নিরামিষ, আমিষ, মিষ্টি টকঝাল : ঘরোয়া রান্না থেকে ফিউশন—উৎসব উপলক্ষে বাহারি খাবারে সেজে ওঠে বাড়ির হেঁসেল। ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোতে সমসাময়িক পদের সঙ্গে থাকে ঐতিহ্যবাহী ভোজ। লিখেছেন আতিফ আতাউর


সারা দেশের মণ্ডপগুলোতে থাকে পূজার প্রসাদের আয়োজন। প্রসাদ ছাড়া পূজা যেন ঠিক জমে না। এই ফিচারের মডেল অভিনেত্রী মিষ্টি ঘোষও জানালেন সেই কথা। ছোটবেলায় মণ্ডপে পূজা সেরেই দাঁড়িয়ে যেতেন লাইনে। বললেন, ‘পূজা এলেই প্রসাদের কথা মনে পড়ে। দল বেঁধে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতাম, আর প্রসাদ খেতাম। এখন ঢাকা থাকলেও দুর্গাপূজায় বাড়ি চলে যাই। আগের মতোই প্রসাদ নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে যাই।’

ঐতিহ্যের থালি
কাঁসা, পিতল বা স্টিলের তৈরি বড় আকারের থালায় কয়েকটি ছোট বাটিতে খাবার পরিবেশন উপমহাদেশের প্রাচীন এক রীতি। দুর্গাপূজায় খাবারের থালি সাজিয়ে পরিবেশনে ভিন্নতা আনতে পারেন। থালির মধ্যে ভাত বা লুচির সঙ্গে ছোট ছোট বাটিতে মাছ, মাংস, দই, পায়েস, আলুর দম, লাবড়া সাজিয়ে নিন। ভিন্নতা আনতে থালির মধ্যে কলাপাতা বিছিয়ে নিতে পারেন। পূজায় খাবার পরিবেশনে পাক্কা লুক এনে দেবে এমন আয়োজন। এখন মাটির থালিও পাওয়া যায়। এটাও ব্যবহার করতে পারেন। ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের মতো পাঁচতারা হোটেলসহ বিভিন্ন রেস্টুরেন্টেও পাবেন পূজার মুখরোচক নানা খাবার দিয়ে সাজানো থালির আয়োজন। চাইলে পছন্দের পদ দিয়ে কাস্টমাইজড করে নিতে পারবেন থালি।
পূজার জনপ্রিয় খাবার
নাড়ু : পূজার সবচেয়ে আকর্ষণীয় পদ হচ্ছে নাড়ু। দুর্গাপূজার কথা শুনলেই সবার আগে মনে পড়ে নাড়ুর কথা। এ সময় বাড়িতে বাড়িতে নাড়ু তৈরির ধুম পড়ে যায়। নারকেল, গুড়, চিনি, তিল, বাদাম, কিশমিশ ইত্যাদি দিয়ে তৈরি করা হয় বিভিন্ন স্বাদের নাড়ু। অনেকে উপহার হিসেবেও নাড়ু দিয়ে থাকেন এ সময়।
লুচি-আলুর দম : লুচি ও আলুর দম—এই দুটি পদ ছাড়া যেন এ সময় চলেই না। বাড়িতে তো আয়োজন হয়ই, মণ্ডপেও প্যান্ডেলের নিচে ভাজা গরম গরম ফুলকো লুচির সঙ্গে আলুর দম জিভে জল এনে দেয়। নানা স্বাদের চাটনি লুচি-আলুর দমের স্বাদে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা।
নিরামিষ : বিভিন্ন ধরনের সবজি দিয়ে তৈরি করা হয় নিরামিষ। পূজার খাবারের অন্যতম পদ এটি। নিরামিষ বা লাবড়া অত্যন্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ একটি খাবার। একসঙ্গে একাধিক সবজি দিয়ে রান্না করায় এর স্বাদ ও ঘ্রাণ জিভে জল এনে দেয় অনেকের। খিচুড়ি কিংবা লুচির সঙ্গে এটি খেতে দারুণ লাগে।
খিচুড়ি : অষ্টমীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় খাবার হলো খিচুড়ি। বেগুন ভাজি, চাটনি ও আচার যোগে আরো লোভনীয় হয়ে ওঠে খিচুড়ি। ঘরে তো আয়োজন থাকেই। মণ্ডপে মণ্ডপেও খিচুড়ির প্যাকেটের ব্যবস্থা থাকে ভক্তদের জন্য।
মিষ্টি : মিষ্টির পদ ছাড়া পূজার আয়োজন যেন অসম্পূর্ণ থেকে যায়। শেষ পাতে মিষ্টি ছাড়া অনেকেরই এ সময় চলে না। রসগোল্লা, চমচম, লালমোহন, সন্দেশ, ক্ষীর, দইয়ের পাশাপাশি চিনির সন্দেশ, বাতাসা, তালের বড়া ও দুধপুলি পিঠা দুর্গোত্সবকে যেন আরো জমিয়ে তোলে।
মনে রাখুন
উৎসবের খাবারগুলো সাধারণত বছরের অন্য দিনগুলোর তুলনায় একটু বেশি মুখরোচক ও বেশি ক্যালরিযুক্ত হয়ে থাকে। পূজার প্রতি বেলায় একসঙ্গে একাধিক পদের আয়োজন থাকে। পরিবারে শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ থাকেন। বিভিন্ন বয়সের এবং নানা রোগে আক্রান্ত অতিথিরও আগমন ঘটে বাড়িতে। সব মিলিয়ে পূজার খাবারে একটু সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। এতে বিশেষ দিনটিও সুস্থ ও সুন্দরভাবে উদযাপন করা যায়। পূজায় লুচি, আলুর দম, নাড়ু, মিষ্টি, সরষে ইলিশসহ অনেক পদের আয়োজন থাকে। পুষ্টিবিদ আখতারুন নাহার আলো জানালেন, ‘লুচি ডুবো তেলে ভাজা হয়। আলুর দম শর্করাজাতীয় খাবার। কম বয়সীদের এমন খাবারে তেমন সমস্যা না থাকলেও যাদের ওজন বেশি, তাদের এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কিডনি রোগী ও যাদের ইউরিক এসিড বেশি, তাদের খিচুড়ি ও লাবড়া পরিমিত খাওয়া উচিত।’
পূজার অন্যতম খাবার নাড়ু। বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্নও পূজার অন্যতম আকর্ষণ। ছোট-বড় সবার মিলেমিশে এসব খাবার খেতে নিষেধ নেই। তবে যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের সতর্কতা মেনে চলতে হবে। অনেক বেশি মিষ্টি এ সময় খাওয়া যাবে না। তারা যেকোনো একটি মিষ্টি পদ পরিমিত পরিমাণে বেছে নিতে পারে।