পেছনে সুউচ্চ দালানের সারি। বিষণ্নতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিছু গাছ। পিচঢালা রাস্তায় গাড়ির সারি। সিগন্যাল বাতির নিচে দাঁড়িয়ে এক শিশু বা কিশোর।
পেছনে সুউচ্চ দালানের সারি। বিষণ্নতা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কিছু গাছ। পিচঢালা রাস্তায় গাড়ির সারি। সিগন্যাল বাতির নিচে দাঁড়িয়ে এক শিশু বা কিশোর।
সব মিলিয়ে দেশের ১২ জন চিত্রশিল্পীর ৭৩টি চিত্রকলা নিয়ে রাজধানীর ধানমণ্ডির সফিউদ্দিন শিল্পালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আর্ট ইকো ফাউন্ডেশন। ‘প্রবর্তনা’ শীর্ষক এই দলগত চিত্রকলা প্রদর্শনীতে এসে মিশেছে নানা বিষয় ও ভাবনা।
গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলবে। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।
প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধ্যাপক ও শিল্পী আব্দুস সাত্তার। প্রদর্শনী সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এখানে যে প্রদর্শনীটি হচ্ছে, অনেকেই বলছেন তাঁরা (অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা) সশিক্ষিত, অর্থাৎ আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা গ্রহণ করেননি। কিন্তু এখানে যে ছবিগুলো আমি দেখলাম এবং এই শিল্পীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে যতটুকু জেনেছি, তাতে মনে হয়েছে, শিক্ষিত অনেক শিল্পীর চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তাঁরা।’
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের চিত্র প্রদর্শনীর গুরুত্ব তুলে ধরে অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘আমাদের দেশে যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এতে আমার মনে হয় কোনো মানুষের মনে শান্তি নেই, স্বস্তি নেই। ভবিষ্যৎ কী আমাদের, তা-ও নিশ্চিত নই আমরা কেউ।
আর্ট ইকো ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পী শাহানুর রহমান বলেন, ‘আমাদের আর্ট ইকো ফাউন্ডেশনের এখন প্রধান লক্ষ্য বাংলাদেশের যত অটিজমে আক্রান্ত আর্টিস্ট আছেন, অনেকেই এত ভালো ছবি আঁকেন, তাঁদের চিত্রকলাকে তুলে আনা। বাংলাদেশে আনাচকানাচে এমন অনেক আর্টিস্ট আছেন, যাঁদের কোনো প্রকাশ নেই, পরিচয় নেই, প্রদর্শনী করার ক্ষমতা নেই এবং অনেকেই আছেন অসুস্থ—তাঁদের শিল্পকর্মকেও তুলে আনব আমরা।’
প্রদর্শনীতে নবীন নারী চিত্রশিল্পী ছাড়াও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। ফলে বিষয় ও ভাবনার বৈচিত্র্যও ছিল লক্ষণীয়। শিল্পী হীরক নকরেকের অ্যাক্রিলিক ক্যানভাসে যখন উঠে এসেছে ক্ষুুদ্র নৃগোষ্ঠীর উপস্থাপন, তখন জলরঙে ফারিন আহমেদ ফুটিয়ে তুলেছেন এক বিষণ্ন পুরনো দুর্গের ছবি। রয়েছে বনি রহমানের অত্যাশ্চর্য ড্যাফোডিল
বা শাহনুর রহমানের খোঁপায় ফুল গোঁজা এক নারীর স্মিত হাসি। বাস্তববাদ, পরাবাস্তববাদ, অভিব্যক্তিবাদ, কিউবিজম, বিমূর্ত ধারাসহ বৈচিত্র্যময় শৈলীর ছবি রয়েছে এই প্রদর্শনীতে।
আর্ট ইকো ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি শিল্পী বনি রহমান বলেন, ‘এই প্রদর্শনীতে অংশ নিতে পেরে আমি ভীষণ কৃতজ্ঞ এবং অনুপ্রাণিত। এখানে উপস্থিত প্রতিটি শিল্পীর কাজ আলাদা গল্প বলে। কেউ প্রকৃতির রঙে কথা লিখেছেন, কেউ জীবনের অভিজ্ঞতা ফুটিয়ে তুলেছেন। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই এই প্রদর্শনীর আসল সৌন্দর্য।’
প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া শিল্পীরা হলেন শিল্পী শাহানুর রহমান, বনি রহমান, ইসরাত জাহান, শিল্পী আলী, ফারিন আহমেদ, কাজরি কাজ, ইয়াসমিন মাহিন, আলিজ চৌধুরী, ছোঁয়া আরেফিন, লরেন্স গোমেজ, সৈয়দ নাজমুস সাকিব ও হীরক নকরেক।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, এটিই আর্ট ইকো ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রদর্শনী। এই ফাউন্ডেশন একটি নারী নেতৃত্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা বাংলাদেশের অবহেলিত ও প্রান্তিক শিল্পীদের ক্ষমতায়নে কাজ করে থাকে।