দেবী-না-মানবী কিছু নেই মনে
আবিদ আনোয়ার
বশীকরণের মন্ত্র শিখিনি,
নীল খামে কোনো পত্র লিখিনি,
তবুও চেয়েছি মন বিকিকিনি
দীনহীন কিছু পদ্যে–
শব্দে-ছন্দে এই দূতিয়ালি
ব্যর্থ হয়েছে তবু খালি-খালি
এখনও বইছে ক্ষরণের কালি
ধমনি-শিরার মধ্যে।
উবে গেছে আশা হয়ে কর্পূর,
বাঁশি থেমে গেছে তবু বাজে সুর,
যত যায় দূরে ততই মধুর,
ঘোরে-পাওয়া এই সত্তা–
ঘুমের ভেতরে নিদ্রাবিহীন
শুনি সেই সুর সারানিশিদিন;
দেহ ক্ষয়ে গেছে, আছে শুধু চিন,
তারও নেই নিরাপত্তা।
আমার পৃথিবী বর্তুলাকার:
যে-রেখায় আমি ঘুরি চারিধার
কেন্দ্রে রয়েছে সেই সে-রেখার
একটি নিছক বিন্দু–
বুকে তার বল সেন্ট্রিপেটাল
টান খেয়ে যার হয়েছি নাকাল,
পেরিয়েছি খানাখন্দ ও খাল,
তেরো নদী-সাত সিন্ধু।
একদা কখন কবে কুক্ষণে
দেবী-না-মানবী কিছু নেই মনে
একা নদীতীরে নাকি নীপবনে
দেখা দিয়েছিল সত্যি–
নাকি আমি নিজে শুনে নিশিডাক
পথে নেমে এসে খাই ঘুরপাক;
এই গতিবিধি মিথ্যে বেবাক,
মানে নেই একরত্তি!
কতটা মরণ
মুজতবা আহমেদ মুরশেদ
এক.
কতটা মরণ কিনবে তুমি!
কতটা আমার কাছে, শুধু ঋণে!
কতটা বাতাস নেবে
আর শুধবে না বলে!
দুই.
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর ঐ সব শোকের মিছিল
ফুরোলো না আর অবিশ্বাসে।
অপরাধ ছিলো কী তবে কোনো ভোরের–
অথবা নদী কী ছিলো কোনো শোকে গাথা!
তিন.
আমার কাছে না থাকা বেখেয়ালি ভুল
খুঁজে পেতে দেবো কী তোমাকে এনে?
নেবে কী একবার প্রচণ্ড ঘূর্ণির ভুল
করপুট ভরে জাদুময় বিভ্রমে বহুবার।
নৈঃশব্দ্যে
তালুকদার লাভলী
আমার প্রথম মৃত্যু হয়েছিল
যেদিন তোমার চোখের গভীর লালিমায়
আমি ডুবে গিয়েছিলাম।
তুমি হাসলে, আর সেই হাসির মধ্যে
একটা দুঃসহ ক্ষুধার রেশ লুকানো ছিল।
জেনেও অজ্ঞ থাকার অভিনয় করলাম।
ভালোবাসার মৃত্যু রোজ হয় না।
তুমি এক মায়াবী ফুল।
তোমার পাপড়ির রঙে ঢেকে ছিল একটি গোপন খাঁচা
আমি উড়তে উড়তে থেমেছিলাম তোমার মধুর টানে।
মনে হলো এটাই আমার স্বর্গ
কিন্তু কে জানত স্বর্গের দরোজা
একবার খুললে আর ফেরার পথ থাকে না?
তোমার প্রজাপতি পাপড়িগুলো কী মসৃণ কী কোমল।
সেগুলো আসলে শেকল, আমার ডানাগুলো বদ্ধ করেছে।
তুমি দেখলে কী অনিন্দ্য এক শিকার
তোমার বাগানের কোণে জ্বলজ্বল করছে।
বুঝলাম, ভালোবাসার চিৎকার শব্দহীন হয়।