সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ক্যারোলিনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে
ভেনিজুয়েলার ছোট্ট গ্রাম কঙ্গো মিরাডর। ছিমছাম গোছানো গ্রামটি পটে আঁকা ছবির মতো দেখতে। গ্রামের এক পাশে বয়ে চলেছে শান্ত ধারার জলাধার, কাতাতুম্বা। এবং উত্তর-দক্ষিণ পাশটি সুউচ্চ শৈলগিরিতে ঢাকা।

আজ এর বাড়ি কাদার তলে, তো কাল ওর বাড়ির পালা। একান্নবর্তী পরিবারের মতো বিশাল এক বৃক্ষ হয়ে বাস করা একেকটি পরিবার বৃক্ষশাখা ছিন্ন করে গ্রাম ছেড়ে উদ্বাস্তু হয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়। আমরা মাত্র গোটা দশেক পরিবার একবুক স্বপ্ন-আশা নিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকি—একসময় আবার ফিরে পাব আমাদের সবুজ গ্রাম, গ্রামের প্রাণচাঞ্চল্য, স্বচ্ছ জলধারা; সবুজ সমুদ্রে বসত গড়বে আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই স্বপ্ন ক্ষয়ে যায়। দূর পাহাড়ের কাদামাটি উপচে পড়ে নদীর ওপর।
চলে যায় গ্যাস, বিদ্যুত্ব্যবস্থা—এমনকি একমাত্র স্বাস্থ্যসেবার ক্লিনিকটিও অনিশ্চয়তায় তলিয়ে যায়। আমার জীবনের সবচেয়ে কষ্টের দিন ২০১৬ সালের ২১ জুন। এদিন আমরা আমাদের গাঁয়ের সঙ্গে সকল বাঁধন ছিন্ন করে চলে আসি পুয়েত্রো কোঞ্চায়। সেখানে আমার নানাবাড়ি। আমার ৬২ বছর বয়সী দাদু কোনোভাবেই বাস্তুভিটা ছেড়ে আসতে রাজি হন না। তাঁর সাতপুরুষের পদচিহ্ন পড়ে আছে এই গাঁয়ে। রাস্তাঘাট কাদার তলে ডুবে আছে। যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এখন নদীপথ, সেটাও ডুবল বলে। দাদু কঠিন পরিশ্রম করে কাদামাটি সরিয়ে নদীতে ছোট্ট একটি সরুপথ তৈরি করেন, যাতে কোনোমতে সালতি নৌকা নিয়ে যাতায়াত করা যায়। আমিও দাদুর সঙ্গে কাজ করি এবং দাদুর সঙ্গে গ্রামে থেকে যেতে জেদ ধরি; কিন্তু মা-বাবার কাছে আমার আপত্তি টেকে না।নানাবাড়ির দিনগুলো আমার জন্য আকাশভাঙ্গা কষ্ট বয়ে নিয়ে আসে। লোকে বলে, কুয়োর ব্যাঙ বেশি পানিতে পড়লে নাকি বাড়বাড়ন্ত হয়, ছলবল করে। কিন্তু আমার বেলায় হয় উল্টো! নানাবাড়ির আধশহুরে অনভ্যস্ত পরিবেশ, নতুন স্কুল, দাম্ভিক লোকজন—এসবে খাপ খাওয়ানো আমার মতো গাঁওগেরামে বেড়ে ওঠা মেয়ের জন্য যথেষ্ট কষ্টসাধ্য। বাবার হাতে টাকাকড়ি নেই। আমরা অনিকেত হয়ে নানাবাড়ি আশ্রয় নিই। এরপর বাবা কিছুকাল হন্যে হয়ে কাজের খোঁজ করেন; এবং ব্যর্থ হয়ে অবৈধ পথে চলে যান উত্তর আমেরিকা। বাবা চলে যাওয়ার পর দাদুর সঙ্গে আমাদের আর যোগাযোগ হয়নি।

কিন্তু দাদুকে একদণ্ড ভুলে থাকতে পারি না। আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে ভবিষ্যৎ স্বপ্নের কথা বলেছেন, ভরসা দিয়েছেন—শিগগিরই আবার আমাদের মিলন হবে। আমাদের প্রাণের স্নিগ্ধ শ্যামল কঙ্গো মিরাডরে। দাদু অবশ্য শেষ পর্যন্ত হেরে যাননি। কঙ্গো মিরাডরে তাঁর এক বন্ধুর সঙ্গে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গ্রামকে বাঁচিয়ে রাখতে সংগ্রাম করে গেছেন। শেষে অবশ্য সান্নিপাতিক রোগে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন। তারও কিছুদিন পর আমাদের গ্রামটি পুরোপুরি কাদার অতলে হারিয়ে যায়।

বাবা চলে আসার দুই বছরের মাথায় আমি মা ও ভাই নিরুপায় হয়ে বাবার কাছে আসতে কণ্টকপথ ধরি। ভেনেজুয়েলা থেকে মৃত্যুপথে চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে টেক্সাসে, বাবার কাছে ফিরি। দুই বছর বাবা ছাড়া বেঁচে থাকা আমার জন্য আসলেই ভীষণ কষ্টের ছিল। বাবাকে আবার খুব কাছের করে, হাত দিয়ে ছুঁয়ে দেখার মতো আপন করে পাব—এমন কতশত ভাবনা আর অনুরণনে এত দিন বুঁদ হয়ে থেকেছি। বাবা কিংবা দাদুর ভাবনায় যখন মত্ত থাকি, তখন তাঁদের শরীরের গন্ধ আমার চারপাশের হাওয়ায় ভেসে বেড়ায়। চোখ বুজে দীর্ঘনিঃশ্বাসে সেই গন্ধ নিজের ভেতরে নিয়ে বাঁচার শক্তি খুঁজি।

মানুষ যখন একবার ঘর থেকে বেরিয়ে যায়, সে সম্পূর্ণ ভিন্ন মানুষ হয়ে ফিরে আসে। আগের সেই মানুষটা চিরতরে হারিয়ে যায়। বাবার কাছে ফিরে এসে তা খুব ভালোভাবে টের পেলাম। আমেরিকা আসার অনিশ্চিত সেই যাত্রাপথের আতঙ্ক ও কষ্টটা, বাবাকে ছুঁতে পারব—এই স্বপ্নটা মনে ছিল বলেই বোধ হয় পাড়ি দেওয়ার সাহস করতে পেরেছি। কিন্তু সব স্বপ্ন সুখের হয় না, দুঃস্বপ্নও যে হয়, তা মেনে নেওয়ার বয়স তখনো হয়ে ওঠেনি আমার। একটা স্বপ্ন ভেঙে গেলে আরেকটা স্বপ্ন হাতড়ে খুঁজে ফিরছি জীবনের আস্বাদ।

অন্ধবিশ্বাস নিজ বিশ্বাসকে হত্যা করে। মায়ের বরাবরই বাবার প্রতি অগাধ বিশ্বাস ছিল। নিজের চেয়েও বাবার প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও ভরসা ছিল বেশি। কঙ্গো মিরাডরের দুই কামরার সেই সংসারটা, উত্তর আমেরিকায় সাজিয়ে-গুছিয়ে বাবা আমাদের জন্য অপেক্ষায় দিন গুনছেন—মায়ের ভাবনাটা এমনতরোই ছিল!

টেক্সাসে বাবার ঘরে যখন পৌঁছি, বাবার বর্তমান সংসারের মানুষগুলো তখন ঘরে ছিল না ঠিকই, কিন্তু তাদের ব্যবহার্য জিনিসপাতি দেখে নিশ্চিত হই—আমরা এখানে ভাসমান কচুরিপানার মতো উদ্বাস্তু। বুকের ভেতরটা ছ্যাঁত করে ওঠে! আমাদের শতকোটি সুখ-ভাবনারা মুহূর্তে কাচের পাত্রের মতো ভেঙে খান খান হয়ে যায়!

জলমগ্ন মানুষ যেমন জলে তলিয়ে যেতে হাতের কাছে যা পায় তা—সে খড়কুটো পেলেও আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চায়—আমরা
সেরূপে দিশাহারা হয়ে বাবার দিকে অসহায় দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকি। মা হয়তো সেই মুহূর্তে অনুধাবন করতে পারেন, সংসার টিকিয়ে রাখতে বিদ্যা-বুদ্ধি, রূপ-গুণের চেয়ে ঘ্রাণশক্তিটা বড় বেশি প্রয়োজন ছিল! ততক্ষণে অবশ্য দেরি হয়ে গেছে। মায়ের বিষণ্ন চেহারা সহ্য করার শক্তি আমার ছিল না। মাকে সে সময় গভীর গর্তে পড়া নিরুপায় জন্তুর মতো সহায় সম্বলহীন মনে হয়েছে।

কিন্তু বাবা খুব স্বাভাবিক, আয়েশি ভঙ্গি বজায় রেখে চলছেন, যেন কিছুই হয়নি। আমাদের মনের আকাশে তোলপাড় করা ভাবাবেগ তৈরি হলেও বাবাকে কোনো বিষয় নিয়েই প্রশ্ন করি না। নতুন দেশ, অজানা পাহাড়, ইংরেজি ভাষা বুঝি না, পথঘাট সে-ও অচিন। ওদিকে দেশে ফিরে যাওয়ার পথও খোলা থাকে না। আমাদের কোনো ঠিকানা নেই! আমরা অপাঙেক্তয়! যিনি আমাদের একমাত্র আশ্রয়স্থল, তিনি আমাদের বাবা। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে ভিনদেশে এসে তিনিই আমাদের কষ্টের মূলকেন্দ্র হয়ে ওঠেন।

বাবা খুব ভোরে কাজে বের হয়ে যান। আমি সারা দিন ছোট ভাইকে নিয়ে বাড়ির আশপাশে ঘুরেফিরে সময় কাটাই। মা জানালার পাশে প্রস্তরমূর্তির মতো বসে সারাক্ষণ আকাশের দিকে স্থাণু দৃষ্টি মেলে তাকিয়ে থাকেন। মায়ের এমন বিষণ্ন-ম্লান চেহারা আমাদের মন খারাপের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় আরো শতগুণে। বড় বিবর্ণ অচেনা লাগে আমাদের মায়ের মুখখানা!

বাবা খুব কম সময়ের জন্য রাতে বাড়ি ফেরেন। আমাদের সঙ্গে দায়সারা কথাবার্তা সেরে বিছানায় চলে যান। আমি, মা ও ছোট ভাই এক রুমে ঘুমাই। বাবা আমাদের আশ্রয় দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের এর বোধ হয় খুব একটা প্রয়োজন ছিল না, যতটা না বাবাকে ছিল। দেশে শেষের দিকের সময়গুলোতে আমরা খাওয়া-পরায় খুব কষ্টে ছিলাম; কিন্তু কখনো এতটা অসহায় বোধ করিনি।

কেউ বদলে গেলে তাকে আগলে রাখা যায় না। সে চেষ্টা করার ফল বৃথা হয়। মা অবশ্য সেই চেষ্টা করলেন এবং ব্যর্থ হলেন।

মা আলাদা হয়ে গেলেন! বাবার অবশ্য এমন পরিকল্পনা ছিল; যদিও মায়ের দিক থেকে সামান্য উছিলা খুঁজছিলেন। এবং আমি ভাগ হয়ে গেলাম। মা আমাকে একলা করে ছোট ভাইটিকে নিয়ে তাঁর গ্রাম পুয়েত্রো কোঞ্চার এক প্রতিবেশীর কাছে নিউইয়র্কে চলে যেতে বাধ্য হলেন। আর আমাদের জন্য একটা নির্ভার সংসার করবেন; তখন মা, আমি আর আমার ছোট ভাই একত্রে থাকব; আমাদের সুখভরা এক সংসার হবে—সেই আশ্বাসে আমি বাধ্য হয়ে থেকে গেলাম বাবার সংসারে।

বাবার সংসারে আমার সত্মা এবং তাঁর দুই সন্তান যুক্ত হলেন। স্থানীয় স্কুলে বাবা আমাকে ভর্তি করিয়ে দেন। স্বপ্নহীন একটা জীবনকে আমি টেনেহিঁচড়ে বয়ে নিতে শুরু করি। বাবা খুব ব্যস্ত থাকেন। রাতে বাড়ি ফিরলে স্কুল বিষয়ে দু-চারটি যা আলাপ হয়, এর বেশি কিছু না।

মায়ের সঙ্গে আমার মাসে দু-একবার বাবার ফোনে কথা হয়। ফোনটা নিয়ে আড়ালে বসে মায়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হয় না। সবার সামনে স্বল্প সময়ের জন্য কথা বলতে হয়। বাসার বাকিরা খুব দরকার না হলে আমার সঙ্গে কথা বলে না। স্কুলে একই অবস্থা। আমি সবেমাত্র ইংরেজি শিখতে শুরু করেছি। সবাই আমাকে এড়িয়ে চলে! আমি অপমানে ব্যথিত হই, ছটফট করি। আমার মনের গহিনে ফুলের স্তবকের মতো না-বলা কথা জমতে থাকে।

অতিরিক্ত অবহেলা আর অবজ্ঞায় মানুষের মধ্যে নির্বাকতার সৃষ্টি হয়, যা আমার মধ্যে হয়েছে। ধীরে ধীরে আমার কাছে মানুষের উপস্থিতি অসহ্য ঠেকে, কথা বলতে একদম ইচ্ছা করে না। ক্রমে আমার মধ্যে নিস্পৃহ নিরাসক্তির একটা আবরণ গড়ে ওঠে। আমার এসব পরিবর্তন আমার ক্লাস শিক্ষককে বেশ ভাবিয়ে তুললে তিনি কাউন্সিলরকে জানান। এবং স্কুলে আমাকে বিশেষ নজরে নিয়ে কাউন্সেলিং করা হয়।

স্কুলের কাউন্সিলর, মিস পার্কলার, আমার সঙ্গে বেশ কয়েকবার মিটিং করেন। মিস পার্কলারকে অবশ্য আমি খুব পছন্দ করি। স্বল্পভাষী, যে কারো চোখের দিকে তাকিয়ে তার ভেতরের সমস্তটা পড়ে ফেলার আশ্চর্য রকম শক্তি তাঁর মধ্যে রয়েছে। তিনি খুব চমৎকার করে হাসেন। যখন হাসেন শুধু মুখ নয়, সর্বাঙ্গ হেসে ওঠে। আমার মা অবিকল তাঁর মতো করে হাসেন। পার্কলার যখন হাসেন, আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকি। তাঁর মধ্যে মায়ের ছায়া খুঁজি। তিনি আমাকে খুব ভালোবাসেন। তাঁর আন্তরিকতার প্রাবল্যে আমাদের মধ্যে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কটা ধীরে ধীরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কে দাঁড়িয়ে যায়। আমি পুরোটাই তাঁর কাছে খুলে বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। জীবনের বাস্তব টুকরা টুকরা নির্মম সত্যকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়ার কৌশল রপ্ত করতে আমাকে তিনি বিশেষভাবে সাহায্য করেন। আমি স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা ফিরে পাই। জীবন আসলেই আনন্দময়—চরম এই সত্যের সঙ্গে আমি নতুন করে সম্পর্ক গড়ি।

পার্কলারের মাধ্যমে আমার মায়ের সঙ্গে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হয়। মা নিউইয়র্কের একটা হোটেলে হাউসকিপিং করেন। কঠিন কষ্টের কাজ। মা জীবন নিয়ে মহাকষ্টের যুদ্ধে নেমেছেন। আমাকে আরো বছর দুয়েক অপেক্ষা করতে বলেন। আমি মায়ের সান্নিধ্য পেতে, ছোট ভাইটিকে আদর করতে মুখিয়ে থাকি। কত দিন ওদের ছুঁয়ে দেখি না! মাকে ছেড়ে কখনো একা থাকিনি। ওদের কাছে যেতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু বাবাকে রেখে মায়ের কাছে চলে যাওয়ার ভাবনা মাথায় এলে স্বপ্নগুলো বাতাসে উড়ে যাওয়া ছাইয়ের মতো কোথায় যেন মিলিয়ে যায়। বাবাকে ফেলে রেখে চলে যাওয়া কিংবা মায়ের ভালোবাসার আঁচল উপেক্ষা করা—যেকোনো একটা বেছে নেওয়া আমার জন্য বড় কঠিন হয়ে পড়ে। আমি নিজের সঙ্গে অবিরত যুদ্ধ করি। সুতার টানাবিহীন ঘুড়ির মতো দিকশূন্য দিশাহারা হয়ে পড়ি।

এরপর অনেকগুলো বছর কেটে যায়। আমার কষ্টের পরিধিও বেড়ে যায় বহুগুণে। আমার মনের বেলাভূমিতে সমুদ্রতরঙ্গের মতো অবিরত আছড়ে পড়ে বিশুদ্ধ একাকিত্ব।

মা কয়েক বছর হয় নতুন করে ঘর বেঁধেছেন। আমার সঙ্গে মা-ভাইয়ের বার কয়েক দেখাও হয়েছে। আমার অবশ্য মায়ের কাছে আর ফিরে যাওয়া হয় না। বাবার মতো মায়ের বর্তমান সংসারেও হরেক রকম যোগ-বিয়োগের খেলা জমে উঠেছে। মায়ের বর্তমান স্বামীর আগের ঘরের তিন সন্তান, আমার ছোট ভাই এবং মায়ের নতুন সন্তান নিয়ে তাদের মিশেল সংসার।

বাবার সংসার এখন অবশ্য আর আগের পর্যায়ে নেই। আমার সত্মা কয়েক বছর বাবার কাছে থেকে একসময় বাসা ছেড়ে চলে যান। অবশ্য বাবার সঙ্গে বাবার সে ঘরের দুই সন্তান রয়ে গেছে। বর্তমানে বাবার এক নতুন বান্ধবীকে প্রায়ই বাবার বাড়িতে দেখা যায়। অচিরেই হয়তো বাবা নতুন বান্ধবীকে নিয়ে আবার আরেক সংসার পেতে সুখের খোঁজ করবেন।

আর এই আমি! চূড়া ভেঙে পড়া পাহাড়ের মতো এখনো নিঃসঙ্গ একা দাঁড়িয়ে আছি। অবশ্য আমারও একার একটা চমৎকার সংসার হয়েছে। যেখানে আমি মাঝেমধ্যে ভরা পূর্ণিমার সাদা জোসনাফুল হয়ে সুখসমুদ্রে অবগাহন করি, কখনো আবার সুতীব্র দহনে পুড়ে যাওয়া বাল্যকালের অপূর্ণ ইচ্ছাগুলো নিংড়ে পড়া কষ্টের সঙ্গে রাত জেগে রই!

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com