সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১০:২৩ পূর্বাহ্ন
নোটিশঃ
জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল প্রমিনিউজবিডি ডটকম এর পরিক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে। সকল প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না। তার মানে এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা লেখার অংশবিশেষ কিংবা ছবি বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রচার বা প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।

বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দাও জাপান

ঢাকা অফিস
  • আপডেট: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

সূর্যোদয়ের দেশ জাপান বাংলাদেশের এক পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশের যে কোনো প্রয়োজনে ও উন্নয়নে এই দেশ সব সময়ই বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে আগামী কাল ২৬ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাপানে এটা তার প্রথম সফর। তবে ইতিহাসের এক চমৎকার ধারাবাহিকতায়, এর আগে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দুবার করে জাপানে মৈত্রীর বন্ধন দৃঢ় করতে গিয়েছিলেন। সেই চেরি ব্লসম আর সামুরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী জাপানের বুকে এবারও রচিত হতে যাচ্ছে ঢাকা-টোকিও মৈত্রীর এক নতুন উপাখ্যান। আশা করা হচ্ছে, আসন্ন এই সফর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত উন্নয়নে এক বিরাট দ্বিপাক্ষিক অর্জন এনে দেবে।

মানচিত্রদেখুন

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, যখন জাপান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে একেবারে প্রথমদিকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু এর চেয়েও বড় সত্য হলো, এই মৈত্রীর বীজ বপন করা হয়েছিল যুদ্ধের ঠিক পরপরই দুর্দিনের অবিনাশী বন্ধনে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন ধুঁকছিল, তখন সুদূর টোকিও এবং ওসাকার স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে এবং সাধারণ জাপানি নাগরিকরা তাদের সঞ্চয় থেকে তহবিল সংগ্রহ করে সাহায্য পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য।

এ ঘটনাই শুধু নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যখন মিত্রবাহিনী জাপানের শীর্ষ নেতাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে বিচার করার জন্য ‘টোকিও ট্রায়াল’ গঠন করে, তখন সেই প্যানেলের একমাত্র বাঙালি বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল জাপানের পক্ষে ঐতিহাসিক এক ভিন্নমত পোষণ করেন। তিনি যুক্তি দেন যে, যুদ্ধাপরাধের এই এক পাক্ষিক বিচার আইনিভাবে সঠিক নয়। জাপানিরা সেই ঘটনা সব সময় স্মরণে রাখে।

জাপানি সংসদের প্রভাবশালী সদস্য ও মন্ত্রী তাকাশি হায়াকাওয়া আজ বেঁচে নেই। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। জাপানের রাজনীতিতে তিনি খুবই প্রভাবশালী ছিলেন। সে দেশের সবার কাছে ছিলেন শ্রদ্ধার পাত্র। বাংলাদেশের প্রতি ‘তাকাশি হায়াকাওয়া’ এতটাই অনুরাগী ছিলেন যে, তাকে জাপানে ‘মিস্টার বাংলাদেশ’ নামে ডাকা হতো। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিরুদ্ধে জাপানে তীব্র জনমত গড়ে তোলেন হায়াকাওয়া । ১৯৭০-এর প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড়ের পর এ দেশের জন্য তহবিল সংগ্রহ করেন। হায়াকাওয়া ছিলেন জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন অ্যান্ড সলিডারিটি ফ্রন্টের অন্যতম রূপকার। জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঠিক পরপরই ১৯৭২ সালের মার্চ মাসে সরকারের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে সংসদীয় প্রতিনিধি দল নিয়ে তাকাশি হায়াকাওয়া ঢাকায় আসেন। সোনারগাঁও হোটেলে তার একটি স্মৃতিফলকে লেখা আছেÑ‘বর্তমান যুগে মানব জাতিকে টিকে থাকতে হলে একটি পরিবার হিসেবে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বাংলাদেশের প্রতি আমার ভালোবাসা ও আবেগ হলো এই আদর্শের একটি চ্যালেঞ্জ এবং একই সঙ্গে একটি পরীক্ষা।’

বাংলাদেশকে জাপানের শর্তহীন সহযোগিতা

বিশ্বের অনেক বড় দেশই ঋণ বা সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিংবা ভূরাজনৈতিক শর্ত জুড়ে দেয়। কিন্তু জাপানি সহযোগিতার ধরন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শর্তহীন। তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করে। জাইকার মাধ্যমে জাপান ঋণ দেয়, তাদের সুদের হারও নামমাত্র (সাধারণত ১.৩% বা তার চেয়ে কম)। আর এই ঋণ পরিশোধের জন্য তারা ১০ বছরের রেয়াতকালসহ মোট ৩০ বছর সময় দেয়। ফলে তা বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বড় চাপ বা ‘ঋণের ফাঁদ’ তৈরি করে না।

রাজনৈতিকখবর পড়ুন

বিগত পাঁচ দশক ধরে জাপান বাংলাদেশের ‍উন্নয়ন ও প্রগতির সারথি হিসেবে কাজ করে আসছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জাপান বাংলাদেশকে প্রায় ৩১.৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে। দ্বিপাক্ষিক খাতে জাপানই আজ বাংলাদেশের একক বৃহত্তম এবং সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন সহযোগী। বড় অর্থায়নকারী ও দাতা দেশ। আজকের আধুনিক বাংলাদেশের ‍রূপান্তরের দিকে তাকালে জাপানি প্রযুক্তির স্পর্শ দেখতে পাওয়া যাবে। ঢাকার বুক চিরে চলে যাওয়া যানজটমুক্ত মেট্রোরেল, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল, যমুনা সেতু, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দরÑ দেশের প্রতিটি মেগা প্রকল্পের পেছনে রয়েছে জাপান। ঢাকঢোল না পিটিয়ে নীরবে আমাদের উন্নয়নে ভূমিকা রাখছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ-জাপান ঐতিহাসিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ইতোমধ্যে জাপান ঘোষণা করেছে, তাদের বেসরকারি খাতের প্রায় ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকার) বিনিয়োগ পরিকল্পনা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্তরণকালীন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নমনীয় শর্তে বিশেষ বাজেট সহায়তা এবং ঋণের সুদের হার পুনর্বিন্যাসের বিষয় উত্থাপন করা হতে পারে।

জাপানের দ্রুত বয়োবৃদ্ধ হতে থাকা সমাজের শ্রম ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর অন্তত ১ লাখ কর্মী ও শিক্ষার্থী নেওয়ার প্রস্তাব জাপানি কর্তৃপক্ষের সামনে তুলে ধরা হতে পারে। আইটি, নার্সিং ও প্রযুক্তি খাতে আমাদের তরুণদের জাপানে সম্পৃক্ত করা গেলে দুদেশেরই কল্যাণ আসবে। জাপানের অনন্য নৈতিকতা ও বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার মডেল বাংলাদেশে সফল করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি ‘শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’র কারিগরি অনুদান চাওয়া যেতে পারে, যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গড়ে তুলতে বিশেষ সহযোগিতা করবে।

মানচিত্রদেখুন

বেশি করে হাত বাড়িয়ে দাও, হে বন্ধু!

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে বলা হয় দূষিত বায়ুর নগরী। এই ঢাকায় তিন কোটিরও বেশি মানুষ বাস করে, যা বিশ্বের অন্য কোথাও কল্পনাও করা যায় না। বেইজিং আয়তনে দশটি ঢাকার সমান। সেখানেও এত মানুষ বাস করে না। যানজট ঢাকার নিত্যদিনের চিত্র। একটি রাজধানী শহরের সৌন্দর্যও তেমনটা এখানে নেই। কিন্তু এই ঢাকার আছে এক সমৃদ্ধ ইতিহাস-ঐতিহ্য। স্বাধীন দেশের রাজধানী ঢাকা আজ বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়ার স্বপ্ন দেখে, এই মেগাসিটি বায়ুদূষণ ও যানজটমুক্ত হতে চায়, তিলোত্তমা নগরীর রূপ পেতে চায়, চায় ‍বৃক্ষে সুশোভিত সবুজ নগরী হতেÑএই চাওয়ায় সবার আগে জাপানের নাম মনে পড়ছে। এমন একটি নগরী গড়তে জাপানই পারে বন্ধুত্বের হাত বেশি করে বাড়িয়ে দিতে। উত্তরা থেকে মতিঝিল কিংবা কমলাপুর-ঢাকার আকাশে যে মেট্রোরেল আজ লাখ লাখ মানুষের সময় আর শ্রম বাঁচিয়ে দিচ্ছে, তা জাপানের চিরসবুজ বন্ধুত্বেরই জীবন্ত প্রতীক।

ঢাকায় এখন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে পাতাল রেলের। এমআরটি লাইন-১, দেশের প্রথম পাতাল ও উড়াল রেল চলবে বিমানবন্দর ও পূর্বাচল রুটে। কমলাপুর থেকে শুরু হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত চলবে পাতাল রেল। নতুন বাজার ও যমুনা ফিউচার পার্কের পাতাল স্টেশন দুটি পার হয়ে বসুন্ধরা থেকে এটি উড়াল পথ হিসেবে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত যাবে। এমআরটি লাইন-৫ উড়াল (এলিভেটেড) এবং পাতাল (আন্ডারগ্রাউন্ড) এ দুটির সমন্বয়ে তৈরি হবে। সাভারের হেমায়েতপুর থেকে শুরু হয়ে এটি আমিনবাজার ও গাবতলী হয়ে ঢাকার ভেতরে প্রবেশ করবে। গাবতলী থেকে ট্রেনটি মাটির নিচে প্রবেশ করবে এবং দারুস সালাম, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, মিরপুর ১৪, কচুক্ষেত, বনানী, গুলশান-২ এবং নতুন বাজার হয়ে পুনরায় উড়াল পথে ভাটারা (বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা) গিয়ে শেষ হবে।

এ পরিকল্পনায় জাপান আছে। কিন্তু ঢাকাবাসীর স্বপ্ন তো এখানেই শেষ নয়। আমাদের স্বপ্ন বুড়িগঙ্গার কালো পানিকে আবার টোকিওর সুমিদা নদীর মতো স্বচ্ছ ও প্রাণময় করে তোলা। আমাদের আকাঙ্ক্ষা পুরান ঢাকার সংকীর্ণ ও ব্যস্ত রাস্তায় জাপানি প্রযুক্তির মনোরেল ডানা মেলুক, যা এই ঐতিহ্যবাহী এলাকাকে করবে যানজটমুক্ত ও দৃষ্টিনন্দন। আমরা চাই টোকিওর মতো ঢাকার মোড়ে মোড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার স্মার্ট ট্রাফিক ব্যবস্থা সচল হোক, কংক্রিটের জঙ্গলে গড়ে উঠুক জাপানি ধাঁচের সবুজ পকেট পার্ক। টোকিওতে প্রতিটি মেট্রোরেল ও মনোরেল স্টেশনের নিচে আছে সবুজ বাগান, পরিচ্ছন্ন ফুটপাত এবং পরিকল্পিত বাইসাইকেল লেনের ব্যবস্থা। ঢাকার যে অংশগুলো যেমন পুরান ঢাকা এবং অন্যান্য এলাকার সংকীর্ণ রাস্তাগুলো, সেখানে জাপানের অত্যন্ত জনপ্রিয় স্ট্র্যাডল-টাইপ মনোরেল চলতে পারে। মনোরেল মাত্র একটি সরু কংক্রিট বিমের ওপর ভর করে রাবারের টায়ারের সাহায্যে চলে। জাপানের চিবা বা টোকিও হানেদা মনোরেলের মতো ঢাকার আকাশেও যদি মনোরেল চলাচল শুরু করে তবে তা শহরের সৌন্দর্যও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

জাপানে এখন কসমস ফুলের মৌসুম

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ এবং ১৯৮০ সালে জাপান সফর করেছিলেন। তখন দুদেশের মধ্যে বিমান চলাচল চুক্তি এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা বিষয়ে চুক্তি হয়, যা পরবর্তী সময়ে কয়েক দশকের জাপানি ওডিএ ঋণের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তার মেয়াদে দু’বার জাপান সফর করেন। এই সফরে মেঘনা সেতু, মেঘনা-গোমতী সেতু, যমুনা বহুমুখী সেতু এবং চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের মতো অবকাঠামো প্রকল্পে জাপানি অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। ওই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং জাপানি বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের প্রাথমিক আলোচনা বেগবান হয়।

প্রথম মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯৪ সালের ২৯ মার্চ জাপান সফর করেছিলেন। সেই সফরে যাওয়ার সুযোগ হয়েছিল। সেই স্মৃতি এখনো চোখে ভাসছে। সেই সফরে যমুনা সেতুতে জাপান ২০০ মিলিয়ন ডলার সহযোগিতার জন্য চুক্তি করেছিল। সফরটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দেওয়া সেখানকার নাগরিক সংবর্ধনাই প্রমাণ। ওই সংবর্ধনায় এসেছিলেন জাপানি পার্লামেন্টের তৎকালীন স্পিকার। তিনি খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, ‘জাপানে ‘সাকুরা’ অর্থাৎ চেরি ফুল ফোটে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত চেরি ফুটেনি। আমরা অবাক হয়ে যাই, কেন চেরি ফুটছে না। জাপানে আমরা চেরি ফুলের উৎসব করি। আজ ২৯ মার্চ বুঝতে পেরেছি, এতদিন কেন চেরি ফুটেনি। আজ তুমিও এলে, আর চেরিও ফুটেছে। খালেদা জিয়া, তোমাকে স্বাগত জানাতেই চেরি অপেক্ষা করেছে। চেরি ফুলের ভালোবাসা নাও।’

বর্তমানে জাপানে হালকা শীত ও মনোরম শরৎকালীন আবহাওয়ার সময়। বসন্তের ‘সাকুরা’ বা চেরি ফুল এখন সেখানেই নেই। তবে জাপানজুড়ে এখন শরতের লাল, কমলা ও সোনালি পাতার মৌসুম শুরু হয়েছে। শরৎকালকে জাপানে বলা হয়, ‘কসমস ফুলের ঋতু’। এ সময় দেশটির বিভিন্ন পার্ক ও ফসলের মাঠ গোলাপি, সাদা ও বেগুনি রঙের কসমস ফুলে ভরে যায়। জাপানে কসমসকে বলা হয় ‘আকিজাকুরা’। কেউ কেউ কসমসকে শরতের চেরি ব্লসমও বলে থাকেন। তেমনি বসন্তের মতো জাপানে শরতেরও চমৎকার গোলাপ ফোটে। সেখানে এ সময় গোলাপ উৎসবও হয়। তেমনি জাপানের রাজকীয় প্রতীক চন্দ্রমল্লিকা বা ‘কিকু’ও এ সময় দেশটির শোভা বাড়িয়ে দেয়।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানি ফুলের এই সৌন্দর্য উপভোগ করবেন। পাশাপাশি রাজধানী নগরী টোকিও এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পনগরী নাগোয়া ও চিবা অঞ্চল পরিদর্শনকালে ব্যতিক্রমী কিছু অভিজ্ঞতাও লাভ করতে পারেন আশা করা যায়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক, মধ্যাহ্নভোজ, জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তৃতা ছাড়াও আশা করা হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নাগোয়াতে টয়োটা মোটরস কারখানা, চিবা অঞ্চলে এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিদর্শন করবেন। তেমনি তিনি চাইলে সেখানকার আধুনিক প্রযুক্তি ও বুলেট ট্রেন (শিনকানসেন) দেখতে পারেন। প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার কীভাবে একটি দেশের অর্থনীতি ও জীবনযাত্রাকে বদলে দিতে পারে, এটি তার চমৎকার উদাহরণ।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক (বর্তমানে সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা)।

এলাকার খবর

খুঁজুন

ভালো লাগলে সংবাদটি শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2026 PromiNewsBD.com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com