পরিষ্কার পানি বা ছোট পাথরের সঙ্গে পানিতে রাখা যায়। চাইলে মাটিতেও লাগানো যায়।
পাত্র : কাচের পাত্র বা ভেস ব্যবহার করা ভালো।
কোথায় রাখবেন : ঘরের ভেতর পরোক্ষ আলোতে, বিশেষ করে টেবিল বা জানালার পাশে।
গাছ কে না পছন্দ করে! বসার ঘর, শোবার ঘর, পড়ার টেবিল, এমনকি রান্নাঘর কিংবা ওয়াশরুমেও গাছ রাখেন অনেকে। গাছ মনে প্রশান্তি জোগায়, গৃহে সৌন্দর্য বাড়ায়। অক্সিজেন তো দেয়ই। ইনডোর প্ল্যান্টের যত্নও বেশি করতে হয় না। বিভিন্ন ইনডোর প্ল্যান্ট নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন গার্ডেনার চন্দ্রিমা তন্দ্রা মুন্সী। লিখেছেন মুহাম্মদ শফিকুর রহমান
পরিষ্কার পানি বা ছোট পাথরের সঙ্গে পানিতে রাখা যায়। চাইলে মাটিতেও লাগানো যায়।
পাত্র : কাচের পাত্র বা ভেস ব্যবহার করা ভালো।
কোথায় রাখবেন : ঘরের ভেতর পরোক্ষ আলোতে, বিশেষ করে টেবিল বা জানালার পাশে।

মানিপ্ল্যান্ট
মাটি, বালি ও জৈব সার মিশিয়ে নিন। পানিতেও ভালো জন্মায়। পানিতে লাগালে সপ্তাহে একবার পানি পরিবর্তন করতে হবে।
পাত্র : ছোট বা মাঝারি সাইজের টব, পানির বোতল বা কাচের বোতল, এমনকি একুরিয়ামের মাছের জারও ব্যবহার করা যায়।
কোথায় রাখবেন : ইনডোরে জানালার পাশে বা পরোক্ষ আলোতে ভালো হয়। সরাসরি রোদে রাখা ঠিক নয়। লাইনের উজ্জ্বল আলোতে রাখলে ভালো হয়। সে কারণে অফিসে পানির বোতলে এই গাছ অনায়াসে রাখা যায়।
দাম : ৪০ থেকে ১৫০ টাকা।
যত্ন : সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন পানি দিতে হবে, তবে পানি জমে থাকা ঠিক নয়। নিয়মিত সার দিলে পাতা সতেজ থাকবে। পাতায় ধুলো জমলে পানি স্প্রে করতে হবে।

জেড প্ল্যান্ট
দো-আঁশ মাটি, বালি ও জৈব সার মিশিয়ে নিতে হবে। ড্রেনেজ ভালো থাকতে হবে।
পাত্র : মাঝারি আকারের টব (ড্রেনেজ হোলসহ)। টবের নিচে খলাম কুচি দিলে অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যাবে। পানি জমবে না।
কোথায় রাখবেন : উজ্জ্বল পরোক্ষ আলোতে ভালো হয়। ইনডোর ও আউটডোর দুই জায়গাতেই রাখা যায়।
দাম : ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা (টবের আকারে ভিন্ন হতে পারে)।
যত্ন: সপ্তাহে একবার পানি দিলেই হয়। বেশি পানি দিলে গাছ নষ্ট হয়। মাঝে মাঝে তরল সার দিলে ভালো হয়। তরল সার অনলাইনে বা সার-কীটনাশকের দোকানে পাওয়া যায়।

মনস্টেরা
বাগানের মাটি, নারকেলের ছোবড়া, পার্লাইট ও জৈব সার মিশিয়ে হালকা মাটি ব্যবহার করা ভালো।
পাত্র : বড় সাইজের টব। সাথে স্টিক বা মস্ স্টিক ব্যবহার করলে গাছ উপরে উঠতে সুবিধা হয়।
কোথায় রাখবেন: ইনডোরে উজ্জ্বল আলো বা পরোক্ষ সূর্যের আলোতে রাখতে হবে।
দাম: ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা (সাইজ ও ভ্যারাইটির উপর নির্ভর করে)।
যত্ন : সপ্তাহে ২ বার পানি দিতে হবে। শীতে কম পানি। পাতায় ধুলো জমলে ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে।
ইনডোর প্ল্যান্টের ভুল যত্ন
অতিরিক্ত পানি দেওয়া : এতে মাটি ভিজে থেকে শিকড় পচে যায়। মাটির উপরের অংশ শুকালে তবেই পানি দিতে হবে।
সরাসরি রোদে রাখা : অনেকে মনে করে বেশি রোদ মানেই ভালো। কিন্তু বেশিরভাগ ইনডোর প্ল্যান্টে পরোক্ষ আলো লাগে। সরাসরি রোদে পাতা পুড়ে যায়। ঘরের এলইডি লাইটের আলোতেই এরা সহজে বেঁচে থাকে।
ভুল টব ব্যবহার করা : অনেকে ড্রেনেজ হোল ছাড়া টব ব্যবহার করে। এতে পানি বের হতে পারে না এবং গাছ নষ্ট হয়। এজন্য দুটি কাজ করা যেতে পারে—মিডিয়ায় কোকোপিট ও ছিদ্রযুক্ত টব ব্যবহার করা। ছিদ্রের ওপর ছালা, খলাম কুচি বা বালু দিন।
সার না দেওয়া : দীর্ঘদিন সার না দিলে গাছ দুর্বল হয়ে যায়, পাতা হলুদ হয়ে যায়। মাসে একবার তরল বা জৈব সার দিন। একুরিয়ামের মধ্যে যে গাছ থাকে, তাকে যে তরল সার দেওয়া হয়, তা ঘরের গাছেও দেওয়া যায়।
অতিরিক্ত সার ব্যবহার : অতি যত্নে ইনডোর প্লান্ট বেশি মারা যায়। অতিরিক্ত সার দেওয়া যাবে না। এতে গাছের শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণে, মাসে একবার সার দিলেই যথেষ্ট।
পাতা পরিষ্কার না করা : ইনডোরে ধুলা জমে যায়, এতে পাতায় ফটোসিনথেসিস কমে যায়। এজন্য নরম ভেজা কাপড় দিয়ে পাতাগুলো মুছে দিন।
ভুল জায়গায় রাখা : অনেকে ফ্যান বা এসির একেবারে নিচে গাছ রাখে। এতে গাছ শুকিয়ে যায়। এমন জায়গায় রাখুন যেখানে হাওয়া চলাচল করে কিন্তু সরাসরি এসি/ফ্যান লাগে না।