ্য সুরক্ষা মানদণ্ড, বিশেষত ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে নাগরিকের গোপনীয়তা যেমন রক্ষা পাবে, তেমনি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি বাণিজ্য, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল ব্যবসা আরো সহজ হবে।
শাস্তি ও করপোরেট দায় : অনুমোদন ছাড়া ডেটা সংগ্রহ বা ব্যবহার করলে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ লাখ টাকা জরিমানা হতে পারে। কম্পানি বা করপোরেট কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবেন যদি তারা যথাযথ সতর্কতা অবলম্বন না করেন। ডেটা লঙ্ঘন হলে তা কর্তৃপক্ষকে দ্রুত জানানো বাধ্যতামূলক।