সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০২:২২ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

ভার্জিন মাহবুব আলী

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে
যখন হালকা আলাপের ভাঁজে গভীর ফিসফিস জিজ্ঞাসা নেমে এলো, চারদিক বুঝি স্তব্ধ; এমন প্রশ্নও করে মানুষ? আবু সালেক সামনে সরাসরি তাকালেন বটে, রাশভারি চেহারা; জিজ্ঞাসার জবাব নেই। কী বলবেন তিনি? গোলাম রহমানের মধ্যে কোনো ভাবান্তর নেই। তিনি মিষ্টির বাটিতে শিঙাড়া ভেঙে রসে ভিজিয়ে নিচ্ছেন। দিলশাদ সুইটমিটের পরিবেশ থমথমে হয়ে গেল।

সবাই যেন টেবিল নম্বর তেরোর দিকে তাকিয়ে আছে। এসব হলো মনের ভুল। আবু সালেক বোঝেন। তাঁর মনের গহিনে আশা-প্রত্যাশা ভালোই ছিল, এবার খাদে পড়ে গেল যেন; তিনি ভুল শোনেননি তো? কী জবাব দেবেন? গোলাম রহমান জিজ্ঞাসার পেছনে লেজের মতো কিছু যোগ করলেন এবার।
‘অনেকে তো নিজেকে ভালো রাখতে পারে। নিজেকে কলুষিত হতে দিতে চায় না।

তাইতো জিজ্ঞাসা করলাম।’‘ভাই, আমার মেয়ের কোনো বয়ফ্রেন্ড নেই। সে অত্যন্ত সংযমী। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে। স্কুল বলেন কি কলেজ, কোথাও আড্ডাবাজি নেই।

‘দ্বিতীয়ত?’

‘আমি মেয়েকে গার্ড দিয়ে মানুষ করেছি। তার পরও বলতে পারি না, মেয়ে ভার্জিন কি না? কেউ কি অন্যের এই বিষয় বলতে পারে?’

‘আপনি মনে কিছু করবেন না বেয়াই। মানুষ তো একবারই বিয়ে করে। তাই সবকিছু দেখেশুনে নিতে হয়।’

আবু সালেক ডান দিকের টেবিলে তির্যকভাবে তাকালেন। দুজন থেকে থেকে কথা বলছে। আজকাল এই ট্রেন্ড চলমান। এখন দিন পাল্টেছে। ম্যাচমেকার মারফত যোগাযোগের বিয়ে পদ্ধতিতে পাত্র-পাত্রী মুখোমুখি কথা বলে। অভিভাবক পর্যায়ে পছন্দের বিষয় আছে। এর পরই ছেলে-মেয়ে। তারা এক টেবিলে বসে বা নিরিবিলি একটু কথা বলে। নিজেদের জানাশোনা। আগামীর পরিকল্পনা। সেখানে মতের মিল হলে অবশিষ্ট কাজ। গোলাম রহমান সম্ভবত বাতিকগ্রস্ত মানুষ। তাই এই প্রশ্ন করেছেন। এমন গর্হিত জিজ্ঞাসায় অপমানও লেপটে থাকে। আবু সালেক মেয়ের বাবা। তাঁকে অনেক কিছু সহ্য করে নিতে হয়। তার পরও মনে মনে ম্যানেজ করে নিতে পারছেন না।

গোলাম রহমান ছেলের বাবা। ছেলে সরকারি ছোট চাকরি করে। এসেছে ম্যাচমেকার জবেদ আলি। তার অ্যাসিস্ট্যান্ট হানিফ শেখ। পাত্রের বড় ভাই। ওই পক্ষের পাঁচজন। আবু সালেক সঙ্গে মেয়েকে এনেছেন মাত্র। মেয়ের বিয়ের জন্য এই দেখা সেই দেখা আয়োজনে অনেক খরচ হয়ে চলেছে। এবার লাগাম টেনে ধরেছেন। ওই পক্ষ আয়োজনের সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল সাড়ে বারোটার পর। আবু সালেক সময় বদলেছেন। তিনি সাড়ে এগারো ঠিক করেছেন। যা খরচ সেটি যেন হাজারের নিচে হয়। গোলাম রহমানের প্রশ্নে বুঝে নিলেন, এখানেও টাকা গচ্চা গেল; মানুষজনের চক্ষুলজ্জা নেই। কেউ এমন প্রশ্ন করে? তা-ও বাবার কাছে! তাঁর মেয়ে ভার্জিন কি না?

আবু সালেকের মনে পুরনো স্মৃতি ভেসে উঠল। ইউনিভার্সিটিতে পড়েন। ড. সামসুল হক পলিটিক্যাল প্রবলেম ক্লাস নেন। পৃথিবীতে কিছু মানুষ থাকে, যাদের চেহারায় আর উপস্থিতিতে এমন কিছু থাকে, যে কারো মনে শ্রদ্ধা আর ভক্তি চলে আসে। সেই স্যার তেমন একজন  ব্যক্তি। অসাধারণ ব্যক্তিত্ব। ক্লাসে পাতলা অ্যাটাশে নিয়ে প্রবেশ করেন। রোল কল হয়। তারপর ইংরেজি স্ক্রিপ্ট বের করে পড়ান। বঙ্গানুবাদ, তুলনামূলক বিশ্লেষণ, বর্তমান প্রেক্ষাপট ইত্যাদি। সবাই গভীর আলোচনায় মুগ্ধ হয়ে থাকতে বাধ্য হয়। সেদিন ক্লাসে চেয়ারে বসে গম্ভীর হয়ে গেলেন স্যার। রোল কল হলো। তিনি অ্যাটাশে ওপেন করলেন না। তাঁর হাতে একটি চিরকুট। রোল কলে বাদ পড়া কারো উপস্থিতির নোট হতে পারে। আসলে তেমন নয়। স্যার ক্ষণেক থেমে শুরু করেন।

`Let me tell you something before I am going through the lecture. I got a piece of write-up, this small paper, I don’t know who among us is very brilliant and interested guy is dare to write this. However, would you like to hear what he wrote? I am sure all of you are eager to know, but it is very embrassing like offence.’

ক্লাসের মধ্যে নেমে এসেছে পিনপতন নীরবতা। কোনো দিন স্যার এমন আচরণ করেননি। আবু সালেক স্যারের দিকে তাকিয়ে থাকেন। শেষে যে প্রসঙ্গের অবতারণা হলো, তাঁর দৃষ্টি আর ওপরে উঠে দাঁড়াতে পারল না; সবকিছু কেমন খাপছাড়া লাগতে শুরু করল। চিরকুটে লেখা ছিল, ‘স্যার, ইউ আর আ বাস্টার্ড।’ ড. সামসুল হক মূল লেকচারের আগে দুই মিনিট কথা বললেন।

‘আমরা কেউ কি নিজেরা জানি আমি বাস্টার্ড কি না? কেউ জানি না। এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারেন মা, যিনি আমাদের গর্ভে ধারণ করেছেন, লালন-পালন করেছেন। সেই মায়ের চরিত্র নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। এমন নীচু মনের চিন্তা ও গর্হিত কাজ করে যে ব্যক্তি, সে কি জানে এটা অপরাধ? আমার মনে হয়, শুধু তা-ই নয়, সে মানসিকভাবে বিকৃত। আমরা জানি মাতা মেরির কথা, যাঁকে আমরা মরিয়ম বলে চিনি; তিনি কুমারী মাতা। আমাদের মধ্যে এমন নীচ চিন্তা পলিটিক্যাল প্রবলেমের চেয়েও ভয়ংকর সমস্যা।’

আবু সালেকের মন সারা দিন খারাপ হয়ে থাকল। পিতার মতো একজন শিক্ষাগুরু, যাকে দেখলে অচেনা ভক্তি এসে যায়; এমন অপমান কোন ছাত্র করল? মানুষ এত খারাপ!

আজ দিলশাদ সুইটমিটে বসে থাকতে থাকতে অচেনা ক্লেশ এসে মাথা নিচু করে দিল আবু সালেকের। আজকাল এমন প্রশ্নও করা হয়? মেয়ে ভার্জিন কি না? আয়োজনের সব পর্ব শেষ হলে বিল দিলেন। যা অর্ডার করা হয়েছিল, মনে মনে হিসাব রেখেছিলেন; ছয় শ তিরিশ। ক্যাশে পেমেন্ট দিতে গিয়ে শোনেন আট শ প্লাস। ছেলেপক্ষ, এমনকি ম্যাচমেকার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাকুয়া ফ্রেশ বোতল পানি নিয়েছে। আবু সালেক পানির দামও দিলেন। তাঁর মন পানির মতো শীতল না হয়ে আগুনে জমে গেল। বাসায় ফিরে একটাও কথা বললেন না। তাঁর চেহারা বোধ করি একটু রাশভারি ছিল, জীবনের তিরিশ বছরের সঙ্গী কাছে এসে মুখে জিজ্ঞাসা এনেও সাহস করতে পারলেন না। আবু সালেক একবার ডাক দিতে চাইলেন।

‘কাঈলি, এখানে কিছু হবে না। ন্যারো মাইন্ডেড মানুষজন। মেয়ে ওই বাড়িতে গেলে মানসিক নির্যাতনে পাগল হয়ে যাবে।’

তিনি কিছু বললেন না। পৃথিবীতে সবকিছু মনমতো হবে এমন কথা নেই। মানুষের একাডেমিক শিক্ষা যা-ই হোক না কেন, পারিবারিক পরিমণ্ডল-নৈতিকতা-রুচি-মনন-চরিত্র উন্নত করার বিষয় আছে; এর সবগুলোই ব্যক্তি ও পরিবার বিচারে পৃথক। সমাজের পারিপার্শ্বিকতা বড় ফ্যাক্টর। কে জানে জীবনের অভিজ্ঞতা কাউকে কাউকে রূঢ় ও নগ্ন করে দেয়। আজকাল এমনই তো হচ্ছে। আগে কি হতো না? আবু সালেকের চোখে অন্ধকার নেমে এলো। তিনি নিজে কি একজন অনাঘ্রাতা কুমারী মেয়ে প্রত্যাশা করেননি? স্বপ্ন দেখেননি? সব পুরুষই করে। তাঁর সেই আকাঙ্ক্ষা কোথায় ভেসে গেল। কয়েক বছর কিছু জানতে পারেননি। তখন সন্তানের পিতা হয়েছেন। আকাশপরির মতো কন্যাকে দেখার জন্য অফিস থেকে সকাল সকাল ঘরে ফেরেন। তাকে কোলে নিয়ে আনন্দে ভাসেন। কাঈলিকে শত জনমের সাথি ভেবে মনে গেঁথে রেখেছেন। এমনই প্রেমময় দিনের এক রাতে মন ভেঙে খানখান হয়ে গেল। কাঈলি তখন বাহুডোরে বাঁধা। তিনি ফিসফিস করে যে কথা জানালেন, রুমের মধ্যে বুঝি বজ্রপাত নেমে এলো।

‘এখন এসব কথা কেন বলছ তুমি?’

‘আমি কিছু বুঝতাম না জানো। প্রাইভেট টিচার এক দুপুরে জোর করেছিল।’

‘তুমি ভালোবাসতে? প্রেম ছিল তোমাদের?’

‘আমার তখন কত বয়স বলো? কিছু বুঝি না।’

‘এসব কথা এখন বলছ কেন, কাঈলি? বিবেক? অপরাধবোধ?’

‘জানি না।’

আবু সালেক বেড থেকে উঠে বসেছেন। তাঁর কোথায় যে আঘাত লাগল বোধ নেই। তিন সাড়ে তিন বছর পেরিয়ে গেছে। কত আনন্দময় ছিল দিনকাল! কি গভীরভাবেই না ভালোবেসে গেছেন! কাঈলি রুমের ম্লান আলোয় উদ্ভাসিত করে রাখলেন অন্ধকার অতীত। একজন টিউটর প্রায় প্রতিদিন তার ছাত্রীকে বেডে ফেলে দেয়। ছাত্রী কি সত্যি কিছু বোঝে না? সে অভিভাবককে জানায় না। তার মাকেও বলেনি। লজ্জায়, নাকি অন্য কিছু? তারপর একদিন কনসিভের প্রাথমিক চিহ্ন প্রকাশ পেয়ে গেলে ঘটনা গোপন থাকে না। সেই কদর্য কাহিনির শেষটুকু কৌশলে কবর দেওয়া  হয়। সেটি কলঙ্কময় অতীত। কোনো কোনো অতীত শুধু বেদনা খুঁড়ে আনে। কবর খুঁড়ে মৃতদেহ তুলে চারদিক বিদঘুটে করে দেয়। তীব্র গন্ধে বিষাক্ত হয়ে যায় সবকিছু। আবু সালেক কয়েক বছর কষ্ট লালন করলেন। নিজেকে এত পরিশুদ্ধ রাখার এই তাহলে পুুরস্কার! তাঁর মনের সব রঙিন স্বপ্ন রাত এলে দুঃস্বপ্নে ভরে যায়। কাঈলিকে আর স্পর্শ করতে পারলেন না। তাঁর ক্ষুদ্র মন। মানুষ জীবনের জন্য কী ভাবে আর কী হয়। তাঁর ছোট একটি চাকরি পেয়ে যাওয়ার পর বিয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে উঠেছিলেন মা।

‘সালেক, এবার বিয়ে কর বাবা।’

‘একটু গুছিয়ে নিই মা, তারপর।’

‘জবাকে আমার খুব পছন্দ, বাবা। সেও চাকরি করে। তোরা দুজনে একজোটে চাকরি করবি। আমি নাতি-নাতনি সামলাব।’

‘আমি বয়সী আর বেশি শিক্ষিত মেয়ে বিয়ে করব না।’

‘কেন? উচ্চশিক্ষিত মেয়ে তো বেশি ভালো। আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ে সমস্যা হয় না।’

‘কে জানে কোথাও প্রেমট্রেম করেছে কি না?’

‘এসব কী বলিস বাবা? আচ্ছা, কেমন মেয়ে পছন্দ তোর?’

‘অল্পবয়সী, ফরসা আর পানপাতা গোল চেহারা। সে তোমাকে মেয়ের মতো ভালোবাসবে।’

‘পাগল ছেলে তুই। একেবারে বালিকা বধূ চাই।’

কাঈলি অপূর্ব সুন্দরী। মা-বাবার তিন কন্যার একজন। সবে ক্লাস টেন শেষ করেছে। আবু সালেক চোখ ফেরাতে পারলেন না। কাঈলি যেমন অপরূপা, তেমনি নমনীয়। আবু সালেকের অত ভাবনার সময় নেই। এক সন্ধ্যায় তিনি আপন করে নিলেন কাঈলিকে। কাঈলি তাঁর শত জনমের সাথি। এই রূপকথা সেই রাতে ভেঙে গেল। আবু সালেক প্রতারিত। তিনি এখন কী করেন? একদিকে আগামীর দিনকাল, অন্যদিকে প্রিয় সন্তান। তারপর সব ওপরঅলার ইচ্ছা। তিনি যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন। কে জানে এর মধ্যেই ঈশ্বরের বসবাস। তিনি কাঈলিকে ক্ষমা করে দিলেন। কোথাও যেন তবু সূক্ষ্ম দেয়াল দাম্পত্য প্রেমের মধ্যে উঠে গেল এই যা। জীবন চলে যায় নিজের নিয়মে। কখনো কখনো সেই প্রসঙ্গ বুকের মধ্যে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির মতো নড়েচড়ে উঠলেও নিজে জ্বলেন, কারো বুকে আগুন জ্বালান না। এখন মেয়ের বিয়ে দিয়ে সবকিছু থেকে শান্তির প্রত্যাশা।

দিলশাদ সুইটমিট থেকে রাস্তায় নেমে বিদায় পর্ব। ছেলেটি অটোরিকশা ডেকে দিল। আবু সালেক মেয়েকে নিয়ে ভেতরে বসে একবার পেছন ফিরে হাসলেন। তাদের নির্বিকার চেহারার আয়নায় হাসি পিছলে গেল। রিকশা চলতে শুরু করেছে। তাঁর একবার ইচ্ছা হয়, মেয়েকে জিজ্ঞেস করেন, কী আলাপ হলো? তিনি কিছু বললেন না। সেটি কি শোভন হবে? তখনো গোলাম রহমানের আগ্রহ জিজ্ঞাসা শ্রুতিতে বেজে চলেছে।

‘আপনার মেয়ে কারো সাথে প্রেমট্রেম করে বা কোনো অ্যাফেয়ারে আছে বা ছিল এমন নয় তো? সে ভার্জিন?’

‘মেয়ের কোনো অ্যাফেয়ার নেই, ভাই। তেমন হলে আজ দেখাদেখির আয়োজন কেন? সেখানেই বিয়ে দেব।’

‘বেশ বেশ। আমার এমনই সতী মানে আনটাচড বউমা দরকার।’

‘সব ওপরঅলার ইচ্ছা। তাঁর হুকুম হলে হবে।’

‘সে তো বটেই। তার পরও নিজেকে চেষ্টা করতে হয়। কী বলেন?’

‘জি ভাই।’

আবু সালেক পরদিন কাটছাঁট শেষে অগ্রগতি শেয়ার করলেন। কাঈলির দু-একটি জিজ্ঞাসা। ছেলে কি ছবির মতোই দেখতে? বয়স? গায়ের রং? উচ্চতা? ড্রাগ অ্যাডিক্টেড নয় তো? ওদের মানাবে? ইত্যাদি। কাঈলি মেয়ের মা। তাঁর কৌতূহল থাকা অন্যায্য কিছু নয়। আবু সালেক আর কথা বললেন না। তিনি একবার সেই প্রশ্নের প্রসঙ্গ টানতে চাইলেন। তারপর কী ভেবে নিশ্চুপ রয়ে গেলেন। জীবনে এমনভাবে অপমানিত হননি। এ তো শুধু তাঁর অপমান নয়, মেয়েরও; অর্বাচীন মানুষজন কেন বুকের গভীরে জ্বালা ধরিয়ে দেয়? তাদের এড়িয়ে চলা উত্তম। এখানে মেয়ের বিয়ে দেবেন না। কেন? কাঈলিকে সেই কথা বলা যায় না। তাকে তেমনভাবে অপমান করতে পারবেন না।

কারো বুকের পুরনো ক্ষত জাগাতে নেই।

 

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com