পূজা মানে শুধু নিজেকে বা প্রিয়জনদের সাজিয়ে তোলা নয়। একই সঙ্গে যে বাড়িতে আমরা থাকি, সেই বাড়ির ঘরগুলোকেও নতুনভাবে সাজিয়ে তোলা যায়। লিখেছেন শাকিল রানা
তাজা ফুল
পূজাঘর বা মন্দিরের জন্য শুভ বলে মনে করা হয় ফুল, বিশেষ করে গাঁদা। পূজায় ঘরের সাজেও ব্যবহার করতে পারেন বিভিন্ন ধরনের তাজা ফুল। ঘরের দরজা, জানালা ও দেয়ালে ঝুলিয়ে দিতে পারেন গাঁদা ফুলের মালা। রজনীগন্ধাও রাখতে পারেন।বসার ঘর, ডাইনিং টেবিলের ফুলদানিতে পদ্ম, রজনীগন্ধা, অর্কিড, ডালিয়া ও গোলাপ রাখতে পারেন। কাঁসা কিংবা মাটির পাত্রে পানি ভরে শিউলি, গোলাপের পাপড়ি ভাসিয়ে দিতে পারেন। ঘরের মেঝেতে ফুলের পাপড়ি বিছিয়ে তৈরি করতে পারেন ফুলেল গালিচা।

আলোকসজ্জা
যুগ যুগ ধরে মঙ্গলপ্রদীপ ব্যবহূত হয়ে আসছে পূজার আলোকসজ্জায়।
ঘর আলোকিত করার পাশাপাশি মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করে প্রদীপ। ছোট ছোট প্রদীপ রাখতে পারেন সিঁড়ির কোণ, সদর দরজা, জানালার কার্নিশ, ডাইনিং টেবিল বা সেন্টার টেবিলে। কৃত্রিম বাতিতেও ঘর আলোকিত করতে পারেন। রংবেরঙের মরিচবাতি ব্যবহার ঘরে মণ্ডপের মতোই উত্সবের আবহ তৈরি করবে।
দরজার বাইরে ঝুলিয়ে দিতে পারেন লণ্ঠন। বড় ঘরের সিলিংয়ে ঝাড়বাতি রাখলে সুন্দর দেখাবে। কাঠের বা স্টিলের স্ট্যান্ডে রাখতে পারেন সুগন্ধি মোমবাতি।
উৎসবের রং
দুর্গাপূজার চিরায়ত লাল-সাদা থিমে সাজাতে পারেন ঘর। বিছানার চাদর, বালিশের কাভারে ব্যবহার করতে পারেন লাল-সাদা থিমের নকশা।
সোফায় রাখতে পারেন দেশীয় নকশার কুশন। ঘরে আলপনার আবহ ফুটিয়ে তুলতে রঙিন শতরঞ্জি বিছিয়ে দিন। ঘরে যদি একটি লাল সোফা বা ডিভান থাকে, সেটিতে সাদা বা অফহোয়াইট কুশন ব্যবহার করতে পারেন। লাল-সাদা একটি টেবিল ক্লথে টেবিলটিকে দেখাবে চমত্কার। দরজা-জানালায় সাদা পর্দা ঘরকে দেবে শরতের আবহ। লাল-সাদা কাগজের ঝালর দিয়েও সাজাতে পারেন ঘর। শুধু পর্দা বদল করেই ঘরের লুক অর্ধেক বদলে দেওয়া যায়। তাই পূজার আগে পুরনো পর্দা বদলে নিতে পারেন।
পূজার থিম
বসার ঘর, শোবার ঘরের দেয়ালে বিভিন্ন দেব-দেবীর ছবি টাঙিয়ে দিতে পারেন। কাঁথাফোঁড় সেলাই, টেরাকোটা, জ্যামিতিক নকশা বিভিন্ন রকমের পূজার থিমের দেয়াল চিত্র পাওয়া যায় বাজারে। দেয়াল, টি-টেবিল ও ডাইনিং টেবিলে পূজার মূর্তি রাখতে পারেন। দামও নাগালের মধ্যেই। ১০০ টাকা থেকে শুরু। এগুলো ঘরে সহজেই পূজার পরিবেশ তৈরি করবে।
পূজার ঘর
বাড়িতে পূজার ঘর রাখেন অনেকেই। যাঁদের নেই, তাঁরা বাসার এক কোণে বা সুবিধাজনক জায়গায় অস্থায়ী পূজাঘর বানিয়ে নিতে পারেন। ফ্ল্যাট বা স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টে প্রাচীর-মাউন্ট করা পূজার মন্দির বেছে নিতে পারেন। পূজাঘরে রাখার মন্দির বাজারেই কিনতে পাওয়া যায়। স্থান বাঁচাতে দেয়ালে মাউন্ট করা মন্দির বানিয়ে নিতে পারেন। পূজাঘর বা মন্দিরে খুব বেশি মূর্তি, ছবি বা পূজাসামগ্রী; যেমন—শঙ্খ, পূজার থালি বা আরতির প্রয়োজনীয় জিনিস রাখবেন না।