সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৩:১৫ অপরাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

সিকান্দার আবু জাফর : কবিমানস ও দেশভাবনা

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২২ বার পড়া হয়েছে

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে সমাজসচেতন, জীবনবোধ ও শিল্প জিজ্ঞাসার প্রশ্নে ঐকান্তিক কবিসত্তার অগ্রপুরুষ সিকান্দার আবু জাফর। নির্দিষ্ট গ-িতে বা ছকে বাঁধা না পড়া এই কবি লিখেছেন অন্যায়ের প্রতিবাদে তিক্ততার গান। বহুধা প্রতিভার অধিকারী সিকান্দার আবু জাফর (১৯১৯-১৯৭৫) একাধারে কবিতা, গল্প, উপন্যাস, নাটক ইত্যাদি রচনা করেছেন।

আদতে তিনি ছিলেন সাংবাদিক। কাজী নজরুল ইসলামের দৈনিক নবযুগ পত্রিকায় সাংবাদিকতার মাধ্যমে তার সাংবাদিক জীবন শুরু। এরপর ইত্তেফাক, মিল্লাত, সংবাদ ইত্যাদি জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোতে সাংবাদিকতা করেন। তিনি অনুবাদ করেছেন বিদেশী সাহিত্য; সম্পাদনা করেছেন মাসিক সাহিত্য পত্রিকাতেও। ১৯৫৭ সালে তার সম্পাদনায় মাসিক “সমকাল” প্রথম প্রকাশিত হয়। নবীন লেখকদের দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও বাঙালি চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সমকাল পত্রিকাটি যুগোপযোগী ভূমিকা রেখেছে। প্রাকস্বাধীনতা কালের কবিতা নিয়ে তাঁর লেখা কাব্যগুলোতে প্রসন্ন প্রহর (১৯৬৫), তিমিরান্তক (১৯৬৫), বৈরী বৃষ্টিতে (১৯৬৫), কবিতা ১৩৭২ (১৯৬৮), কবিতা ১৩৭৪ (১৯৭১), বৃশ্চিক লগ্ন (১৯৭১) ও বাংলা ছাড়ো (১৯৭১) উল্লেখযোগ্য।

সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্যের প্রায় প্রতিটি শাখায় বিচরণ করেছেন। তবে তিনি মূলত কবি হিসেবেই খ্যাত। ষাটের দশকে বাংলা কাব্যাঙ্গনের একজন অনন্য কবিপুরুষ। সাতচল্লিশের স্বাধীনতার পর একদিকে যেমন কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মুক্তি ঘটেনি তেমনই ক্রমাগত ঔপনিবেশিক শক্তির অশুভ আক্রমণে বাঙালির মানসজীবন ছিল বিপথগ্রস্ত। পাল্টে যাওয়া রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনৈতিক কাঠামোর বিপর্যস্থতায় মানুষের জীবনবোধ ও মূল্যবোধে ভাঁটা পড়েছিল। এহেন পরিস্থিতির মুখোমুখিতে কবির মধ্যে জাতীয় চেতনার বীজ অঙ্করিত হয়। ক্রমশ তা বেগবান হয়ে তার কবিসত্তার অন্তরাত্মার প্রবেশ করে। তার কবি স্বভাবে সংযুক্তি ঘটে প্রসন্ন প্রহর (১৯৬৫) নামে কালজয়ী কাব্যগ্রন্থের। তার কবিতাগুলোর প্রসঙ্গ টানতে গিয়ে তিনি বলেছেনথথ “যেমন সকলেরই ক্ষেত্রে, জীবনের আশেপাশে অসংখ্য সুলভ দুর্লভ মুহূর্ত নানা রূপে অনাবৃত হয়েছে আমার সামনে। আমি কোনো কোনো সময়ে সেই সব মুহূর্তের স্বাক্ষর লিপিবদ্ধ করেছি সত্যবিচ্যুতি না ঘটিয়ে । সেই আমার কবিতা। মুহূর্তের রৌদ্রে উদ্ভাসিত হয়েছি, মুহূর্তের বৃষ্টিতে সিক্ত হয়েছি, মুহূর্তের অন্ধকারে বিভ্রান্ত হয়েছি, মুহূর্তের আলো ছায়ায় রোমাঞ্চিত হয়েছি এবং সেই আমার কবিতা।”

সিকানদার আবু জাফর এই সমকালীন মুহূর্তের অনুভূতিকে আব্দুল মান্নান সৈয়দ ব্যাখ্যা দিলেন এভাবে যেথথ “সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা প্রধানত দেশ ও সমাজ পটভূমি থেকে জাগ্রত; চতুর্দিকে জীবনরঙ্গ ধরা পড়েছে তার কাব্যে। তার চেতনাবেষ্টনী যেন সমাজ দিয়ে আঁকড়ে রেখেছে সাম্প্রতিকতাকে।”

প্রতিশ্রুতিশীল কবি সিকানদার আবু জাফরের এই কাব্যগ্রন্থের অধিকাংশ কবিতায় সমসাময়িক রাষ্ট্র ও সমাজের অসংলগ্ন ছবি প্রতিফলিত হয়েছেথথ
“এবার বুলেটে মরেনি নিরহ অশক্ত কুক্কুর
এবার রক্ত কাঁদছে না নিষ্ফল
সকল জমাট রক্তের দাগে এসেছে অগ্নিজ্বালা
এবার রক্ত হয়নি মলিন অশ্রুতে টলমল
পলাশী পাপের প্রায়শ্চিত্তে গত শতাব্দী ধরে
এবার চলেছে সেদিনের রাজপথে
রক্তবীজের বংশধরের দুর্জয় অভিযান।” (রক্তাক্ত রাজপথ, প্রসন্ন প্রহর)।
দেশভাবনায় অস্থির, চাপা বিক্ষোভ, সাম্রাজ্যবাদীদের প্রতি ঘৃণা, ক্রোধ ও প্রতিহিংসার তীব্র প্রকাশে তিনি দৃঢ় প্রত্যয়ী। তিনি বলেনথথ “সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ কখনই বৃথা যেতে পারে না”। তাই তার কবিতায় উচ্চারিতথথ “প্রদীপ্ত ইঙ্গিতে তার পার হতো একদা এ রাত্রির আকাশ বরাবর ভুলে যাবো ব্যর্থতার তৃপ্ত ইতিহাস। অকম্পিত আমার এ হাতে রাখো পূর্বাশার প্রভাদীপ্ত হে প্রভাত। নতুন প্রভাত।” ( প্রভাত, প্রসন্ন প্রহর)

শাসকশ্রেণীর শোষণ ও অন্যায়ের প্রতিবাদে প্রতিবাদী কন্ঠে তার উচ্ছ্বসিত আগুন কবিতা থথ
“বর্ণহীন ভবিষ্যের রুক্ষ অভিশাপে
রাত্রির সীমান্ত পারে তাদের সুদিন
সংকুচিত হয়ে আসে কফিনের মাপে
এবার মিটবে যত অন্যায়ের ঋণ।” (এদিনের পাখা, ঐ)
দ্বিতীয় কাব্যে তিমিরান্তক এ পাকিস্তান আমলের প্রথম ছ-সাত বছরের কবিতা। সেখানে তিনি আশায় বুক বেঁধেছেন। কবিতায় তুলে ধরেছেন অত্যাচারীর দিন শেষ। বঞ্চিত আর নিপীড়িতেরা মাথা তুলে দাঁড়াবেথথ “অন্ধকার ফাটলের লক্ষ লক্ষ মুখে
অজ্ঞাত বীজের বুকে প্রভাতের জেগেছে অঙ্কুর,
প্রদীপ্ত মধ্যাহ্নে সূর্য নহে বেশি দূর। (নবাঙ্কুর, তিমিরান্তক)
পাকিস্তানি শাসকদের উদ্দেশ্যে তার বিদ্রূপ ও তীক্ষ্ণ কবিতায় নির্মম বাস্তবতার রূপ উঠে এসেছে। পাকিস্তানি আমলের রাজনৈতিক ও অন্যান্য ঘটনা তুলে ধরেছেন তীর্যক কন্ঠেথথ
“যতই মুখোশ নাও না মহারাজ
ধুলোর দামে বিকিয়ে যাচ্ছে তাজ।
জানলে মহারাজ
সেই একুশের চুলায় যারা
পুড়িয়ে ফেলে ব্যর্থ প্রাণের লাজ
রঙ দিয়েছে রক্তজবা কৃষ্ণচূড়ার ঠোঁটেথথ
আজও তাদের নামের আজান
আকাশ আগল ঠেলে কালবৈশাখীর ঝঞ্ছা হয়ে ওঠে!”সিকান্দার আবু জাফরের কবিতা ১৩৭২ কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৬৮ সালে। পূর্ব পাকিস্তান তখন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত । কবি সংগ্রামের ডাক দেন। সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে চান যত দিন না স্বাধীনতা আসে:

“জনতার সংগ্রাম চলবেই,
আমাদের সংগ্রাম চলবেই।
হতমানে অপমানে নয়, সুখ সম্মানে
বাঁচবার অধিকার কাড়তে
দাস্যের নির্মোক ছাড়তে
অগণিত মানুষের প্রাণপণ যুদ্ধ
চলবেই চলবেই।” (সংগ্রাম চলবেই, কবিতা ১৩৭২)সংসার কবিতায় কবি স্বামী স্ত্রী পুত্র কন্যা পরিবারের মধ্যে সবাই স্বার্থ নামের শব্দে বিলীন।সংসারের অলিতে গলিতে

আমরা ধাবমান শিকারি কুকুর
লোলুপ শকুন
ক্ষুধিত শার্দুল
তুমি জানি আর সন্তানগুলি
একে অপরের নিরন্তর স্বার্থভোজ।

প্রসন্ন প্রহর এর ‘প্রসঙ্গ- কথায়’ তিনি বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন “বড় কবি ভাল কবি তো দূরের কথা নিছক ‘কবি’ হবার সাধনাই আমার তেমন জোরলো নয়। আমি শুধু কখনও কখনও কবিতা লিখি এইমাত্র।”

দেশভাবনা: সিকান্দার আবু জাফর কাল সচেতন কবি। যুগের সংকটে সদা প্রোজ্জল। চল্লিশ দশকে লিখতে শুরু করে দীর্ঘদিন সৃজনশীলতায় অব্যাহত ছিলেন। সময়ের প্রবাহমানতায় কেবল নয় আঙ্গিকের পরিবর্তনেও তিনি সচেষ্ট। বিশ্ব যখন ভাঙ্গা গড়ায় মত্ত, নানা ভাবনার দোলাচলে পৃথিবী অস্থির ঠিক তখনই খুলনা জেলার সাতক্ষীরার তেঁতুলিয়া গ্রামে সিকানদার আবু জাফর (১৯১৯)-এর জন্ম। তাঁর মেজো চাচা সৈয়দ জালালুুদ্দীন হাশেমী ছিলেন তৎকালীন কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা ও মুসলিম বিপ্লবীদের মধ্যমণি। তিনি কলকাতা কর্পোরেশনের ও পরে অবিভক্ত বাংলার লেজিসলেটিভ এ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হন। তাঁর বাসায় থেকেই সিকানদার আবু জাফর বঙ্গবাসী কলেজে বি. এ পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। ফলে তাঁর মধ্যে একটা রাজনৈতিক পরিম-লে গড়ে উঠেছিল। আর এই সময় থেকেই তাঁর লেখক প্রতিভার আত্মপ্রকাশ ঘটে। তৎকালীন সময়ে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের চাক্ষুস অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল। এবং সে আলোকেই গড়ে উঠেছে তার দেশ ভাবনার রূপকাঠি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তরকালে বাংলা কাব্যসাহিত্যে সমকালীন সমাজ, বিক্ষোভ, অন্যায়, অবিচার ও শোষণ এগুলোর স্থান ছিল। এরপর দেখা দিল যুগের সংকট। কবিতায় উঠে এল সমসাময়িক ঘটনা, সাধারণ জীবনের সংগ্রাম আর রাজদ্রোহের ন্যায় প্রতিবাদী কন্ঠের তীব্র ভাষার কবিতা।তিরিশোত্তর বাংলা কবিতার বিভিন্নমুখী প্রবণতা চল্লিশের দশকে সম্প্রসারিত হয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও রবীন্দ্রনাথে মৃত্যুর পর আধুনিক কবিদের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তারই পটভূমিতে আধুনিক কবিতার সংজ্ঞা দিতে গিয়ে আবু সায়ীদ আইয়ূব লিখেছেন, কালের দিক থেকে মহাযুদ্ধ পরবর্তী ও ভাবের দিক থেকে রবীন্দ্র প্রভাব মুক্ত, অন্তত: মুক্তি প্রয়াসী কাব্যকেই আমরা আধুনিক কাব্য বলে গণ্য করেছি। তিরিশ দশকে কবিদের যে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি কাব্যসাধনায় যুক্ত হয়েছিল তা চল্লিশ দশকে কবিদের মধ্যে বেগবান হয়েছে। চল্লিশ দশকের কবিদের মতোই সিকানদার আবু জাফরকেও সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজের দুঃশাসন, দুর্ভিক্ষ, দাঙ্গা, দেশ-বিভাগ প্রবলভাবে আলোড়িত করেছিল। সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সমাজ পটভূমি থেকেই তাঁর কবিতার জন্ম। তিনি চল্লিশ দশক থেকে কবিতা লিখলেও ষাট দশকের মাঝেমাঝে পর্যন্ত তার কোন কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ পায়নি। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের পতন, ভারত পাকিস্তানের আলাদা ভৌগোলিক সীমারেখায় বিভাজন, ভাষা আন্দোলন, মধ্যবিত্ত সমাজের ভিতর বামপন্থী চেতনার উন্মেষ ইত্যাদি বিষয়গুলো তাকে প্রবলভাবে নাড়া দিয়েছিল। উদার মানবতাবাদী ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রশ্নে গভীর দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে উপলব্ধি করে তা কবিতায় প্রস্ফুটিত করেছেন।

সিকান্দার আবু জাফর সম্পর্কে বিশিষ্ট কবিদের ভাবনায় থথ মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, “আত্মগত চেতনা ও সেই সঙ্গে বলিষ্ঠ সংলগ্নতার সুরই নজরুলের সমাজসচেতন ধারার কবি সিকানদার আবু জাফরের স্বতন্ত্র বিশেষত্বের ভিত্তিতে চিহ্নিত করেছে।”
আবু জাফর শামসুদ্দীন বলেন, “তিনি কাল ও সমাজ সচেতন বৃহৎ বক্তব্যসন্ধানী, উচ্চকন্ঠ, রোমান্টিক সাম্যবাদী।” কবি হাসান হাফিজুর রহমান লিখেছেন , “কালের প্রবাহকে ধারণ করে কালোত্তীর্ণ হবার সাধনা করেছেন।”
তাঁর কাব্যে শব্দ, উপমা ও রূপকের বিবিধ ব্যবহার লক্ষণীয়। তার কবিতার নিজস্বতা তাকে শীর্ষে তুলে ধরেছে। উপমা আর রূপকের শব্দাবলি সমাজ থেকে উঠে আসা কথা। আসলে তার কাব্যকথার বিষয় ভাবনা আমজনতার।
রূপকের আবহেথথ
“অধিকার নিতে এসে যারা দিল প্রাণ
তাদের ক্রন্দসী ডাকে আজি পূর্বাশার
নৈশাচারী পেঁচকের অমঙ্গল গান।”
তাঁর কাব্যে উঠে এসেছে প্রভাত, আলো, রাত্রি, পূর্ণিমা, শকুন, স্বপ্ন, কুকুর, রক্তপায়ী বাদুড়, সূর্য প্রভৃতি শব্দ। স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত ছন্দ তার কাব্যিকতার মাত্রা সম্প্রসারিত করেছে। তার কবিতা প্রাগ্রসরতার কথা বলে। কথা বলে সংগ্রামী জীবনের।
উপমার কলেবরে লেখাথথ
“শুধু কি এখানে চিল মিথুনের বাসর জমবে জীবনের স্বাদ
শানিত ছুরির ধারালো শিষের মত
বাজতে থাকবে অশ্লীল ধ্বনি তুলে?” (নিস্তব্ধ, বৈরীবৃষ্টিতে)
নজরুলের সমাজ সচেতন ধারাতেই সিকান্দার আবু জাফর তার কাব্যের মূল সুর খুঁজে পেয়েছেন। তাঁর বৈরী বৃষ্টিতে কাব্যগ্রন্থে প্রথম কবিতার শেষ স্তবকে উচ্চারিত হয়েছেথথ
“ধ্বংসের রাহু পেয়েছে রাজ্যভার,
বিশ্ব মানবতার
দিক দিগন্তে একি ক্ষমাহীন অকুন্ঠ ব্যভিচার?
স্তব্ধ কৌতুহলে
অতীত যুগের পাতা ছিঁড়ে একে একে
ভাসাই তিক্ত বিস্মরণের জলে।”

এমন বিষাদাত্মক স্বগোক্তির অন্তরালে কবির জীবন, সমাজ জীবন, রাষ্ট্র দর্শন, দেশভাবনা স্পষ্টত স্ফুলিঙ্গ।
এই আত্মগত চেতনা আর বলিষ্ঠ সংলগ্ন সুরই নজরুলের সমাজ সচেতন ধারার কবি হিসেবে সিকান্দার আবু জাফর স্বতন্ত্র বিশেষত্বের ভিত্তি স্থাপন করেছে। সিকান্দার আবু জাফরের পঁয়ত্রিশ বছরের কবি জীবন বিভিন্ন ঘটনা দ্বারা পুষ্ট। অধ্যাপক আবদুল হাফিজ যথার্থই বলেছেনথথ”… সিকানদার আবু জাফর মোট তিনটি রাষ্ট্রের অধিবাসী ছিলেন এবং তিনটি রাষ্ট্রেরই সফলতা-ব্যর্থতার ইতিহাস তাঁর জীবনের পাশাপাশি গড়ে উঠেছিল, আন্দোলন আকীর্ণ চল্লিশ, দাঙ্গা-রাঙা- কাল, পাকিস্তানী সাম্প্রদায়িকতা ও শোষণ এবং বাংলাদেশের রক্তলাঞ্চিত অভ্যুদয় ও তার বিষাদিত দিনরাত্রিগুলি কবির অভিজ্ঞতার অংশ ছিল। তাঁর কবিতা এসব এবং আরো অন্যরকম উপলব্ধির ফসল ছিল,…।” শিল্পের প্রধান উপাদান অভিজ্ঞতা। এই অভিজ্ঞতা শিল্পীর মনোলোকে পরিশ্রুত হয়ে জন্ম দেয় সংগীত, সাহিত্য, চিত্রকলা। “সমাজের সঙ্গে কথা বলতে আমার বেশি আনন্দ” সমাজকে কেন্দ্র করে আবর্তিত সিকান্দার আবু জাফরের কাব্যজগৎ। রাজনৈতিক সচেতন, দেশ ও জনগণের প্রতি অকৃত্তিম চিন্তাশক্তি তাকে অনন্য চূড়ায় নিয়ে গেছে।

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com